ভারতীয় শিবির থেকে এল স্বস্তির খবর। অনুশীলনের সময় ডান কনুইয়ে মহম্মদ সিরাজের বল লেগেছিল শুভমান গিলের। শনিবার তিনি নেটে আসেননি। তবে ব্যাটিং কোচ সীতাংশ কোটাক জানিয়েছেন, রবিবারের ম্যাচে খেলতে তাঁর সমস্যা নেই।
তিনি জানান, ‘গিল ভালই আছে। আমার মনে হয়, আগামীকাল ও খেলতে পারবে’। ভারতের প্রথম পছন্দের বেশ কয়েক জন ক্রিকেটার এশিয়ান গেমসে টি-টোয়েন্টি দলের সঙ্গে রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে শ্রেয়স আইয়ার এবং অক্ষর পটেলও আছেন। ফলে এই ওয়ান ডে দলে ভারসাম্য নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
ভারত যদি মনে করে নীতীশ কুমার রেড্ডির কাছ থেকে ১০ ওভার বল করানো সম্ভব, তা হলে ব্যাটিং শক্তি বাড়িয়ে এগারোর দল সাজাতে পারে তারা। সে ক্ষেত্রে মিডল অর্ডারে অভিষেক হতে পারে নমন ধীরের। আবার বোলিংয়ের বিকল্প হাতে রাখতে চাইলে গুরনূর ব্রারকে খেলানো হতে পারে, অথবা অভিষেকের সুযোগ দেওয়া হতে পারে পেসার-অলরাউন্ডার অকিব নবিকে।
ভারতের প্রস্তুতি শুরু এই সিরিজেই
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে রবিবার তিন ম্যাচের ওয়ান ডে সিরিজে ভারতের সামনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। তরুণ ক্রিকেটারদের আরও বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ দেওয়া এবং রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলির প্রস্তুতি ও সক্ষমতা নিয়মিত পর্যালোচনা করা—এই বিষয়গুলিই থাকবে ভারতের অগ্রাধিকারের তালিকায়। ২০২৭ বিশ্বকাপের ছায়াও ক্রমশ আরও বড় হয়ে উঠছে।
বিশ্বকাপের আগে ভারত ১৪ থেকে ২০টি ওয়ান ডে খেলতে পারে (পরিকল্পনা অনুযায়ী বিশ্বকাপের আগে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে সিরিজ হলে)। তাই প্রতিটি ম্যাচকেই কাজে লাগিয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ১৫ জনের দল তৈরি করে দক্ষিণ আফ্রিকায় বিশ্বকাপ খেলতে যেতে চাইবে ভারত।
ভারত এ বছর তিনটি ওয়ান ডে সিরিজ খেলেছে, যার মধ্যে দু’টিতেই হেরেছে। চোট-আঘাত এবং টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাড়তি মনোনিবেশ করায় বিভিন্ন কারণে ভারত তাদের সেরা একাদশকে নিয়মিত মাঠে নামাতে পারেনি।
এই সিরিজেও তারা হার্দিক পাণ্ড্য এবং জসপ্রীত বুমরাহকে পাচ্ছে না। এক জন এমন অলরাউন্ডার, যিনি দলের ভারসাম্য বজায় রাখেন। অন্য জন প্রজন্মের অন্যতম সেরা ফাস্ট বোলার। বিশ্বকাপের আগে তাঁদের প্রস্তুতি নিয়ে যত পরীক্ষাই চলুক না কেন, দু’জনই যদি অন্তত খেলার মতো ফিট থাকেন, তা হলে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে তাঁদের কাউকে ছাড়া ভারত নামবে—এমনটা ভাবাই কঠিন।
