নতুন বল হাতে নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংকে কার্যত ধসিয়ে দেন কাগিসো রাবাডা। তাঁকে যোগ্য সঙ্গত দেন স্পিনার সাইমন হার্মার। তৃতীয় টেস্টের শেষ দিনে অস্ট্রেলিয়াকে ১১১ রানে অলআউট করে দিয়ে বাজিমাত প্রোটিয়াদের।
কেপটাউনের নিউল্যান্ডসে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে তৃতীয় তথা সিরিজের শেষ টেস্টে জয়ের দিনের প্রথম সেশনেই জয়ের গন্ধ পেয়ে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা। আর সেই জয়ের জোড়া নায়ক রাবাডা ও হার্মার।
পঞ্চম দিন সকালে নতুন বল হাতে নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়ে যে তাণ্ডব চালান প্রোটিয়া পেসার, ওই ধাক্কাতেই ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় স্টিভ স্মিথের দল।
জয়ের জন্য অস্ট্রেলিয়ার সামনে লক্ষ্য ছিল ২৮৮ রান। কিন্তু পঞ্চম দিনের প্রথম সেশনেই ২৬ ওভারে ৬০ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে বসে তারা।
সকালে শুরু থেকেই আগুনে মেজাজে ছিলেন রাবাডা। ইনিংসের প্রথম ওভারেই অস্ট্রেলিয়াকে জোড়া ধাক্কা দেন তিনি। প্রথমে ম্যাট রেনশকে শূন্য রানে ফিরিয়ে দেন। এর পর সেই ওভারেই মার্নাস লাবুশেনকে এলবিডব্লিউ করেন রাবাডা। তাঁর ছেড়ে দেওয়া বল গিয়ে আঘাত করে প্যাডে।
এর পর ট্র্যাভিস হেডকেও ফেরান রাবাডা। ১৪ রান করে গালিতে ক্যাচ দেন তিনি। মাত্র ১৪ রান দিয়ে পাঁচ ওভারে তিন উইকেট তুলে নেন প্রোটিয়া পেসার।
৬০০ ক্লাবে রাবাডা
হেডের উইকেটটি ছিল রাবাডার টেস্ট কেরিয়ারের ৩৫০তম শিকার। দক্ষিণ আফ্রিকার চতুর্থ বোলার হিসাবে এই মাইলফলক স্পর্শ করলেন ৩১ বছরের পেসার। ৬০০ আন্তর্জাতিক উইকেটের মাইলফলকও স্পর্শ করলেন তিনি।
এই কৃতিত্ব অর্জন করা দক্ষিণ আফ্রিকার পঞ্চম বোলার হলেন তিনি। ২৬০টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে নিজের ৬০১তম উইকেটটি নিয়ে এই নজির গড়েন। দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি উইকেট নেওয়ার তালিকায় রাবাডার আগে রয়েছেন শন পোলক (৮২৩), ডেল স্টেইন (৬৯৭), মাখায়া এনটিনি (৬৬১) এবং অ্যালান ডোনাল্ড (৬০২)।
টেস্টের সংখ্যার নিরিখে ম্যালকম মার্শালের সঙ্গে যুগ্ম ভাবে চতুর্থ দ্রুততম বোলার হিসাবেও ৩৫০ উইকেটে পৌঁছেছেন রাবাডা। তাঁর আগে রয়েছেন রিচার্ড হ্যাডলি ও ডেল স্টেইন (৬৯ টেস্ট), ডেনিস লিলি (৭০ টেস্ট) এবং গ্লেন ম্যাকগ্রা (৭৪ টেস্ট)।
হার্মারের ঘূর্ণিঝড়েও পতন
রাবাডার ঝড় থামার পর অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংকে আরও বিপর্যস্ত করেন হার্মার। প্রথম ইনিংসে শতরান করা জশ ইংলিস রান আউট হয়ে ফেরেন চার রান করে। ৪০ রানে চার উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া।
এর পর হার্মারের বলে রিভার্স সুইপ খেলতে গিয়ে উইকেট দেন অ্যালেক্স ক্যারি। মাত্র দুই রান করে তাঁর ক্যাচ নেন মার্কো ইয়ানসেন। দু’বল পরেই কুপার কনোলিকে শূন্য রানে উইকেটকিপার রিকেলটনের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরান হার্মার।
এখানেই শেষ নয়। মধ্যাহ্নভোজের বিরতির ঠিক আগে মিচেল স্টার্ককেও ফিরিয়ে দেন তিনি। ২৫ বল খেলেও রানের খাতা খুলতে পারেননি স্টার্ক। আট ওভার বল করে মাত্র পাঁচ রান দিয়ে তিন উইকেট নেন হার্মার। তার মধ্যে পাঁচটি মেডেন ওভার।
লাঞ্চের পর ক্যামেরন গ্রিন, প্যাট কামিন্স, জশ হেজলউডকেও ফেরান হার্মার। তাঁর বোলিং বিশ্লেষণ ২১.১-১৪-১৬-৬। রাবাডার ১৪-৪-৩৯-৩।
প্রথম টেস্টে ২১৪ রানে জিতেছিল অস্ট্রেলিয়া। দ্বিতীয় টেস্টে ইনিংস ও ৩১ রানে জিতে সমতা ফেরায় দক্ষিণ আফ্রিকা। শেষ টেস্ট জিততে পারলে আইসিসি টেস্ট বিশ্ব ক্রমতালিকায় অস্ট্রেলিয়াকে টপকে এক নম্বরে উঠে আসবে দক্ষিণ আফ্রিকা।
২০১৬-র জানুয়ারির পর এই প্রথম সেই জায়গায় ফেরার সুযোগ রয়েছে প্রোটিয়াদের সামনে। প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়া ৪২৯ রান করেছিল। জবাবে দক্ষিণ আফ্রিকা প্রথম ইনিংসে ৩২৯ রান করে। দ্বিতীয় ইনিংসে রায়ান রিকেলটন ও উইয়ান মুল্ডারের শতরানে ভর করে ৩৮৭ রান তোলে তারা। ফলে অস্ট্রেলিয়ার সামনে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৮৮।
কিন্তু পঞ্চম দিন সকালে রাবাডা ও হার্মারের দাপটে সেই লক্ষ্য অস্ট্রেলিয়ার কাছে প্রায় অসম্ভব হয়ে ওঠে। কেপটাউনে সিরিজ জয়ের রাস্তা পরিষ্কার করে ফেলে দক্ষিণ আফ্রিকা।