বোলারদের দাপটে নিউজিল্যান্ডকে মাত্র ১৩৪ রানে গুটিয়ে দিয়েছিল ভারত। তখন মনে হয়েছিল, দ্বিতীয় এক দিনের ম্যাচে জয় পেতে বিশেষ বেগ পেতে হবে না শুভমান গিলের দলকে। কিন্তু এই রান তাড়া করতে নেমেই বিপদে পড়ে ভারত। প্রবল ব্যাটিং বিপর্যয়ে প্রায় কোণঠাসা হয়ে পড়ে তারা। একের পর এক উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় ভারত। শেষ পর্যন্ত বৃষ্টি নেমে দলকে না বাঁচালে হয়তো এই ম্যাচ হেরেই যেত ভারত। ডাকওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন (ডিএলএস) পদ্ধতিতে চার রানে ম্যাচ জিতে পাঁচ ম্যাচের ওয়ান ডে সিরিজ়ে ২-০-য় এগিয়ে গেল ভারত।
ওয়েলিংটনে শনিবারের এই ম্যাচে অবশ্য প্রথম থেকেই বাধা হয়ে দাঁড়ায় বৃষ্টি। নির্ধারিত সময়ের প্রায় ঘণ্টা খানেক পরে খেলা শুরু হয়। ফলে ম্যাচ কমিয়ে ৪৭ ওভারের করা হয়েছিল। টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন ভারত অধিনায়ক গিল। তাঁর সিদ্ধান্তকে সঠিক প্রমাণ করেন দলের তরুণ পেসাররা।
গুরনুরের আগুনে বোলিং, ১৩৪ রানেই শেষ কিউইরা
নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিংয়ের শুরু থেকেই নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট পড়তে থাকে। অকিব নবি প্রথম ধাক্কা দেন। টিম সাইফার্ট এবং উইল ইয়ংকে ফিরিয়ে দেন তিনি। এর পরে অংশুল কাম্বোজের বলে বোল্ড হন হেনরি নিকোলস্। মাত্র ২৩ রানে তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় কিউইরা।
ড্যারিল মিচেল এবং টম লাথাম কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু গুরনুর ব্রারের দাপটে সেই প্রতিরোধও ভেঙে পড়ে। একই ওভারে লাথাম এবং গ্লেন ফিলিপসকে ফিরিয়ে দেন তিনি। এর পরেও থামেননি গুরনুর। নাথান স্মিথ এবং মিচেল স্যান্টনারকে আউট করে চার উইকেট পূর্ণ করেন তিনি।
১০ ওভারে ৩০ রান দিয়ে চার উইকেট নেন গুরনুর। অংশুল কাম্বোজ এবং অকিব নবি দু’টি করে উইকেট পান। অক্ষর পটেলও দু’টি উইকেট নেন। নিউজিল্যান্ডের হয়ে একমাত্র উল্লেখযোগ্য ইনিংস ড্যারিল মিচেলের। ১০৪ বলে ৫৫ রান করেন তিনি। স্যান্টনার করেন ৩১। শেষ পর্যন্ত ৪১ ওভারে ১৩৪ রানে শেষ হয়ে যায় নিউজিল্যান্ডের ইনিংস।
রান তাড়া করতে নেমে বিপর্যয়, শেষরক্ষা বৃষ্টিতে
১৩৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় ভারত। প্রথম বলেই আউট হন গিল। বিরাট কোহলি করেন মাত্র সাত রান। রোহিত শর্মা দু’টি ছয় মেরে আক্রমণাত্মক মেজাজে ব্যাটিং শুরু করলেও ১৭ রানের বেশি করতে পারেননি। জ্যাকব ডাফি এবং কাইল জেমিসনের দাপটে ভারতীয় ব্যাটিংয়ে বিপর্যয় নেমে আসে।
