বৈভব কেন প্রথম এগারোয় নেই, এই প্রশ্নে উত্তাল সমাজমাধ্যম, কী বললেন প্রাক্তনরা?

শুক্রবার আয়ারল্যান্ডের কাছে ভারতীয় দলের অপ্রত্যাশিত হারের জন্য ভারতীয় ক্রিকেপ্রেমীদের মধ্যে যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, তাও কম অপ্রত্যাশিত নয়। অনেকেই প্রশ্ন তুলছে কেন বৈভব সূর্যবংশীকে নেওয়া হল না প্রথম দলে, কেনই বা ওয়াশিংটন সুন্দরকে অযথা দলে রাখা হচ্ছে— এমন আরও প্রশ্ন।

যিনি ব্যাট হাতে নামলেই ঝড় তোলেন, সেই বৈভবের হাতে জলের বোতল এবং তোয়ালে দেখে ক্ষুব্ধ হন গ্যালারিতে থাকা ভারতীয় সমর্থকেরাও। বৈভব যখন বোতল-তোয়ালে নিয়ে বাউন্ডারি লাইনের ধার দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন, তখন তাঁকে কোচ-অধিনায়কের উদ্দেশে কটূক্তি করতে থাকেন সমর্থকেরা।

সুনীল গাভাসকর টিভিতে ধারাভাষ্য দেওয়ার সময় বেশ ক্ষুব্ধ হয়েই বলেন, “৬০ বছর ধরে ক্রিকেট দেখছি আমি। এত রাগ কোনও দিন হয়নি আমার। কী বাজে অধিনায়কত্ব হচ্ছে! বৈভবের জন্য খারাপ লাগছে। ওকে জল-তোয়ালে বয়ে মাঠে যেতে হবে আর রজত পাটিদার, যে আইপিএলে অত ভাল খেলল, সে দলেরই বাইরে! এই দল বাছাইকে কখনও মেনে নেবে না মানুষ”।


ওয়াশিংটন সুন্দরকে দলে রাখার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বীরেন্দ্র সেহবাগ বলেন, “শ্রেয়স আইয়ারের ক্যাপ্টেনসি আমি কিছু বুঝতে পারছি না। ভারতের ব্যাটিং নিয়ে যত কম বলা যায়, ততই ভাল। শুধু ছয়ের পর ছয় মারলেই ভাল খেলা হয় না। পরিস্থিতি অনুযায়ী খেলাটাই হল আসল কথা। দলের পারফরম্যান্স যদি এমন হয়, তা হলে কিন্তু সমস্যা হবে”।

তবে অন্য কথা বলছেন প্রাক্তন তারকা স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিন। তিনি মনে করেন, এখনই তাড়াহুড়ো করে খেলানোর দরকার নেই বৈভব সূর্যবংশীকে।তাঁর মতে, বৈভবের প্রতিভা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই, কিন্তু এখনই তাঁকে তাড়াহুড়ো করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নামানোর প্রয়োজন নেই।

নিজের ইউটিউব চ্যানেলে অশ্বিন বলেন, “আমি জানি, অনেকেই চাইছেন বৈভব খেলুক। কিন্তু একটু ধৈর্য ধরুন। ওকে দলের সঙ্গে থাকতে দিন। দলের জন্য কাজ করতে দিন। প্রয়োজনে ড্রিঙ্কসও নিয়ে যাক। এই অভিজ্ঞতাগুলো থেকেও অনেক কিছু শেখা যায়। এখন ওকে জোর করে প্রথম একাদশে ঢোকানোর কোনও দরকার নেই। দলে যে ক্রিকেটাররা খেলছে, তাদের জায়গা পাওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। বৈভবের সময় অবশ্যই আসবে।”

ভারতীয় দলের বর্তমান ওপেনিং জুটির কথা উল্লেখ করে অশ্বিন বলেন, “অভিষেক শর্মা এবং সঞ্জু স্যামসনের মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটাররা যখন দলে রয়েছে, তখন টিম ম্যানেজমেন্ট তাদের ওপর ভরসা রাখতেই পারে। এটা সম্পূর্ণ ক্রিকেটীয় সিদ্ধান্ত। একটা ম্যাচের ফলাফলের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত বিচার করা ঠিক নয়। তরুণ ক্রিকেটারদের ধাপে ধাপে তৈরি করতে হয়। বৈভবের প্রতিভা নিয়ে কোনও প্রশ্ন নেই, কিন্তু ওর বিকাশের জন্য সঠিক পথটাই বেছে নেওয়া উচিত।”

উল্লেখ্য, আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ভারতের হয়ে ওপেন করেন অভিষেক শর্মা ও সঞ্জু স্যামসন। ফলে বৈভব সূর্যবংশীর আন্তর্জাতিক অভিষেকের জন্য অন্তত আরও অপেক্ষা করতে হবে। দ্বিতীয় ম্যাচেও যে তাঁকে দলে নেওয়া হবে, তারও কোনও নিশ্চয়তা নেই। তবে বেলফাস্টের মাঠে নামতে না পারলেও দর্শকদের কাছ থেকে উষ্ণ অভ্যর্থনা পেয়েছেন এই কিশোর ক্রিকেটার।
অন্যদিকে, টেস্ট ক্রিকেটেও বৈভব সফল হতে পারবেন কি না, এই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক ও প্রাক্তন প্রধান নির্বাচক দিলীপ ভেঙ্গসরকর। তিনি বৈভবের প্রতিভার ভূয়সী প্রশংসা করলেও, টেস্ট ক্রিকেট নিয়ে এখনই চূড়ান্ত মন্তব্য করতে নারাজ।

ভেঙ্গসরকর বলেন, “আমি নিশ্চিত, ও সুযোগ পাবে। আর সুযোগ পেলেই দু’হাত ভরে সেটাকে কাজে লাগাবে, কারণ ও খুবই ভালো ক্রিকেটার। সত্যি বলতে, ও এক কথায় অবিশ্বাস্য। ওর মধ্যে অসাধারণ সম্ভাবনা রয়েছে। ও যেসব শট খেলে, সেগুলোর অনেকগুলোই অবিশ্বাস্য। ওর ব্যাটিংয়ের ধরন একেবারেই আলাদা। ব্যাট সুইং এবং হাত-চোখের অসাধারণ সমন্বয়ের জোরে ও অনায়াসে বল মাঠের বাইরে পাঠাতে পারে। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে ও দুর্দান্ত খেলেছে। তবে টেস্টে ও কেমন করবে, তা এখনই বলা খুব কঠিন। কারণ, এই মুহূর্তে ও মূলত টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট খেলছে। আমি এখনও ওকে দীর্ঘ ফরম্যাটে খেলতে দেখিনি। তবে আমার বিশ্বাস, সুযোগ পেলে ও সেখানেও ভালো করবে। কিন্তু দীর্ঘ ফরম্যাটে ও কীভাবে খেলে, সেটা দেখার জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। কারণ ওই ফরম্যাটটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”