প্রসিদ্ধের দাপটে কোণঠাসা শ্রীলঙ্কা, ফলো-অন এড়াতে পারবে পাসিন্দু-দিনুশার লড়াকু ব্যাটিং?

Photo: X

কলম্বোয় ভারতের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টেস্টের তৃতীয় দিনের শেষেও শ্রীলঙ্কার ঘাড়ের উপর নিঃশ্বাস ফেলছে ফলো-অনের ভয়। প্রসিদ্ধ কৃষ্ণার আগুনে বোলিং এবং মানব সুথারের জোড়া আঘাত— সব মিলিয়ে দিনের শেষে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৬৫ শ্রীলঙ্কার। ভারতের প্রথম ইনিংসে ৫০৩/৯-এর জবাবে এখনও ২৩৮ রানে পিছিয়ে তারা। বিকেলে ঝেঁপে বৃষ্টি এসে নামায় খেলা বন্ধ হয়ে যায়। এখন এই বৃষ্টিই ভরসা ধনঞ্জয়দের।

তবে বিপর্যয়ের মধ্যে শ্রীলঙ্কাকে কিছুটা অক্সিজেন দিয়েছেন পাসিন্দু সূরিয়াবন্দারা। নিজের দ্বিতীয় টেস্টেই দুরন্ত ব্যাটিং করে প্রথম হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ৮০ রানে তাঁর লড়াই থামে। কামিন্দু মেন্ডিসের সঙ্গে ৮৭ রানের জুটি গড়ে এক সময় ভারতীয় বোলারদের চাপে ফেলে দিয়েছিলেন পাসিন্দু। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই লড়াইয়ে টিকে থাকতে পারেননি।

দিনের শুরুতে মাত্র ৮/২ নিয়ে ব্যাট করতে নেমেছিল শ্রীলঙ্কা। খুব বেশি সময় লাগেনি ফের ধাক্কা খেতে। প্রসিদ্ধ কৃষ্ণার বাড়তি বাউন্সে কিলি মিশারা ধরা পড়েন ধ্রুব জুরেলের হাতে। ৩৫ রানে তৃতীয় উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা। এরপর পাসিন্দু এবং কামিন্দু মেন্ডিস মিলে পাল্টা লড়াই শুরু করেন।


পাসিন্দু ছিলেন বেশি আগ্রাসী। ৭৬ বলে ছয়টি চার মেরে প্রথম টেস্ট অর্ধশতরান করেন তিনি। অন্য দিকে মেন্ডিসও হাত খুলে খেলছিলেন। মানব সুথারের বলে মিড-উইকেটের উপর দিয়ে ছক্কা মেরে নিজের উদ্দেশ্য পরিষ্কার করে দেন। দু’জনের জুটি যখন ভারতকে অস্বস্তিতে ফেলতে শুরু করেছে, তখনই ফের ত্রাতা হয়ে ওঠেন প্রসিদ্ধ। তাঁর শর্ট বলে মেন্ডিস মিড-উইকেটে রবীন্দ্র জাদেজার হাতে ধরা পড়েন এবং এখানেই ৮৭ রানের জুটি ভেঙে যায়।

Photo: X

লাঞ্চে শ্রীলঙ্কার স্কোরবোর্ড দেখাচ্ছিল ১৩০/৪। অর্থাৎ ভারতের থেকে তখনও ৩৭৩ রান পিছনে তারা। লাঞ্চের পর অবশ্য ভারত দ্রুত চাপ বাড়ায়। অধিনায়ক ধনঞ্জয় ডি সিলভাকে ফিরিয়ে দেন মানব। কেএল রাহুলের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। এর পর পাসিন্দুর সঙ্গে কিছুটা লড়াই করেন সোনাল দিনুশা।

শেষ পর্যন্ত পাসিন্দুও জাডেজার শিকার। ৮০ রানে তাঁর ইনিংস থেমে যায়। এর পর নিরোশন ডিকওয়েলার উইকেটও তুলে নেন মহম্মদ সিরাজ। ফের মানবের আঘাতে ফেরেন কেশরা নুয়ান্থা। ফলে ২৩১/৮-এ পৌঁছে যায় শ্রীলঙ্কা।

তার পর থেকেই বৃষ্টি বার বার বাধা হয়ে দাঁড়ায়। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ের আগেই দিনের খেলা শেষ করতে হয়। ৮৩.৪ ওভারে ২৬৫/৮ শ্রীলঙ্কা। সোনাল দিনুশা ৮৫ রানে অপরাজিত, তাঁর সঙ্গে ৮ রানে অপরাজিত লাহিরু কুমারা। ভারতের হয়ে প্রসিদ্ধ কৃষ্ণা তিনটি এবং মানব সুথার দু’টি উইকেট নিয়েছেন।

অর্থাৎ চতুর্থ দিনে ভারতের সামনে প্রথম কাজ একটাই— বাকি দুই উইকেট দ্রুত তুলে নিয়ে শ্রীলঙ্কাকে ফলো-অন করানো। ফলো-অন এড়াতে শ্রীলঙ্কাকে এখনও অন্তত ৩৯ রান করতে হবে। ভারত যে এখনও এই টেস্টে চালকের আসনেই বসে রয়েছে, এই নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। তবে পাসিন্দুর ৮০ এবং দিনুশার অপরাজিত ৮৫ শ্রীলঙ্কাকে সামান্য হলেও লড়াইয়ে রেখেছে।

কিন্তু যতই লড়াইয়ে থাকুক শ্রীলঙ্কা, তারা বড়জোর ফলো-অন এড়াতে পারে। হার এড়ানো তাদের পক্ষে কঠিন। এখন দেখার, চতুর্থ দিনের শুরুতেই ফলো-অন এড়ানোর আশাটুকুও মুছে দিতে পারেন কি না প্রসিদ্ধ-সুথাররা।