অক্ষর পটেলও বড় রান করতে পারেননি। জেমিসন এবং ডাফি নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট তুলে নিতে থাকেন। এক সময় ৪৭ রানে চার উইকেট হারিয়ে বসে ভারত। এই অবস্থা থেকে কিছুটা লড়াই করে দলকে টেনে তোলার চেষ্টা করেন শ্রেয়স আইয়ার এবং লোকেশ রাহুল। পঞ্চম উইকেটে ৩৯ রানের পার্চনারশিপ গড়েন তাঁরা। শ্রেয়স ৪৬ বলে ৩০ রান করে আউট হন। রাহুল অবশ্য এক প্রান্ত ধরে রেখেছিলেন। তাঁর ব্যাট থেকে আসে অপরাজিত ২৬। ৩৮ বলের ইনিংসে ছিল একটি ওভার বাউন্ডারি।
নমন ধীর করেন ১২ রান। কিন্তু তিনিও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। অংশুল কাম্বোজ আউট হওয়ার পরে ভারতের স্কোর দাঁড়ায় ২৬ ওভারে ১১৩/৭। জয়ের জন্য তখনও ২২ রান প্রয়োজন। ঠিক সেই সময় বৃষ্টি নামে। ডাকওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন পদ্ধতিতে ওই ওভারে জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় রান ছিল ১০৯। অর্থাৎ ভারত চার রানে এগিয়ে ছিল। বৃষ্টি থামার অপেক্ষা চললেও শেষ পর্যন্ত আর খেলা শুরু করা সম্ভব হয়নি। ম্যাচ পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। চার রানে জয় পায় ভারত।
সিরিজ জয়ের দিকে আরও এক ধাপ
এই জয়ের ফলে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ভারত। প্রথম ম্যাচেও বৃষ্টিবিঘ্নিত লড়াইয়ে পাঁচ উইকেটে জিতেছিল গিলের দল। পর পর দু’টি ম্যাচে বোলাররা নিজেদের প্রমাণ করলেও ব্যাটিং নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
বিশেষ করে নিউজিল্যান্ডের দেওয়া মাত্র ১৩৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে ভারতের সাত উইকেট পড়ে যাওয়া চিন্তার বিষয়। গিল, কোহলি এবং রোহিতের মতো অভিজ্ঞ ব্যাটাররা ব্যর্থ হতেই ভারতের গোটা ব্যাটিং লাইন-আপই অস্বস্তিতে পড়ে যায়। তবে বোলিং বিভাগে গুরনুর, কাম্বোজ এবং নবির পারফরম্যান্স ভারতীয় শিবিরকে স্বস্তি দেবে।
টসের সময় গিল জানিয়েছিলেন, আকাশ মেঘলা এবং পিচ ঢাকা থাকার কারণে প্রথমে বল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অন্য দিকে, নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার বলেছিলেন, পরিস্থিতি বোলারদের সাহায্য করতে পারে বুঝলেও তাঁদের লক্ষ্য ছিল শুরুতে কঠিন সময়টা সামলে বড় রান তোলা। শেষ পর্যন্ত স্যান্টনারের দলের সেই পরিকল্পনা সফল হয়নি। তবে ব্যাট হাতে ভারতের দুর্বলতা যে এখনও কাটেনি, ওয়েলিংটনের ম্যাচ তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
নিউজিল্যান্ড: ১৩৪ (৪১ ওভার)। ড্যারিল মিচেল ৫৫, মিচেল স্যান্টনার ৩১। গুরনুর ব্রার ৪/৩০, অংশুল কাম্বোজ ২/২৫।
ভারত: ১১৩/৭ (২৬ ওভার)। শ্রেয়স আইয়ার ৩০, লোকেশ রাহুল ২৬*। কাইল জেমিসন ৩/৩৫, জ্যাকব ডাফি ৩/৩৫।
ফল: ডাকওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন পদ্ধতিতে ৪ রানে জয়ী ভারত। সিরিজে ভারত ২-০ এগিয়ে।