৪৩ বলে হাফ সেঞ্চুরি, ৯ ছক্কা! এডজবাস্টনে রজাউল্লাহর ঝড়ে পিছলো ইংল্যান্ডের চুনকাম

Photo: Representational Image

এ যেন হারের মুখ থেকে আচমকাই ঘুরে দাঁড়ানো! সিরিজের প্রথম দুই টেস্টে ব্যাটিং বিপর্যয়ের পর এডজবাস্টনে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে তৃতীয় টেস্টে পাকিস্তানের লড়াই দেখে অবাক ক্রিকেটবিশ্ব। আর সেই লড়াইয়ের নায়ক ২১ বছরের রজাউল্লাহ (Razaullah), যিনি প্রথম টেস্ট খেলতে নেমেছেন।

৯ নম্বরে নেমে মাত্র ৬৩ বলে ৮১ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলে তিনি একদিকে যেমন পাকিস্তানকে ম্যাচে ফেরালেন, তেমনই গড়লেন দেশের হয়ে টেস্ট অভিষেকে দ্রুততম অর্ধশতরানের রেকর্ড।

প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৩৩ রানে অলআউট হয়ে গিয়েছিল পাকিস্তান। জবাবে ইংল্যান্ড ৪৫৩ রান তুলে ৩২০ রানের বিশাল লিড নেয়। দ্বিতীয় ইনিংসেও পাকিস্তানের ৩১৮ রানে ৮ উইকেট পড়ে যাওয়ায় মনে হচ্ছিল, তৃতীয় টেস্টও অনায়াসে জিতে সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করবে ইংল্যান্ড।


আরও পড়ুন: ফুটবল ফেডারেশনের নির্বাচন নিয়ে তৎপরতা, ৪ অক্টোবর কলকাতায় বিশেষ সাধারণ সভা

কিন্তু সেখান থেকেই শুরু রজাউল্লাহর (Razaullah) তাণ্ডব। শান মাসুদ ৯৫, অধিনায়ক বাবর আজম ৭৬ এবং আজান আওয়াইস ৫৯ রান করে পাকিস্তানকে বিপর্যয় থেকে বার করে এনেছিলেন। তবু ৩১৮ রানে অষ্টম উইকেট পড়ার পরে ইংল্যান্ডের জয় তখনও সময়ের অপেক্ষা বলেই মনে হচ্ছিল। ক্রিজে আসেন রজাউল্লাহ(Razaullah)। সঙ্গে মোহাম্মদ আব্বাস। তার পরেই বদলে যায় ম্যাচের ছবি।

গাস অ্যাটকিনসনের এক ওভারে তিনটি ছক্কা মেরে শুরু করেন রজাউল্লাহ(Razaullah)। জোফ্রা আর্চারের বলে তাঁর পঞ্চম ছক্কাতেই আসে ঐতিহাসিক হাফ সেঞ্চুরি— মাত্র ৪৩ বলে। পাকিস্তানের হয়ে টেস্ট অভিষেকে এর চেয়ে দ্রুত আর কোনও ব্যাটার হাফ সেঞ্চুরি করতে পারেননি। আগের রেকর্ড ছিল ফাহিম আশরাফের, ২০১৮-য় আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৫২ বলে অর্ধশতরান করেছিলেন তিনি।

শুধু তাই নয়, রজাউল্লাহর (Razaullah) ব্যাট থেকে আসে মোট ৯টি ছক্কা। ইংল্যান্ডের মাটিতে এক টেস্ট ইনিংসে এর চেয়ে বেশি ছক্কা এখনও কেউ মারতে পারেননি। ২০২৩ সালের অ্যাশেজে লর্ডসে বেন স্টোকসও এক ইনিংসে ৯টি ছক্কা মেরেছিলেন। সেই রেকর্ডেই ভাগ বসালেন পাকিস্তানের এই নতুন তারকা।

আব্বাসের সঙ্গে নবম উইকেটে তাঁর জুটি ছিল আরও অবিশ্বাস্য। দু’জনে মিলে মাত্র ১২৩ বলে ১২১ রান যোগ করেন। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ১৯৮৪ সালের পর কোনও দলের নবম উইকেটে এটাই সর্বোচ্চ রানের জুটি। আব্বাস ৪২ রান করে আউট হওয়ার পরে রজাউল্লাহ (Razaullah)থামেননি। শেষ পর্যন্ত ড্যান লরেন্সের বলে স্টাম্পড হওয়ার আগে ৪টি চার ও ৯টি ছক্কায় ৮১ রান করেন তিনি।

ব্যাট হাতে এমন বিস্ফোরক ইনিংসের আগে বল হাতেও নজর কেড়েছিলেন রজাউল্লাহ(Razaullah)। প্রথম ইনিংসে ইংল্যান্ডের অধিনায়ক জো রুটকে প্রথম ওভারেই ফিরিয়ে দেন। মোট চারটি উইকেট নেন তিনি।

আরও পড়ুন: সুব্রত কাপ চ্যাম্পিয়নদের বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা, শুভেচ্ছা মুখ্যমন্ত্রীর

ম্যাচের পর নিজের ব্যাটিং নিয়ে রজাউল্লাহ(Razaullah) বলেন, ‘আমাকে শুধু ব্যাট করতে হত। আনন্দটা আপনারাই পেয়েছেন। আমি ইনিংসটা যতটা সম্ভব লম্বা করতে চেয়েছিলাম। ওরা ব্যাট করার মতো জায়গায় বল করেছে, তাই আমি সুযোগের অপেক্ষায় ছিলাম। আমি পুরোপুরি উপভোগ করেছি। এক মুহূর্তের জন্যও ভয় পাইনি।’

রজাউল্লাহর (Razaullah) এই ইনিংসের সুবাদে ৪৪৯ রানে অলআউট হয় পাকিস্তান। ইংল্যান্ডের সামনে টেস্ট জয়ের জন্য লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৩০ রান। অর্থাৎ, জয়ের দৌড়ে এখনও ইংল্যান্ডই এগিয়ে, কিন্তু তৃতীয় দিনের শেষে পাকিস্তান অন্তত অসম্ভবকে সম্ভব করার দরজা খুলে দিয়েছে।

সিরিজের প্রথম দুই টেস্টে একতরফা আধিপত্য দেখানো ইংল্যান্ডকে এ বার অন্তত চতুর্থ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হল। আর সেই অপেক্ষার নেপথ্যে একজনই—রজাউল্লাহ।

দেখুন:কঠিন আল হুসেইন, তবু জয়ের লক্ষ্য ইস্টবেঙ্গল: জর্ডান যাওয়ার আগে হাবাস