ফরাসি ওপেনের ফাইনালে পৌঁছে গেলেন পিভি সিন্ধু, সামনে বিশ্বের এক নম্বর! ফাইনাল নিয়ে কী বললেন কিংবদন্তি?

দীর্ঘ লড়াইয়ের পর ফরাসি ওপেনের ফাইনালে পৌঁছলেন ভারতীয় ব্যাডমিন্টনের কিংবদন্তি পিভি সিন্ধু। শনিবার সেমিফাইনালে জাপানের হিনা আকেচিকে ২১-১০, ২০-২২, ২১-১৬ গেমে হারালেন দু’বারের অলিম্পিক পদকজয়ী ভারতীয় শাটলার। ম্যাচ শেষ করতে সময় লাগল ১ ঘণ্টা ১৩ মিনিট। এ বার খেতাবের লড়াইয়ে তাঁর সামনে বিশ্বের এক নম্বর আন সেয়ং।

চলতি মরসুমে এটি সিন্ধুর দ্বিতীয় সুপার ৭৫০ প্রতিযোগিতার ফাইনাল। এর আগে জুলাই মাসে জাপান ওপেন জিতেছিলেন তিনি। সেই সাফল্যের পর ফরাসি ওপেনেও খেতাবের দৌড়ে পৌঁছে গেলেন ভারতের প্রাক্তন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন।

এ দিন ম্যাচের শুরুতে দুই শাটলারের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়। স্কোর প্রথমে ৪-৪ এবং পরে ৮-৮ হলেও বিরতিতে ১১-৯ ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন সিন্ধু। তার পর খেলার নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিয়ে নেন তিনি। শেষ ১২ পয়েন্টের মধ্যে ১১টি জিতে মাত্র ১৮ মিনিটে প্রথম গেম পকেটে পুরে নেন ভারতীয় তারকা।


দ্বিতীয় গেমে অবশ্য ছবিটা বদলে যায়। চার পয়েন্টে পিছিয়ে পড়েও লড়াইয়ে ফেরেন সিন্ধু। স্কোর ৭-৭ করার পর দু’জনের মধ্যে টানটান লড়াই চলে। ১৬-১৬ অবস্থায় সমতা ফেরান ভারতীয় শাটলার। কিন্তু শেষ দিকে চাপ সামলাতে পারেননি তিনি। ২০-২০ অবস্থায় গেম পয়েন্ট বাঁচালেও শেষ পর্যন্ত ২০-২২ ব্যবধানে গেমটি হারেন সিন্ধু। ফলে ম্যাচ গড়ায় নির্ণায়ক তৃতীয় গেমে।

শেষ গেমেও সহজে হার মানেননি আকেচি। শুরুতে এগিয়ে গেলেও সিন্ধু দ্রুত ব্যবধান কমান। একটা সময় ১৫-১৫ করে সমতা ফেরান জাপানের শাটলার। তখনই ম্যাচের মোড় ঘোরে।

দু’জনের মধ্যে ৩৮ শটের একটি দীর্ঘ র‌্যালি হয়। শেষ পর্যন্ত নেটে শট মেরে ভুল করেন আকেচি। সেই পয়েন্ট থেকে ১৮-১৬ ব্যবধানে এগিয়ে যান সিন্ধু। তার পর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে। শেষ পর্যন্ত ২১-১৬ ব্যবধানে গেম জিতে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেন ভারতীয় তারকা।

ম্যাচ জিতে খুশি হলেও এখনই আত্মতুষ্ট হতে চান না সিন্ধু। তাঁর কথায়, ‘ম্যাচটা জিততে পেরে এবং ফাইনালে উঠতে পেরে আমি খুশি। কিন্তু কাজ এখনও শেষ হয়নি। আরও একটি ম্যাচের জন্য আমাকে মন দিয়ে প্রস্তুতি নিতে হবে’।

ফাইনালে প্রতিপক্ষ বিশ্বের এক নম্বর আন সেয়ংকে নিয়ে সিন্ধু বলেন, ‘ওর বিরুদ্ধে আমাকে ভাল লড়াই করতে হবে, কঠিন লড়াই। প্রতিটি পয়েন্ট গুরুত্বপূর্ণ। আমরা অনেক বার একে অপরের বিরুদ্ধে খেলেছি। ও খুব ভাল খেলছে, দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছে। কিন্তু আগামীকাল সম্পূর্ণ নতুন একটা দিন। আমাকে কোর্টে নেমে নিজের সেরাটা দিতে হবে’।

আন সেয়ংয়ের বিরুদ্ধে অতীতের লড়াইয়ের পরিসংখ্যান সিন্ধুর পক্ষে নয়। রবিবারের ফাইনাল হবে তাঁদের মধ্যে আন্তর্জাতিক সার্কিটে ১১তম সাক্ষাৎ। এ বছর মুখোমুখি হবেন তৃতীয় বার। দক্ষিণ কোরিয়ার তারকাকে এখনও হারাতে পারেননি সিন্ধু। ফলে ফরাসি ওপেনের ফাইনাল তাঁর কাছে শুধু খেতাব জয়ের লড়াই নয়, সেই বাধা অতিক্রম করারও সুযোগ।

গত দেড় বছরে চোট এবং ধারাবাহিকতার অভাবে সমস্যায় পড়েছিলেন সিন্ধু। তবে এ বার প্রশিক্ষণের পদ্ধতিতে বদল এবং নতুন সাপোর্ট টিমই তাঁকে ছন্দে ফিরতে সাহায্য করেছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

বলেন, ‘গত দেড় বছরে অনেক ওঠাপড়ার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে। তাই নতুন করে শুরু করা এবং শারীরিক ও মানসিক ভাবে কোথায় দাঁড়িয়ে রয়েছি, তা বোঝা খুব জরুরি ছিল। আমরা একটা দল তৈরি করেছি এবং পরিস্থিতি বুঝে কাজ শুরু করেছি’।

কোচ ইরওয়ানসাহ আদিরামাতমার সঙ্গে কাজ করার পাশাপাশি স্পোর্টস সায়েন্স, ফিজিও এবং ফিটনেসের দিকেও বিশেষ নজর দিয়েছেন তিনি। সিন্ধু বলেন, ‘শুধু কঠোর পরিশ্রম করলেই হয় না, বুদ্ধি খাটিয়েও কাজ করতে হয়। শরীরের অবস্থা বুঝে সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি নেওয়াটা খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এই পদ্ধতি আমাদের কাজে দিয়েছে’। জুলাইয়ে জাপান ওপেন জয়ের পর এ বার ফরাসি ওপেনেও খেতাবের হাতছানি। শেষ বাধা বিশ্বের এক নম্বর তারকা।