বৃহস্পতিবার পর্তুগালের বিরুদ্ধে ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার দ্বিতীয় গোলটি নিয়ে সারা দুনিয়া জুড়েই চলছে বিতর্ক। সংযুক্ত সময়ে, ১০৩ মিনিটের মাথায় যোস্কো গভার্দিওলের গোল সমতা আনলেও দীর্ঘ ভিএআর পর্যালোচনার পর সেটি বাতিল করে দেন রেফারি। এই সিদ্ধান্ত নিয়ে বিশ্বজুড়ে বিতর্ক শুরু হয়। অবশেষে ব্যাখ্যা দিয়েছে ফিফা।
টরন্টোতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ইভান পেরিসিচ প্রথমে ক্রোয়েশিয়াকে এগিয়ে দেন। পরে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো পেনাল্টি থেকে সমতা আনেন এবং সংযুক্ত সময়ে গনজালো রামোসের গোলে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় পর্তুগাল। ঠিক এর পরই গভার্দিওল বল জালে জড়িয়ে ক্রোয়েশিয়াকে সমতায় ফেরানোর উল্লাসে মেতে ওঠেন। কিন্তু ভিএআরের দীর্ঘ পর্যালোচনার পর অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল করা হয়।
এই সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিয়ে ফিফা জানিয়েছে, শুরুতে মনে হয়েছিল বলটি পর্তুগালের ডিফেন্ডার রেনাতো ভেইগার গায়ে লেগে মারিও পাসালিচের কাছে গিয়েছে, যা হলে অফসাইড প্রযোজ্য হতো না। কিন্তু ভিএআরে দেখা যায়, বলটি তার আগে ক্রোয়েশিয়ার ফরোয়ার্ড ইগর মাতানোভিচের মাথায় খুব সামান্য স্পর্শ করেছিল। সেই মুহূর্তে পাসালিচ অফসাইড অবস্থানে ছিলেন। ফলে তাঁর পরবর্তী ভূমিকার কারণে পুরো আক্রমণই অফসাইড হিসেবে গণ্য হয় এবং গোলটি বাতিল করা হয়।
বিতর্কের জেরে তাদের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে ব্যাখ্যা দিয়ে ফিফা জানায়, “ফিফা বিশ্বকাপের অফিসিয়াল ম্যাচ বল ট্রায়োন্ডা-তে থাকা কানেক্টেড বল টেকনোলজি থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, গোল হওয়ার আগে আক্রমণ গড়ে ওঠার সময় ক্রোয়েশিয়ার ২০ নম্বর খেলোয়াড় ইগর মাতানোভিচ বল স্পর্শ করেছিলেন। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই রেফারি সঠিকভাবে অফসাইডের সিদ্ধান্ত নিয়ে গোল বাতিল করেন।”
ফিফা আরও ব্যাখ্যা করে, “ট্রায়ান্ডো ম্যাচবলের ভেতরে থাকা IMU সেন্সর বলের সঙ্গে হওয়া সামান্যতম স্পর্শও শনাক্ত করতে সক্ষম। সম্প্রচারের সময় এই তথ্য ‘হার্টবিট গ্রাফিক’-এর মাধ্যমে দেখানো হয়, যা ম্যাচ অফিসিয়ালদের দ্রুত ও নির্ভুল সিদ্ধান্ত নিতে অতিরিক্ত সহায়তা করে।”
এই প্রযুক্তিগত প্রমাণের ভিত্তিতেই রেফারি আগের সিদ্ধান্ত বদলে গোল বাতিল করেন। ফলে ২-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে শেষ ষোলোয় উঠে যায় পর্তুগাল, আর হতাশ হয়ে বিদায় নিতে হয় ক্রোয়েশিয়াকে। তবে এই ব্যাখ্যার পর এ বার ফুটবলে ভিএআর এবং কানেক্টেড বল টেকনোলজি-র ব্যবহার নিয়ে নতুন করে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়ে গিয়েছে।