জেসুসের সঙ্গে ঝামেলার জেরে পর্তুগাল শিবির ছেড়ে চলে গেলেন রোনাল্ডো, এর পর কি অবসরের ঘোষণা?

Photo: Representational Image

পর্তুগাল ফুটবল শিবিরে আচমকাই বড় ধাক্কা। কোচ জর্জে জেসুসের সঙ্গে ঝামেলার জেরে জাতীয় দলের শিবির ছেড়ে চলে গেলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো (Cristiano Ronaldo)।

ডেনমার্কের বিরুদ্ধে নেশনস লিগের ম্যাচের ঠিক আগে তাঁর এই সিদ্ধান্তে স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠেছে—তবে কি পর্তুগালের জার্সিতে রোনাল্ডোর (Cristiano Ronaldo) শেষ খেলা হয়ে গেল? আপাতত অবসরের কোনও ঘোষণা করেননি ৪১ বছরের তারকা। শুধু জানিয়েছেন তিনি শিবির ছেড়ে চলে যাচ্ছেন।

<blockquote class=”twitter-tweet”><p lang=”pt” dir=”ltr”>Após a conferência de imprensa do Selecionador Nacional, e no seguimento de uma conversa com o Presidente da Federação Portuguesa de Futebol, tomei a decisão de deixar o estágio da Seleção Nacional.<br><br>A seu tempo, direi a verdade a todos os Portugueses sobre as razões que… <a href=”https://t.co/j8Qrws9KTS”>pic.twitter.com/j8Qrws9KTS</a></p>&mdash; Cristiano Ronaldo (@Cristiano) <a href=”https://x.com/Cristiano/status/2105373136581546480?ref_src=twsrc%5Etfw”>September 30, 2026</a></blockquote> <script async src=”https://platform.x.com/widgets.js” charset=”utf-8″></script>


ঘটনার সূত্রপাত নরওয়ের বিরুদ্ধে পর্তুগালের ম্যাচে। ২-১ ব্যবধানে জিতলেও সেই ম্যাচে পুরো সময় বেঞ্চে বসেছিলেন রোনাল্ডো (Cristiano Ronaldo)। দ্বিতীয়ার্ধে তাঁকে ওয়ার্ম-আপ করানো হলেও শেষ পর্যন্ত মাঠে নামাননি জেসুস (Jorge Jesus)। তার পর থেকেই কোচ-তারকার সম্পর্ক নিয়ে নানা জল্পনা শুরু হয়। রোনাল্ডো সোমবার ও মঙ্গলবার দলের সঙ্গে অনুশীলন না করে জিমে ছিলেন।

বুধবার সাংবাদিক বৈঠকে জেসুস (Jorge Jesus) অবশ্য পরিস্থিতিকে বড় করে দেখতে রাজি হননি। তিনি বলেন, ‘রোনাল্ডো অনুশীলন করতে অস্বীকার করেনি। ও আজ অনুশীলন করবে। এটা অসম্ভব যে ক্রিশ্চিয়ানো অনুশীলন করতে চাইবে না।’ তাঁর আরও দাবি, রোনাল্ডোর সঙ্গে এমন কোনও ঘটনা ঘটেনি, যা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হতে পারে।

আরও পড়ুন: তিন ক্যারিবিয়ানের নজির গড়া সেঞ্চুরির পর শচীনকে টপকে ১২ হাজারে রোহিত, সঙ্গে তাণ্ডব গিলেরও

জেসুস (Jorge Jesus) বলেন, ‘আমাকে এমন একটা বিষয় নিয়ে ক্রিসের সঙ্গে কথা বলতে বাধ্য করা হয়েছিল, যার আদৌ অস্তিত্ব ছিল না। কথা বলার মতো কিছুই ছিল না।’ তবে নরওয়ে ম্যাচের পর রোনাল্ডো (Cristiano Ronaldo) যে তাঁর উপর রেগে গিয়েছিলেন, সেটাও স্বীকার করেন পর্তুগাল কোচ। তাঁর কথায়, ‘রোনাল্ডো আমার উপর রেগে গিয়েছিল ঠিকই। কিন্তু আমার কাছে সেটা এখন অতীত।’

এর পরেই নাটকীয় মোড়। জেসুসের (Jorge Jesus) সাংবাদিক বৈঠকের পর এবং পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি পেদ্রো প্রোয়েনসার সঙ্গে কথা বলেন রোনাল্ডো (Cristiano Ronaldo) এবং শিবির ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন । সমাজ মাধ্যমে তিনি লেখেন, ‘জাতীয় দলের কোচের সাংবাদিক বৈঠকের পর এবং পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতির সঙ্গে কথা বলার পরে আমি জাতীয় দলের শিবির ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

