কমনওয়েলথ গেমসে ভারতের পদক তালিকায় আরও এক সফল ভারোত্তোলক রাজা মুথুপান্ডি। যিনি পুরুষদের ৬৫ কেজি বিভাগে মোট ২৮৬ কেজি (স্ন্যাচে ১২৬ কেজি এবং ক্লিন অ্যান্ড জার্কে ১৬০ কেজি) তুলে রুপোর পদক জিতেছেন তামিলনাড়ুর এই ভারোত্তোলক। যদিও সোনা জয়ের খুব কাছাকাছি পৌঁছেও শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয় স্থানেই সন্তুষ্ট থাকতে হয় তাঁকে। পদক জয়ের পর প্রথম প্রতিক্রিয়ায় নিজের হতাশার কথা লুকোননি রাজা।
বলেন, ‘আমি রুপো জিতেছি ঠিকই, কিন্তু সত্যি বলতে সোনা হাতছাড়া হওয়ায় আমি হতাশ। আমার মনে হয়েছিল আমি আরও ভালো করতে পারতাম। বিশেষ করে কোচকে একটু হতাশ করেছি বলেই মনে হচ্ছে’। এই রুপোর পদক তিনি উৎসর্গ করেছেন জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুই শক্তিকে—তাঁর বাবা-মা এবং কোচ বিজয় শর্মাকে। ‘এই পদক আমি আমার বাবা-মা এবং আমার কোচ বিজয় শর্মাকে উৎসর্গ করছি। ওঁদের সমর্থন, ত্যাগ আর বিশ্বাস ছাড়া আমি আজ এখানে পৌঁছতে পারতাম না’, বলেন রাজা।
তিনি জানান, প্রতিযোগিতার আগে কোচের সঙ্গে নির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়েই নেমেছিলেন তিনি। কিন্তু নিজের সেরাটা দিতে না পারার আক্ষেপ থেকেই যাচ্ছে। ‘আমরা একটা পরিকল্পনা করে নেমেছিলাম। কিন্তু আমি জানি, আমার আরও ভালো করার ক্ষমতা ছিল। সেই কারণেই একটু খারাপ লাগছে।”
এই রুপোর পদক তাঁর কেরিয়ারের অন্যতম বড় সাফল্য হলেও এর পিছনে রয়েছে দীর্ঘ লড়াই। ২০১৯ সালে কনুইয়ের গুরুতর লিগামেন্টে চোটের কারণে অস্ত্রোপচার করতে হয়েছিল। সেই চোট তাঁকে দীর্ঘদিন প্রতিযোগিতার বাইরে রেখেছিল। কিন্তু কঠোর পরিশ্রমে ফিরে এসে ২০২৫ সালে কমনওয়েলথ ওয়েটলিফটিং চ্যাম্পিয়নশিপে রুপো, বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে ব্যক্তিগত সেরা পারফরম্যান্স এবং ২০২৬ সালে জাতীয় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর গ্লাসগোয় জিতলেন প্রথম কমনওয়েলথ গেমস পদক।
স্ন্যাচে প্রথম প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলেও দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় ১২৬ কেজি তুলে নিজেকে পদকের লড়াইয়ে ফিরিয়ে আনেন। ক্লিন অ্যান্ড জার্কে ১৬০ কেজি সফলভাবে তোলার পর কিছু সময়ের জন্য শীর্ষেও উঠে এসেছিলেন। শেষ প্রচেষ্টায় ১৬৫ কেজি তুলতে পারলে সোনার সম্ভাবনা ছিল, কিন্তু সেই চেষ্টা সফল হয়নি। ফলে মালয়েশিয়ার মুহাম্মদ আজনিল বিদিন ২৯৯ কেজির গেমস রেকর্ড গড়ে সোনা জেতেন এবং রাজাকে রুপো নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়।
মীরাবাই চাণুর ঐতিহাসিক সোনা এবং ঋষিকান্ত সিংয়ের রুপোর পর রাজা মুথুপান্ডির রুপো ভারতকে পদকতালিকায় আরও সমৃদ্ধ করে তুলেছে। ভারোত্তোলন থেকে আরো পদকের আশায় রয়েছে ভারত।