অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে জয় পেলেও স্বস্তি পেল না ব্রাজিল শিবির। চোটের কারণে ভারতের বিরুদ্ধে আসন্ন ফ্রেন্ডলি ম্যাচে খেলতে পারবেন না এই মুহূর্তে ব্রাজিলের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য স্ট্রাইকার রাফিনহা।
ডান উরুর পেশিতে অস্বস্তির কারণে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচের প্রথমার্ধের পরেই তাঁকে তুলে নিয়েছিলেন কার্লো আনসেলোত্তি। পরে মেডিক্যাল পরীক্ষায় চোট ধরা পড়ায় ব্রিসবেন থেকেই তাঁকে ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করছে ব্রাজিলের ফুটবল ফেডারেশন (সিবিএফ)। রাফিনহা ফিরে যাচ্ছেন বার্সেলোনায়। সেখানেই তাঁর ক্লাবের তত্ত্বাবধানে তাঁর চিকিৎসা হবে।
মঙ্গলবার ব্রিসবেনে অস্ট্রেলিয়াকে ৪-২ গোলে হারায় ব্রাজিল। সেই ম্যাচে পেনাল্টি থেকে গোলও করেছিলেন রাফিনহা। কিন্তু প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার পরই তাঁকে তুলে নেওয়া হয়। তখনই আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, কলকাতায় ৩ অক্টোবরের ম্যাচে তাঁকে পাওয়া যাবে কি না। শেষ পর্যন্ত সেই আশঙ্কাই সত্যি হল।
‘দৈনিক স্টেটসম্যান ডিজিটাল’-এ অবশ্য গতকালই জানানো হয়েছিল রাফিনহা কলকাতার ম্যাচে নামতে চাইছেন না। সামনে দীর্ঘ ক্লাব মরসুম থাকায় তিনি বিশ্রাম চান। কিন্তু যেহেতু তিনি এখন এই মুহূর্তে দলের সবচেয়ে ধারালো স্ট্রাইকার এবং ভিনিসিয়াস জুনিয়র ও এন্দ্রিক খুব একটা ভাল ফর্মে নেই, তাই কোচ আনসেলোত্তি তাঁকে অস্ট্রেলিয়ায় প্রথম ম্যাচে পুরো ৯০ মিনিট খেলিয়েছিলেন এবং মঙ্গলবার দ্বিতীয় ম্যাচেও শুরু থেকে খেলান। এই অবস্থায় চোট পেয়ে বার্সেলোনায় ফিরে গিয়ে তিনি ব্যথা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্বস্তিও পেলেন।
সিবিএফ জানিয়েছে, রাফিনিয়ার শারীরিক পরীক্ষা করা হয়েছে। সেই পরীক্ষার রিপোর্টে বলা হয়েছে, ‘পরীক্ষায় তাঁর ডান উরুর পিছনের অংশে পেশিতে সামান্য ফোলা (মাসল এডিমা) ধরা পড়েছে’।
এর পরেই রাফিনিয়াকে ব্রাজিলের দল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এখন বার্সেলোনায় ফিরে গিয়ে আরও পরীক্ষা করাবেন তিনি। সেখানেই চোটের প্রকৃতি আরও পরিষ্কার হবে এবং শুরু হবে চিকিৎসা। আপাতত আশা করা হচ্ছে, বড় কোনও চোট নয় এবং সতর্কতামূলক কারণেই তাঁকে ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচে খেলানো হচ্ছে না।
অর্থাৎ, কলকাতার যুবভারতীতে রাফিনহাকে দেখার সুযোগ আপাতত থাকছে না ভারতীয় ফুটবলপ্রেমীদের। ব্রাজিলের আক্রমণভাগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলার তিনি। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ৪-২ জয়ের ম্যাচে গোল করার পাশাপাশি তাঁর গতি ও আক্রমণ তৈরির ক্ষমতা ছিল ব্রাজিলের অন্যতম অস্ত্র। সেই ম্যাচেই চোটের কারণে তাঁকে মাঠ ছাড়তে হয়।
রাফিনহার জন্য আরও একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। বার্সেলোনার পরবর্তী লা লিগা ম্যাচ ১০ অক্টোবর গেতাফের বিরুদ্ধে। তার আগে চোটের প্রকৃতি এবং সুস্থ হয়ে ওঠার সময়সীমা জানা যাবে। তাই ভারতের বিরুদ্ধে না খেললেও বার্সেলোনার পরের ম্যাচগুলিতে তিনি খেলতে পারবেন কি না, সেটাই এখন নজরে।
ভারত-ব্রাজিল ম্যাচের আগে ফলে আনসেলোত্তিকে তাঁর পরিকল্পনাতেও বদল আনতে হবে। রাফিনহা না থাকায় ব্রাজিলের আক্রমণে অন্য কাউকে সুযোগ দিতে হবে। তবে ভিনিসিয়াস জুনিয়র, এন্দ্রিক, ব্রুনো গিমারায়েসদের নিয়ে ব্রাজিলের তারকা-সমৃদ্ধ দলই নামবে যুবভারতীতে।