এই মুহূর্তে দু’জনের কেউই ওয়ান ডে দলের সঙ্গে নেই। ফলে ভারতের বোলিং বিভাগ কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়েছে। সদ্যই পুরোপুরি ফিট হয়ে ওঠা বিকল্প অলরাউন্ডার নীতীশ কুমার রেড্ডিকে হয়তো ১০ ওভার বল করার দায়িত্ব নিতে হতে পারে। আর প্রতিপক্ষ একেই ভারতের বিরুদ্ধে সুযোগ হিসেবে দেখতে পারে।
<blockquote class=”twitter-tweet”><p lang=”en” dir=”ltr”>When the stars step onto the field, the intensity goes up! 🔥🇮🇳
#RohitSharma, #ViratKohli, #YashasviJaiswal &amp; #KLRahul during fielding practice — focus, energy and pure Team India spirit! 🏏💙
#TeamIndia #IndianCricket #Cricket #BCCI https://t.co/ZxPbQ2XWnV</p>— Aijaaz Bhat (@BhatAijaaz) <a href=”https://x.com/BhatAijaaz/status/2103717381704970304?ref_src=twsrc%5Etfw”>September 26, 2026</a></blockquote>
<script async src=”https://platform.x.com/widgets.js” charset=”utf-8″></script>
রোহিত-গিলই প্রথম পছন্দ
কিন্তু রোহিত শর্মা না যশস্বী জয়সওয়াল—ওপেন করবেন কে? ২০২৭ বিশ্বকাপ যত এগিয়ে আসছে, ভারতের ওপেনিং জুটি নিয়ে আলোচনা ততই বাড়ছে। এর মধ্যেই দলের ব্যাটিং কোচ কোটাক স্পষ্ট করে দিলেন, আপাতত রোহিত শর্মা ও শুভমান গিলই ভারতের প্রথম পছন্দের ওপেনিং জুটি। যশস্বী জয়সওয়ালকে অপেক্ষা করে নিজের জায়গা তৈরি করতে হবে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে আসন্ন তিন ম্যাচের সিরিজে দলে ফিরেছেন বাঁহাতি ওপেনার জয়সওয়াল। রবিবার তিরুঅনন্তপুরমে সিরিজের প্রথম ম্যাচ। ভারতীয় দলের ব্যাটিং কোচ বলেন, ‘দলে জায়গার জন্য যথেষ্ট প্রতিযোগিতা রয়েছে। আমরা সবাই জানি, যশস্বী বিশ্বের অন্যতম সেরা ব্যাটার। যখনই সুযোগ পেয়েছে, ও পারফর্ম করেছে। তাই ও দলের অংশ’।
তবে তাঁর নিয়মিত সুযোগ না পাওয়াকে অন্যায় বলে দেখতে নারাজ ভারতের ব্যাটিং কোচ। কোটাকের কথায়, ‘সাপোর্ট স্টাফ হিসাবে আমরা ওর দক্ষতা, অনুশীলন এবং মানসিকতার দিকে নজর রাখি। গৌতমও ওর সঙ্গে অনেক কথা বলে। কিন্তু ধরুন, আপনার দলে তিন জন খুব ভাল উইকেটকিপার রয়েছে—তখন তো এক জনই খেলতে পারে। তাই যশস্বীর সঙ্গে অন্যায় করা হচ্ছে, এমনটা নয়। ওকে সুযোগের অপেক্ষা করতে হবে’।
রো-কো-র অভিজ্ঞতাই সম্পদ
রোহিত ও বিরাট কোহলি দু’জনেই ইতিমধ্যে জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁরা আগামী বিশ্বকাপে খেলতে চান। বিরাট জানিয়ে দিয়েছেন এটিই তাঁর শেষ বিশ্বকাপ হতে চলেছে। ফলে শুভমান গিলের নেতৃত্বাধীন দলের সঙ্গে তাঁদের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়াকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন কোটাক।
