দু’দশক পরে গ্রামের বাড়িতে মা, শুরু ঋষভ পন্থের পৈতৃক বাড়ি পুনর্নির্মানের কাজ, উৎসব পাহাড়ি গ্রামে

Rishabh Pant Photo-SNS

প্রায় দু’দশক পরে গ্রামের বাড়িতে ফিরেছিলেন মা। পাঁচ দিন ছিলেন সেখানে। আর তার পরেই শুরু হয়ে যায় পুরনো, জরাজীর্ণ বাড়ি নতুন করে তৈরির কাজ। ভারতীয় ক্রিকেটার ঋষভ পন্থের পৈতৃক বাড়িকে ঘিরে এখন উৎসবের আবহ উত্তরাখণ্ডের পিথোরাগড় জেলার পালি-আমদালি গ্রামে। স্থানীয়দের আশা, বাড়ি তৈরি হয়ে গেলে নিয়মিত গ্রামে আসবেন ঋষভ।

পন্থের মা সরোজ পন্থ গত ৪ অগস্ট পালি গ্রামে যান। প্রায় ২০ বছর পর তাঁর এই সফর। পাঁচ দিন সেখানে থেকে পুরনো বাড়িটি নতুন করে তৈরির জন্য ঠিকাদারের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। তার পরেই শুরু হয়েছে এই বাড়ি পুনর্নির্মাণের কাজ। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্বাভাবিক ভাবেই খুশি গ্রামের মানুষ।

ঋষভের কাকা মদন মোহন পন্থ বলেন, ‘ঋষভের মা আমাদের পুরনো বাড়ি নতুন করে তৈরির কাজ শুরু করেছেন। বাড়িটি তৈরি হয়ে গেলে আশা করছি, ঋষভ গ্রামে আরও বেশি সময় কাটাতে আসবে’।


এই বাড়ির সঙ্গে ঋষভের শৈশবের স্মৃতিও জড়িয়ে রয়েছে। প্রায় ৬০ বছর আগে তাঁর ঠাকুরদা কাজের সন্ধানে এই গ্রাম ছেড়ে রুড়কিতে চলে গিয়েছিলেন। প্রায় ২০ বছর আগে ঋষভকে এক বার গ্রামে নিয়ে এসেছিলেন তিনি। তখন ঋষভের বয়স ছিল মাত্র সাত বছর। জীবনের একটা সময় এই পাহাড়ি গ্রামেই কেটেছে তাঁর।

আর এখন নিজের শিকড়ে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন ঋষভ নিজেই। শনিবার উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিংহ ধামিকে সমাজমাধ্যমে আবেদন করে রাজ্যে জমি কেনার ক্ষেত্রে সাহায্য চেয়েছিলেন ভারতীয় ক্রিকেট তারকা। দিল্লি থেকে নিজের বসবাস উত্তরাখণ্ডে সরিয়ে আনতে চান বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রীও তাঁকে উত্তরাখণ্ডের ‘গর্ব’ বলে উল্লেখ করে সরকারি নিয়ম মেনে সব রকম সাহায্যের আশ্বাস দেন। সংশ্লিষ্ট আধিকারিকেরা শীঘ্রই ঋষভের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন বলেও জানিয়েছেন ধামি। ঋষভের বাড়ি তৈরি হওয়ার খবর তাই শুধু একটি পরিবারের কাছে নয়, গোটা গ্রামের কাছেই আবেগের। গ্রামের প্রধান বিনোদ কুমারের আশা, ‘বাড়ি তৈরি হওয়ার পর ঋষভ যদি গ্রামে আসে, তা হলে এখানকার তরুণরা অনুপ্রাণিত হবে। গোটা অঞ্চলই গর্বিত হবে’।

তবে ঋষভের গ্রামে ফেরার আগে স্থানীয়দের আরও একটি দাবি রয়েছে— যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি। তাঁদের বক্তব্য, পালি-আমদালি পর্যন্ত প্রায় ১১ কিলোমিটার রাস্তা পাকা করা দরকার। পন্থের পৈতৃক বাড়ি আবার বর্তমান রাস্তা থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে। তাকেও সড়কপথের সঙ্গে যুক্ত করার দাবি উঠেছে।

ঋষভের আর এক কাকা ললিত পন্থের কথায়, এই বাড়ি পুনর্নির্মাণ আসলে পাহাড়ের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কেরই প্রতিফলন। দিল্লির ক্রিকেট-জীবনের ব্যস্ততার মধ্যেও নিজের শিকড়কে ভুলে যাননি ঋষভ—পৈতৃক বাড়ি তৈরির কাজ শুরু হওয়ায় সেই বার্তাই যেন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠল।

ক্রিকেটের বাইরেও এ বার নিজের পাহাড়ি পরিচয়ের সঙ্গে আরও গভীর ভাবে জড়িয়ে পড়তে চান ঋষভ। আর সেই প্রত্যাবর্তনের প্রথম অধ্যায় লেখা শুরু হল তাঁর পুরনো বাড়ির নতুন ইট-পাথরে।