আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ব্যস্ত সূচির ফাঁকে আবার ঘরোয়া ক্রিকেটের আসরে নামছেন জাতীয় দলের তারকারা। রবিবার থেকে শুরু হচ্ছে ২০২৬-২৭ মরসুমের রঞ্জি ট্রফি। ভারতীয় দলের একাধিক পরিচিত মুখকে দেখা যাবে রাজ্য দলের হয়ে খেলতে। কে এল রাহুল, যশস্বী জয়সওয়াল, রবীন্দ্র জাদেজা, ওয়াশিংটন সুন্দরদের কাছে এই টুর্নামেন্ট যেমন লাল বলের ক্রিকেটে নিজেদের ঝালিয়ে নেওয়ার মঞ্চ, তেমনই মহম্মদ শামির মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের কাছে ফের জাতীয় দলের দরজা খোলার শেষ সুযোগ।
গত মরসুমে আট বারের চ্যাম্পিয়ন কর্নাটককে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছিল জম্মু-কাশ্মীর। ৬৭ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে প্রথম বার রঞ্জি ট্রফি জিতেছিল তারা। এ বার সেই খেতাব ধরে রাখার কঠিন চ্যালেঞ্জ তাদের সামনে। অন্য দিকে, মুম্বই, কর্নাটক, বাংলা, দিল্লি, সৌরাষ্ট্র এবং বিদর্ভের মতো পরিচিত দলগুলি ফের খেতাব জয়ের লক্ষ্যে নামবে।
টেস্ট দলে জায়গা পাকা করার মঞ্চ
কর্নাটকের হয়ে খেলবেন কে এল রাহুল। মুম্বইয়ের হয়ে নামার কথা যশস্বী জয়সওয়ালের। সামনে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে দুই টেস্টের সিরিজ। তার আগে লাল বলের ক্রিকেটে খেলে নিজেদের ভিত আরও মজবুত করে নিতে চান দুই ব্যাটার।
তামিলনাড়ুর হয়ে খেলবেন ওয়াশিংটন সুন্দর। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে চলতি টি-টোয়েন্টি সিরিজ থেকে তাঁকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তের পিছনে রঞ্জি ট্রফিতে খেলার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। নিউজিল্যান্ড সফরের আগে টেস্ট দলে সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা মাথায় রেখে নিজের বোলিংকে আরও ধারালো করে তুলতে চাইবেন তিনি। সঙ্গে ব্যাটেও কিছু রান দরকার তাঁর।
সৌরাষ্ট্রের হয়ে খেলবেন রবীন্দ্র জাদেজা। বাঁহাতি স্পিনার এবং অলরাউন্ডার হিসেবে তাঁর অভিজ্ঞতা দলকে বাড়তি শক্তি দেবে। একই সঙ্গে আসন্ন টেস্ট সিরিজের আগে লাল বলের ক্রিকেটে ম্যাচ খেলার সুযোগও পাবেন তিনি।
জাতীয় দলের দরজা খোলাই লক্ষ্য শামির
এই রঞ্জি মরসুমে বাংলার ক্রিকেটপ্রেমীদের বিশেষ নজর থাকবে মহম্মদ শামির দিকে। দীর্ঘ দিন ভারতীয় দলের বাইরে রয়েছেন বাংলার এই অভিজ্ঞ পেসার। ২০২৩ সালের পর থেকে টেস্ট ক্রিকেট খেলেননি। ২০২৫ সালের পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের কোনও ফরম্যাটেই খেলেননি শামি। তবে ঘরোয়া ক্রিকেটে তাঁর পারফরম্যান্স জাতীয় দলে ফেরার আশা জিইয়ে রেখেছে।
গতবার রঞ্জি সেমিফাইনালে ৮ উইকেট নেন। মোট সাত ম্যাচে ৩৭টি উইকেট শিকার করেন। বিজয় হাজারে ট্রফিতে পান ১৫টি উইকেট।
আগামী বছরের শুরুতে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে পাঁচটি টেস্ট খেলবে ভারত। তার আগে বাংলার হয়ে রঞ্জিতে ধারাবাহিক ভাবে ভাল বল করতে পারলে নির্বাচকদের নজরে ফিরতে পারেন শামি। ভারতের টি-টোয়েন্টি দলে ভুবনেশ্বর কুমারের প্রত্যাবর্তনও অভিজ্ঞ পেসারের সামনে নতুন করে আশার আলো দেখাতে পারে।
শনিবার শামি বলেন, ‘ভুবনেশ্বর ভারতীয় দলে ফিরেছে, সে তো খুবই ভাল খবর। কিন্তু ওর দলে আসা নিয়ে আমার মাথাব্যথা নেই। যদি আমি ভারতীয় দলে খেলার সুযোগ না পাই, সে তো আর আমার ব্যর্থতা নয়’।
অজিত আগরকরের নির্বাচক কমিটি তাঁকে বিভিন্ন কারণে বাদ দিয়েছেন। কখনো বয়স, কখনো ফিটনেস, আবার কখনো ফর্মের কারণে। অথচ তাদের সব প্রশ্নের জবাব শামি মাঠেই দিয়েছেন। এবারও
তিনি বললেন, ‘আমি সুযোগ পেলে নিজের সেরাটাই দেব।’
বিকল্পদের তালিকা দীর্ঘ করার তাগিদ
শুধু শামি নন, বাংলার আরো দুই পেসার মুকেশ কুমার ও আকাশের ওপরেও নজর থাকবে নির্বাচকদের। তাঁদের নজর থাকবে আরও কয়েক জন অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের উপর। চোট-আঘাতের কারণে ভারতীয় দলের একাধিক ক্রিকেটার অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় বিকল্প খেলোয়াড়ের তালিকা আরও সমৃদ্ধ করতে চাইবেন নির্বাচকেরা।
রঞ্জি ট্রফি শুধু তারকাদের নিজেদের তৈরি করার মঞ্চ নয়, তরুণ ক্রিকেটারদের কাছে জাতীয় দলের নির্বাচকদের নজরে পড়ারও বড় সুযোগ। বিহারের বৈভব সূর্যবংশী ইতিমধ্যেই নিজের ব্যাটিং প্রতিভায় নজর কেড়েছেন। এ বার বিহারের আরও কয়েক জন ক্রিকেটার সেই আগ্রহকে কাজে লাগাতে চাইবেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাকিবুল গনি।
ঝাড়খণ্ডের ক্রিকেটেও উঠে আসছে একাধিক প্রতিভাবান ব্যাটার। কুমার কুশাগ্র, অনুকূল রায়, শিখর মোহন, বিরাট সিং এবং শরনদীপ সিং-দের দিকে নজর থাকবে। অন্য দিকে, তরুণ বোলারদের মধ্যে বিদর্ভের হর্ষ দুবে, তেলঙ্গানার ত্রিপুরানা বিজয় এবং উত্তরপ্রদেশের জিশান আনসারিরা নিজেদের প্রমাণ করতে চাইবেন।
রঞ্জি ট্রফির প্রথম পর্বে জাতীয় দলের তারকাদের উপস্থিতি প্রতিযোগিতার আকর্ষণ বাড়াবে। তবে মরসুম যত এগোবে, ততই সামনে আসবে নতুন মুখদের লড়াই। রাহুল-জাদেজাদের কাছে যেখানে লক্ষ্য টেস্ট ক্রিকেটের প্রস্তুতি, সেখানে শামির কাছে এই মরসুম হয়ে উঠতে পারে জাতীয় দলে ফেরার মঞ্চ।