এর পরেই আরও রহস্য বাড়িয়েছেন রোনাল্ডো (Cristiano Ronaldo)। তিনি বলেছেন, ‘সময় হলে আমি সমস্ত পর্তুগিজ মানুষকে জাতীয় দল ছাড়ার পিছনের আসল কারণ জানাব। এই দলটার জন্য আমি সব সময় নিজেকে উজাড় করে দিয়েছি।’ সতীর্থদেরও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তিনি—’এখন পর্তুগাল এবং আমার সব সতীর্থকে শুভকামনা জানানোর সময়।’

পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনও রোনাল্ডোর শিবির ছাড়ার খবর নিশ্চিত করেছে। তবে কেন তিনি চলে গেলেন, সেই ব্যাখ্যা দেয়নি ফেডারেশন। জানানো হয়েছে, বাকি ২৪ জন ফুটবলারকে নিয়েই ডেনমার্ক ও পরের ম্যাচের প্রস্তুতি চলবে।

পরে এক পর্তুগীজ টিভি চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রোনাল্ডো (Cristiano Ronaldo) জানান, পর্তুগাল এবং জর্জে জেসুস (Jorge Jesus) যেভাবে তাঁর সঙ্গে আচরণ করেছেন, তাতে তিনি অত্যন্ত হতাশ ও দুঃখিত। দেশের জন্য এত কিছু দেওয়ার পর এমন আচরণে ভেঙে পড়েছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো।

তিনি বলেন, ‘জর্জে জেসুস সাক্ষাৎকারে যা বলেছেন, তাতে আমি খুবই আঘাত পেয়েছি। সত্যি বলতে, তাঁর কাছ থেকে এমন কথা আমি কখনও আশা করিনি। তাঁর কথায় আমার মনে হয়েছে, পর্তুগালের কাছে আমি আর গুরুত্বপূর্ণ নই। আর জাতীয় দলের জন্য আমি যা কিছু করেছি, সেগুলি মনে করলে এই বিষয়টা আমাকে আরও বেশি কষ্ট দেয়।

আর্জেন্টিনা কখনও মেসির সঙ্গে এ ভাবে আচরণ করেনি। আমি শুধু সম্মান, মর্যাদা এবং গর্বের সঙ্গে পর্তুগালে ফিরতে চেয়েছিলাম। কখনও চাইনি আমার ফিরে আসাটা বিশৃঙ্খলা আর বিতর্কে ভরা কোনও পরিস্থিতিতে পরিণত হোক।

আরও পড়ুন: আইএফএ শিল্ডে পাঞ্জাবের বিরুদ্ধে হার ইস্টবেঙ্গলের, সেমিফাইনালে ডার্বি ? জল্পনা তুঙ্গে, আইএফএ নীরব

হয়তো এখন আমার পক্ষে সবচেয়ে ভাল সিদ্ধান্ত হবে সরে দাঁড়ানো এবং অবসর নেওয়া। তা হলে অন্তত যাঁরা আমাকে সমস্যা বলে মনে করছেন, তাঁদের আর সেই সমস্যা নিয়ে ভাবতে হবে না। আমি পর্তুগালের জন্য সব কিছু দিয়েছি। আর আমি মাথা উঁচু করে জাতীয় দল থেকে বিদায় নিতে চেয়েছিলাম।

এমন কিছু খেলোয়াড়ও রয়েছে, যারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত। আমি জানি তাঁরা কারা। নেপথ্যে কী কথা হয়েছে, সেটাও আমি জানি।
কিন্তু এখনই সে বিষয়ে আমি কিছু বলতে চাই না।

সময় এলে আমি সত্যিটা সবাইকে জানাব। এই মুহূর্তে আমি শুধু দুঃখিত। পর্তুগালের জন্য এত কিছু ত্যাগ করার পর জাতীয় দলের হয়ে আমার শেষ অধ্যায়টা এমন হবে, সেটা আমি কখনও ভাবিনি’।

তাই রোনাল্ডোর (Cristiano Ronaldo) অবসর নিয়ে জল্পনা তৈরি হলেও এখনও তিনি আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা করেননি। পর্তুগালের হয়ে তাঁর ২৩৪টি ম্যাচে ১৪৬ গোল—আন্তর্জাতিক পুরুষ ফুটবলে সর্বাধিক। ২০২৬ বিশ্বকাপে ছয়টি বিশ্বকাপে খেলা এবং প্রতিটিতেই গোল করার নজিরও গড়েছেন তিনি।

এখন প্রশ্ন একটাই—জেসুসের সঙ্গে এই ঝগড়া কি সাময়িক, নাকি পর্তুগালের জার্সিতে রোনাল্ডোর (Cristiano Ronaldo)দীর্ঘ অধ্যায়ের শেষের শুরু? উত্তর মিলবে রোনাল্ডো (Cristiano Ronaldo) নিজেই যখন প্রতিশ্রুতি মতো সেই “সত্যি” প্রকাশ করবেন।

দেখুন: সামনেই ভারত-ব্রাজিল মহারণের জন্য নতুন রূপে সেজে উঠেছে যুবভারতী, কোথায় কী বদল?