<blockquote class=”twitter-tweet”><p lang=”en” dir=”ltr”>Raphinha injured again. Played 95+ minutes in the first game, played in the second game until he couldn’t continue. Both meaningless games. Ancelotti did his damage for Real Madrid. https://t.co/EmsbxgWWIY</p>— Barça Touchline (@BarcaTouchline) <a href=”https://x.com/BarcaTouchline/status/2104913253751308591?ref_src=twsrc%5Etfw”>September 29, 2026</a></blockquote>
<script async src=”https://platform.x.com/widgets.js” charset=”utf-8″></script>
হাতাহাতিতে বড় চোট থেকে বাঁচলেন এন্ড্রিক
মঙ্গলবারের ম্যাচে রাফিনহা ছাড়াও ব্রাজিল দলে আরো কয়েকজনেক চোট হতে পারত। দুই দলের ফুটবলারদের মধ্যে যে প্রায় হাতাহাতি শুরু হয়, তাতেই ক্ষতি হওয়ার উপক্রম হয়েছিল কয়েকজনের।
ব্রিসবেনে নামেই বন্ধুত্বপূর্ণ ম্যাচ ছিল, কিন্তু মাঠে উত্তেজনার পারদ এতটাই চড়ে যায় যে, একেবারেই বন্ধুত্বপূর্ণ থাকেনি পরিবেশ! ব্রিসবেনের ম্যাচের ফলের পাশাপাশি আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসে অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক হ্যারি সাউটার এবং ব্রাজিলের এন্ড্রিকের ঝামেলা।
৫ ফুট ৮ ইঞ্চির এন্ড্রিকের সামনে সাউটারের উচ্চতা প্রায় ৬ ফুট ৬ ইঞ্চি। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে দু’জনের মধ্যে একটি সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এন্ড্রিক পিছন থেকে সাউটারকে ধাক্কা দেন। তার পরেই দু’জনের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা এবং ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। অস্ট্রেলিয়ার বেঞ্চের সামনে চলে আসে দুই দলের আরও কয়েক জন ফুটবলার।
ঘটনার পর দু’জনকেই হলুদ কার্ড দেখান রেফারি। পরিস্থিতি অবশ্য দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে। কিন্তু ততক্ষণে ক্যামেরায় ধরা পড়ে গিয়েছে সেই অদ্ভুত দৃশ্য— বিশাল চেহারার সাউটারের সামনে অপেক্ষাকৃত খাটো এন্ড্রিকের তেড়ে যাওয়া। আর সেই ছবি ও ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে নিমেষে।
এই ঝামেলার পরেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয় ব্রাজিল। ২-২ সমতায় থাকা ম্যাচে প্রথমে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের তৈরি করা আক্রমণ থেকে এন্ড্রিকের পাস পেয়ে ব্রুনো গিমারায়েস গোল করেন। পরে ভিনিসিয়ুস নিজেই পেনাল্টি থেকে গোল করে ব্যবধান ৪-২ করেন।
ম্যাচ শেষে ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি অবশ্য অস্ট্রেলিয়ার প্রশংসাই করেছেন। তাঁর কথায়, ‘সত্যি বলতে, ওরা খুব ভাল ভাবে প্রেস করে। ওরা খুব ভাল ভাবে সংগঠিত ছিল এবং এই জায়গায় আমাদের অবাক করেছে। সামনের দিক থেকে ওরা অনেক বেশি চাপ তৈরি করেছিল, ফলে পিছন থেকে আক্রমণ তৈরি করতে আমাদের সমস্যা হচ্ছিল। আমার মতে, ওরা খুব ভাল দল’।
শেষ পর্যন্ত ৪-২ গোলে ব্রাজিল জিতলেও ম্যাচের সবচেয়ে নেতিবাচক মুহূর্ত হয়ে রইল রাফিনহার চোট এবং সফর থেকে ছিটকে যাওয়া। আগেই জানা গিয়েছিল তিনি কলকাতার ম্যাচে নামতে আগ্রহী নন। তাই চোট পেয়ে একদিক থেকে বোধহয় ভালই হল তাঁর। খেলতে চাইছিলেন না, এখন আর খেলার কোনো গল্পই নেই।