দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে শতরান করেছিলেন ঋতুরাজ গায়কোয়াড। ঘরোয়া ক্রিকেটেও দারুন ছন্দে রয়েছেন ঋতুরাজ। পাশাপাশি, ভালো খেলছেন সরফরাজ খানও। তবে, ছন্দে থাকা দুই ক্রিকেটারই ‘অজানা’ কোনও কারণে জাতীয় নির্বাচকদের পছন্দের তালিকায় আসতে পারেননি। এই বঞ্চনার জবাব তাঁরা দিয়েছেন বিজয় হাজারে ক্রিকেটে। বৃহস্পতিবার গোয়ার বিরুদ্ধে দুরন্ত শতরান করলেন ঋতুরাজ । আবার, নজির গড়ে দ্রুততম অর্ধশতরান করেছেন সরফরাজও।
এদিন, গোয়ার বিরুদ্ধে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে বিপর্যয়ের সামনে পড়ে মহারাষ্ট্র। একটাসময় ৫২ রানে ৬ উইকেট নষ্ট করে প্রবল চাপে পড়ে যায় তারা। পাঁচ নম্বরে ব্যাট করতে অধিনায়ক ঋতুরাজ দলের হাল ধরেন। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে ২০তম শতরান করলেন তিনি। তাঁর কেরিয়ারে অর্ধশতরানের থেকে শতরানের সংখ্যা বেশি। শেষপর্যন্ত ১৩১ বলে ১৩৪ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। ৮ চার ও ৬ ছক্কা মেরে দলের স্কোরবোর্ডকে উজ্জ্বল করলেন। সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে ৫০০০ রান পূর্ণ করেন তিনি। বিশ্ব ক্রিকেটে সবথেকে দ্রুত এই মাইলফলক স্পর্শ করে নজির গড়লেন ঋতুরাজ । তিনি ৯৫ ইনিংসে এই মাইলফলক অতিক্রম করেছেন। তাঁর আগে এই কৃতিত্ব ছিল পাকিস্তানের বাবর আজমের দখলে। এদিন, অধিনায়ককে যোগ্য সঙ্গত দেন ভিকি ওস্তওয়াল এবং রাজবর্ধন হাঙ্গারগেকার। আট নম্বরে নেমে ৫৩ রান করেন ভিকি। ন’নম্বরে নেমে রাজবর্ধন অপরাজিত থাকেন ৩২ রানে।
অন্যদিকে, বারবার নিজের প্রতিভার প্রমান দিয়েও জাতীয় দলে ‘ব্রাত্য’ থাকছেন সরফরাজ খান। বৃহস্পতিবার বিজয় হাজারেতেও দুরন্ত ছন্দে ব্যাট করেছেন তিনি। পাঞ্জাবের বিরুদ্ধে মাত্র ১৫ বলে অর্ধশতরান করে নজির গড়েছেন ২৮ বছরের তারকা। বিজয় হাজারেতে এটাই সবচেয়ে দ্রুততম অর্ধশতরান। শেষ পর্যন্ত ২০ বলে ৬২ রানে আউট হয়ে যান সরফরাজ। তিনি রান পেলেও পাঞ্জাবের বিরুদ্ধে ১ রানে হেরে যায় মুম্বই। এদিকে বিসিসিআইয়ের কাছে ফিট সার্টিফিকেট পাওয়া মুম্বই অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার করেন ৪৫। প্রথমে ব্যাট করে পাঞ্জাব করে ২১৬। জবাবে ২৬.২ ওভারে ২১৫ রানে মুম্বই দলের সব খেলোয়াড়রা আউট
হয়ে যান।
বিজয় হাজারের অন্য ম্যাচে হার্দিক পাণ্ডিয়া বিধ্বংসী ছন্দে চন্ডীগড়ের বিরুদ্ধে ব্যাট হাতে ঝলসে উঠলেন। হার্দিক ছ’নম্বরে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ৩১ বলে ৭৫ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলে প্রতিপক্ষকে ছারখার করে দিয়েছেন। ভাবতেও অবাক লাগে, মাত্র ১৯ বলে অর্ধশতরান করে সবার নজর কেড়েছেন তিনি। তারমধ্যে ৯ ছক্কা ও দুটি চার ছিল। আবার, পঞ্চম উইকেটে প্রিয়াংশু মোলিয়ার ব্যাটেও যেন আগুন ঝরতে থাকে। প্রিয়াংশু ১০৬ বলে ১১৩ রান করেন। বরোদার ৩৯১ রানের জবাবে চন্ডিগড় ২৪২ রানেই ইনিংস শেষ করেন। হার্দিকের ক্ষেত্রে অবশ্য এই প্রথম ঝলসে ওঠা নয়, এর আগেও তার দুর্দান্ত ব্যাটিং দেখতে পাওয়া গিয়েছে। এমনকি, দলের উইকেটরক্ষক জিতেশ শর্মা ৩৩ বলে ৭৩ রান করেন। হার্দিককে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে একদিনের সিরিজে ভারতীয় দলে রাখা হয়নি। সেই হার্দিকেই নির্বাচকদের সপাটে জবাব দিলেন পাঁচ ইনিংসে চারটি শতরান করে। এই মুহূর্তে ২০২৭ একদিনের বিশ্বকাপে ভারতীয় দলে জায়গা পাওয়ার অন্যতম
দাবিদার তিনি।