ব্যালন ডি’অরের ৩০ জনের তালিকায় তাঁর জায়গা হয়নি। অভিমান থাকতেই পারে। কিন্তু সেই অভিমান মুখে নয়, পায়ে দেখালেন রাফিনহা (Raphinha)। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের প্রথম ম্যাচেই ব্রাজিলীয় তারকার জোড়া গোলে ভর করে ফেইনউর্ডকে ৫-১ উড়িয়ে দিল বার্সেলোনা (Barcelona)।
ক্যাম্প ন্যু-র বৃষ্টিভেজা রাতে ম্যাচের মাত্র তৃতীয় মিনিটেই গোল করেন রাফিনহা (Raphinha)। এক ঘণ্টা পূর্ণ হওয়ার ঠিক আগে দ্বিতীয় গোল। এ বারের মরসুমে ছ’টি ম্যাচে তাঁর গোলের সংখ্যা দাঁড়াল আট। ব্যালন ডি’অরের তালিকায় নাম না থাকলেও মাঠে যে তিনি নিজের কথা শোনাতে জানেন, বুধবার রাতে সেটাই বুঝিয়ে দিলেন রাফিনহা (Raphinha)।
তবে শুধু রাফিনহাই(Raphinha) নন। বার্সার (Barcelona) গোল উৎসবে যোগ দেন করিম আদেয়েমি, লামিনে ইয়ামাল এবং গ্যাব্রিয়েল জেসুস। আদেয়েমি করেন দুর্দান্ত ফিনিশ। ইয়ামাল ফ্রি-কিক থেকে ডাচ দলের ডিফেন্সিভ দেওয়ালের ফাঁক গলে বল জালে জড়িয়ে দেন। আর পরিবর্ত হিসেবে মাঠে নামার মাত্র দু’মিনিটের মধ্যে বার্সার হয়ে প্রথম গোল করেন গ্যাব্রিয়েল জেসুস। ফেইনউর্ডের হয়ে একমাত্র গোলটি করেন সেম স্টেইন।
আরও পড়ুন: ফের ব্যাটিং ধস, এজবাস্টনে পাকিস্তান ১৩৩! প্রথম দিনেই ইংল্যান্ডের হাতে ম্যাচের রাশ
ম্যাচের পরে বার্সেলোনা (Barcelona) কোচ হান্সি ফ্লিক বললেন, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, আমরা একটা দল হিসাবে খেলছি। আমরা ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করেছি, আধিপত্য দেখিয়েছি। এটাই আমাদের খেলার ধরন এবং আমরা এ ভাবেই খেলতে চাই’।
অন্য দিকে, গতবারের চ্যাম্পিয়ন প্যারিস সাঁ জারমঁ-ও শুরু করল দাপটের সঙ্গে। ঘরের মাঠ পার্ক দে প্রিন্সে স্লোভান ব্রাতিস্লাভাকে ৬-১ গোলে উড়িয়ে দিল পিএসজি। পর পর তৃতীয় বার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের লক্ষ্যে নামা লুই এনরিকের দলের সামনে কার্যত দাঁড়াতেই পারেনি স্লোভাকিয়ার চ্যাম্পিয়নরা।
পিএসজি-র জয়ের নায়ক ফেরান তোরেস (Ferran Torres) । স্পেনের বিশ্বকাপ ফাইনালের নায়ক এ বার করলেন হ্যাটট্রিক। প্রথমার্ধেই দু’টি গোল করে ফেলেছিলেন গত বছরের ব্যালন ডি’অর জয়ী উসমান দেম্বেলে। তিনিই আবার প্রথমার্ধের শেষ দিকে তোরেসকে(Ferran Torres) দিয়ে গোল করান। বিরতির পর মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে আরও দু’টি গোল করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন প্রাক্তন বার্সেলোনা ফুটবলার তোরেস(Ferran Torres) । স্লোভানের হয়ে একটি গোল শোধ করেন সুলেমান কামারা। পিএসজি-র ছ’নম্বর গোলটি করেন ফাবিয়ান রুইজ।
অন্য ম্যাচে স্টুটগার্ট ৩-১ হারিয়েছে ভাইকিং স্টাভাঙ্গারকে। ১২ মিনিটের ঝড়ে প্রথমার্ধেই হ্যাটট্রিক করেন এরমেদিন দেমিরোভিচ। ২০ মিনিটে প্রথম গোল করার পর দু’মিনিটের মধ্যে সমতা ফেরায় ভাইকিং। কিন্তু ২৬ মিনিটে আবার স্টুটগার্টকে এগিয়ে দেন দেমিরোভিচ। ছ’মিনিট পরে দুর্দান্ত ভলিতে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন তিনি।
আর লিসবনে গালাতাসারের বিরুদ্ধে ৩-১ জেতে স্পোর্টিং। শুরুতে নিজ-গোলে পিছিয়ে পড়লেও ঘুরে দাঁড়ায় পর্তুগিজ দল। জেনি কাটামো সমতা ফেরানোর পরে লুই সুয়ারেজ পেনাল্টি থেকে গোল করে এগিয়ে দেন স্পোর্টিংকে। ছ’মিনিট পর রদ্রিগো সালাজারের দুর্দান্ত ফ্রি-কিকে নিশ্চিত হয় জয়।
আরও পড়ুন: কলকাতায় ভিনিসিয়াস, রাফিনহা, এন্ড্রিকরা, বিশ্বকাপ দলের ন’জন, ঘোষণা ব্রাজিল কোচ আনসেলোত্তির
মারকোস ইয়োরেন্তে অ্যানফিল্ডে ডমিনিক সোবোসলাইয়ের নিখুঁত ফিনিশ এবং অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের দুরন্ত শটেই ২-১-এ প্রত্যাবর্তনের জয় নিশ্চিত করে লিভারপুল। তিন ম্যাচে পঞ্চম গোল করে অতিথিদের এগিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু আন্দোনি ইরাওলার দল বিরতির ঠিক আগে সমতা ফেরায়। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই এগিয়ে যায় লিভারপুল। বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত শক্তিশালী শটে গোল করেন ম্যাক অ্যালিস্টার। শেষ পর্যন্ত সেই ব্যবধান ধরে রেখে জয় নিশ্চিত করে ‘রেডস’।
মার্টিন ওডেগার্ডের ৭৫ মিনিটের দুর্দান্ত গোলে নাপোলির মাঠে কঠিন লড়াইয়ের জয় ছিনিয়ে নেয় আর্সেনাল। গত মরসুমের রানার্স-আপদের হয়ে প্রথমার্ধে বুকায়ো সাকার ওভারহেড কিক এবং মিকেল মেরিনোর হেড থেকে গোলের ভাল সুযোগ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি তারা। শেষ পর্যন্ত অধিনায়ক ওডেগার্ডের হাত ধরেই আসে কাঙ্ক্ষিত গোল।
দারুণ দলগত আক্রমণ থেকে পাওয়া বল নিয়ে ওডেগার্ড ভিতরের পোস্টে বল মেরে জালে জড়িয়ে দেন। সেই গোলই শেষ পর্যন্ত আর্সেনালকে এনে দেয় হাড্ডাহাড্ডি ম্যাচের জয়। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শুরুতেই তাই বার্সেলোনা, পিএসজি, আর্সেনাল, লিভারপুলের বার্তা পরিষ্কার—এ বারও ইউরোপের মঞ্চে বড় কিছু করার লক্ষ্যেই নেমেছে তারা।
দেখুন: পুজোয় বাংলা ছবির ব্যবসা নিয়ে আশাবাদী প্রসেনজিৎ, উঠল ৫০ কোটির প্রসঙ্গ