হতাশ করলেন পিভি সিন্ধু, নাগোয়ায় ব্যাডমিন্টন থেকে মাত্র একটি পদক, কেন এই বেহাল দশা ভারতের?

Photo: X

এশিয়ান গেমসে তাঁকে নিয়ে অনেক আশা ছিল দেশের ক্রীড়াপ্রেমীদের। কিন্তু আইচি নাগোয়ায় চরম হতাশ করলেন ব্যাডমিন্টন তারকা পিভি সিন্ধু। এ বারের এশিয়ান গেমস থেকে পদক আনতে পারলেন না হায়দরাবাদি তারকা। সত্যি বলতে, ব্যাডমিন্টনের সিঙ্গলস ইভেন্ট থেকে একটিও পদক এল না এ বার।

দুবারের অলিম্পিক্স পদকজয়ী সিন্ধু রবিবার অলিম্পিক্স চ্যাম্পিয়ন চিনের চেন ইউ ফেই-এর কাছে হেরে যান সিঙ্গলস কোয়ার্টার ফাইনালে। প্রথম গেমে জিতেও শেষ পর্যন্ত সিন্ধু হেরে যান ২১-১১, ১৮-২১, ১০-২১-এ। শেষ গেমে প্রায় আত্মসমর্পণ করে বসেন ভারতীয় তারকা। অপর কোয়ার্টার ফাইনালে হেরে যান উন্নতি হুডাও। ফলে এ বার ব্যাডমিন্টনের সিঙ্গলস ইভেন্ট থেকে ভারত একটিও পদক আনতে পারল না। পুরুষদের দলগত ব্রোঞ্জই চলতি এশিয়াডে ভারতীয় ব্যাডমিন্টন থেকে আসা একমাত্র পদক।

জুলাইয়ে জাপান ওপেন সুপার ৭৫০-এ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর সিন্ধুকে নিয়ে অনেকেই স্বপ্ন দেখেছিলেন। অনেকেই ভেবেছিলেন সিঙ্গলস থেকে একটি পদক জিতে আনবেনই তিনি। কিন্তু ভক্তদের মন ভেঙে দিয়ে খালি হাতেই ফিরতে হচ্ছে তাঁকে।


২০১৪-য়.চিনের ইনচিয়নে মেয়েদের টিম ইভেন্টে ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন সিন্ধু। জাকার্তায় ২০১৮-য় মেয়েদের সিঙ্গলসে রুপো জিতে ইতিহাসও গড়েছিলেন তিনি। কিন্তু তার পর থেকে আর কোনো এশিয়ান গেমসে সাফল্য পাননি ভারতের ব্যাডমিন্টন তারকা। ২০২২-এ হাংঝৌয়েও সিঙ্গলসের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে হেরে যান। টিম ইভেন্টেও ভারতীয় দলে ছিলেন, কিন্তু পঞ্চম স্থানে থেকে শেষ করেন ভারতের মেয়েরা।

গত মাসেই বিশ্ব ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়নশিপে ব্রোঞ্জ জিতে আসা তৃষা জলি ও গায়ত্রী গোপিচাঁদের জুটিও চলতি এশিয়াডের মেয়েদের ডাবলসে কোয়ার্টার ফাইনালে হেরে বিদায় নেন। মিক্সড ডাবলসেও ভারতের জুটি ধ্রুব কাপিলা ও তনিশা ক্রাস্টো বিশ্বের এক নম্বর জুটির বিরুদ্ধে আশা জাগিয়েও শেষে হার স্বীকার করে নেন।

গতবার, হাংঝৌ-তে ভারত ব্যাডমিন্টন থেকে তিনটি পদক পেয়েছিল। পুরুষদের দলগত রুপো, সাত্বিক-চিরাগ জুটির ডাবলসে সোনা এবং এইচএস প্রণয়ের সিঙ্গলসে ব্রোঞ্জ। কিন্তু এ বার একটি ব্রোঞ্জ নিয়েই দেশে ফিরতে হচ্ছে ব্যাডমিন্টন দলকে।

এই ব্যর্থতার জন্য অনেকে ঠাসা ক্রীড়াসূচিকে দায়ী করছেন। অভিযোগ উঠেছে, সিন্ধু, উন্নতি ও আয়ূষ শেট্টিকে শনিবার কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুটি করে ম্যাচ খেলতে হয়। তার পরে সিন্ধুকে রবিবার সকালেই কোয়ার্টার ফাইনালে নামতে হয়। বলা যায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাঁকে তিনটি ম্যাচ খেলতে হয়। সেই ক্লান্তির জন্যই হয়তো ব্যর্থ হন তিনি।