রবিবার ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ওয়ান ডে দিয়ে ২০২৭ বিশ্বকাপের প্রস্তুতি শুরু হবে। আগামী বছর বিশ্বকাপ দক্ষিণ আফ্রিকায়। ফলে শুধু দেশের মাটির পরিস্থিতি মাথায় রেখে প্রস্তুতি নিলে চলবে না। ভিন্ন পরিবেশে কী ভাবে দল খেলবে, তা নিয়েও এখন থেকেই ভাবনাচিন্তা শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন কোটাক।
তাঁর কথায়, ‘বিশ্বকাপ দক্ষিণ আফ্রিকায়, সেখানে কী ধরনের উইকেট পাওয়া যেতে পারে, সেটাও মাথায় রাখছি। ভাগ্য ভাল যে, নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে একটি সিরিজ রয়েছে, যা এশিয়ার বাইরে হবে। সেখানে পরিস্থিতি আলাদা হবে—আর্দ্রতা, ঘাস, সব কিছুই অন্য রকম। যদি এই প্রক্রিয়াটা ঠিক ভাবে করতে পারি, তা হলে এক বছরের মধ্যে যে কোনও চ্যালেঞ্জ, যে কোনও ধরনের উইকেট বা বোলিং আক্রমণের জন্য আমরা প্রস্তুত থাকতে পারব’।
খরা কাটানোর চ্যালেঞ্জ ক্যারিবিয়ানদের
২০০৬-এর পর থেকে ভারতের বিরুদ্ধে কোনও দ্বিপাক্ষিক ওয়ান ডে সিরিজ জিততে পারেনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ভারতের মাটিতে সেই খরা আরও দীর্ঘ— ২০০২-এর পর থেকে। বোলিং আক্রমণে বাঁ-হাতি পেসারের ঘাটতি থাকলেও ওয়েস্ট ইন্ডিজের হাতে যথেষ্ট বৈচিত্র রয়েছে। ম্যাথিউ ফোর্ড এবং জেডেন সিলস সুইং ও সিম করাতে পারেন। মাঝের ওভারগুলিতে বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারেন আলজারি জোসেফ। আর ভিটেল লওয়েস দলে এনে দিতে পারেন সেই ‘এক্স-ফ্যাক্টর’।
ব্যাটিংয়ের দায়িত্ব মূলত শাই হোপের কাঁধে। প্রতিশ্রুতিসম্পন্ন একটি ব্যাটিং লাইন-আপকে নেতৃত্ব দেবেন তিনি। ভবিষ্যতের বড় প্রতিযোগিতার প্রস্তুতির জন্য এই তিন ম্যাচের ওয়ান ডে সিরিজ গুরুত্বপূর্ণ ঠিকই, তবে সিরিজটির নিজস্ব গুরুত্বও যথেষ্ট।
গ্রিনফিল্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামে এখনও পর্যন্ত দু’টি ওয়ান ডে ম্যাচ হয়েছে। ছোট মাঠ। তা সত্ত্বেও ভারতের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মাঠগুলির মধ্যে পেসারদের বোলিং গড় এখানে তৃতীয় সেরা- ২৫.৩৫। ২০১৮-য় এখানে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে স্পিনেই সমস্যায় পড়েছিল তারা। মাত্র ১০৪ রানে অলআউট হয়ে গিয়েছিল ক্যারিবিয়ান দল। সেই ম্যাচে রবীন্দ্র জাডেজা নিয়েছিলেন চার উইকেট। রবিবার তিরুবনন্তপুরমে বৃষ্টির আশঙ্কাও খুব একটা নেই। ফলে আবহাওয়ার কারণে ম্যাচে বড় কোনও বিঘ্ন ঘটার সম্ভাবনা আপাতত কম।
ভারতের সম্ভাব্য একাদশ: রোহিত শর্মা, শুভমান গিল (অধিনায়ক), বিরাট কোহলি, রুতুরাজ গায়কোয়াড়, লোকেশ রাহুল (উইকেটরক্ষক), রবীন্দ্র জাদেজা, নীতীশ কুমার রেড্ডি, গুরনূর ব্রার / অকিব নবি, কুলদীপ যাদব, প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ, মহম্মদ সিরাজ।