কড়া শাস্তির মুখে শতাধিক দুর্নীতির অভিযোগে জর্জরিত ম্যান সিটি! কেড়ে নেওয়া হবে ট্রফি? বন্ধ হয়ে যাবে ফুটবল?

Photo: X

দু’বছরেরও বেশি সময় ধরে চলছিল অপেক্ষা। চার বছরের তদন্তের পরে ২০২৪- এর সেপ্টেম্বরে শুরু হয়েছিল শুনানি। অবশেষে সেই বহুচর্চিত ১১৫টি আর্থিক নিয়ম ভাঙার মামলায় রায় হয়েছে বলে খবর। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, অধিকাংশ অভিযোগেই দোষী সাব্যস্ত হয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। তবে এখনও শাস্তি ঘোষণা হয়নি। ফলে ইংলিশ ফুটবলে নতুন করে তৈরি হয়েছে তুমুল জল্পনা—পয়েন্ট কাটা হবে? প্রিমিয়ার লিগ থেকে নামিয়ে দেওয়া হবে? নাকি অতীতের ট্রফিও কেড়ে নেওয়া হবে?

বিবিসি জানিয়েছে, স্বাধীন কমিশন ১১৫টি অভিযোগের মধ্যে প্রায় সবক’টিতেই সিটিকে দোষী সাব্যস্ত করেছে। ‘দ্য অ্যাথলেটিক’-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, একটি বাদে সব অভিযোগেই দোষী সাব্যস্ত করার কথা বলা হয়েছে। যদিও লিখিত রায় এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে ঠিক কোন কোন অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ ছবি এখনও সামনে আসেনি।

ঠিক কী কী অভিযোগ ছিল?


২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনে প্রিমিয়ার লিগ। ২০০৯-১০ থেকে ২০১৭-১৮ পর্যন্ত সময়কালের আর্থিক হিসাব নিয়ে ওঠে মূল প্রশ্ন। অভিযোগগুলির মধ্যে ছিল—

অভিযোগের সূত্রপাত আরও আগে। ২০১৮ সালে জার্মান সংবাদপত্র ‘ডের স্পিগেল’-এ ফাঁস হওয়া নথি প্রকাশিত হয়েছিল। সেখানে দাবি করা হয়েছিল, সিটির স্পনসরশিপ থেকে পাওয়া অর্থের একটা অংশ আসলে মালিকপক্ষের বিনিয়োগ কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। পাশাপাশি তৎকালীন কোচ রবার্তো মানচিনির পারিশ্রমিক এবং ফুটবলারদের কিছু অর্থপ্রদানের হিসাব নিয়েও অভিযোগ ওঠে।

সিটি অবশ্য শুরু থেকেই সব অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে। ক্লাবের দাবি, ফাঁস হওয়া ই-মেল বেআইনি ভাবে সংগ্রহ করা হয়েছিল এবং সুনাম নষ্ট করার উদ্দেশ্যেই সেগুলি ব্যবহার করা হয়েছে।

শাস্তি কী হতে পারে?

এই মুহূর্তে সেটাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। রায় হলেও শাস্তির সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি। স্বাধীন কমিশনের হাতে রয়েছে একাধিক বিকল্প—তাৎক্ষণিক বা স্থগিত পয়েন্ট কাটা, আর্থিক জরিমানা, এমনকি প্রিমিয়ার লিগ থেকে বহিষ্কারও।

প্রিমিয়ার লিগ থেকে বহিষ্কার হলে সিটিকে নিচের ডিভিশনে নেমে যেতে হবে। আবার এত বেশি পয়েন্ট কাটা হতে পারে যে কার্যত অবনমনই হয়ে যাবে। তবে কোন শাস্তি দেওয়া হবে, তা নিয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসেনি।

ট্রফিগুলির কী হবে?

এই মামলার সবচেয়ে বিস্ফোরক প্রশ্নগুলির একটি এটাই। যে সময়ের আর্থিক নিয়মভঙ্গের অভিযোগ, সেই সময়ে সিটি তিন বার প্রিমিয়ার লিগ জিতেছিল—২০১১-১২, ২০১৩-১৪ এবং ২০১৭-১৮ মরসুমে। পাশাপাশি ২০১১ সালে FA Cup এবং ২০১৩-১৪, ২০১৫-১৬ ও ২০১৭-১৮ মরসুমে লিগ কাপ জিতেছিল তারা।

যদি কমিশন কোনও পর্যায়ে ওই ট্রফিগুলির ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়, তা হলে অন্য ক্লাবগুলির নামও উঠে আসতে পারে। ২০১১-১২ সালের প্রিমিয়ার লিগে দ্বিতীয় হওয়া ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, ২০১৩-১৪-তে দ্বিতীয় লিভারপুল এবং ২০১৭-১৮-তে দ্বিতীয় ইউনাইটেডের নাম সেই সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছে। তবে এখনও কোনও ট্রফি কেড়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়নি।

আবেদন করবে সিটি?

সম্ভাবনা প্রবল। বিবিসি জানিয়েছে,ম্যানচেস্টার সিটি রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে। ক্লাবের আইনি দলের নেতৃত্বে রয়েছেন লর্ড প্যানিক কেসি, যিনি ২০২০ সালে উয়েফার দেওয়া দুই বছরের ইউরোপীয় নিষেধাজ্ঞা বাতিল করাতে সিটিকে সাহায্য করেছিলেন।

তবে এবারও বিষয়টি দ্রুত মিটবে কি না, তা নিয়ে কোনও নিশ্চয়তা নেই। ইতিমধ্যেই তদন্ত ও শুনানি মিলিয়ে প্রায় আট বছর কেটে গিয়েছে। কমিশনের রায়ের বিরুদ্ধে সরাসরি আপিল করা গেলেও এই মামলায় CAS-এ যাওয়ার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছে বিবিসি।

সিটির বক্তব্য কী?

রায়ের খবর প্রকাশ্যে আসার পরে ক্লাবটি সরাসরি অভিযোগ স্বীকার করেনি। বরং এক বিবৃতিতে বলেছে, “প্রিমিয়ার লিগের প্রক্রিয়া এখনও চলছে। গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় এখনও সম্পূর্ণ হওয়া বাকি এবং গোটা প্রক্রিয়াই কঠোর গোপনীয়তার মধ্যে রয়েছে।”

ক্লাব আরও বলেছে, “আট বছর ধরে ম্যানচেস্টার সিটি যথাযথ আইনি প্রক্রিয়াকে সম্মান করে এসেছে। সেই ভিত্তি ছিল—প্রিমিয়ার লিগের বোর্ড এবং কর্তৃপক্ষ স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও ন্যায্য নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করবে এবং কোনও পক্ষপাতের প্রভাব থাকবে না।”

অর্থাৎ রায় সামনে এলেও ১১৫ অভিযোগের গল্প এখনও শেষ হয়নি। এবার অপেক্ষা লিখিত রায়ের, তার পরে শাস্তির। আর তার পরেই হয়তো ঠিক হবে—ইংলিশ ফুটবলের সাম্প্রতিক ইতিহাসে ম্যানচেস্টার সিটির সাফল্যের কতটা অক্ষত থাকবে।