সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের বদলে তাকে ‘ফুটবল ফেডারেশন অফ ভারত’ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু শনিবার সেই প্রস্তাব নাকচ হয়ে গেল ফেডারেশনের বিশেষ সাধারণ সভায়। আরও বড় খবর হল, এই বৈঠকের আইনি বৈধতা নিয়েই উঠে গেল প্রশ্ন। ফেডারেশনের এক সদস্য চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন, তিনি এই সভার বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হবেন।
এ দিন ফেডারেশনের সভাপতি কল্যাণ চৌবে স্বয়ং ভারতীয় ফুটবলের নিয়ামক সংস্থার নাম পাল্টে ‘ফুটবল ফেডারেশন অফ ভারত’ করার প্রস্তাব দেন। ভারতীয় ফুটবলের নিয়ামক সংস্থার এই নামকরণই যথার্থ বলে মনে করেন তিনি।
গত মরশুমে ইন্ডিয়ান সুপার লিগ সঠিক সময়ে করতে না পারায় এবং এই লিগকে শেষ পর্যন্ত ছোট করে আয়োজন করায় এমনিতেই ভারতীয় ফুটবল মহলে প্রাক্তন ফুটবলার কল্যাণ চৌবের ইমেজ আপাতত খুব একটা ভাল নয়। শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ক্রীড়া মন্ত্রককে হস্তক্ষেপ করে আইএসএল সম্পন্ন করতে হয়। এমনকী আগামী মরসুমের আইএসএল নিয়েও এখন পর্যন্ত কোনও নিশ্চয়তা দিতে পারেনি কল্যাণের নেতৃত্বাধীন ফেডারেশন।
আগামী ২০ বছরের জন্য ফেডারেশনের মার্কেটিং পার্টনার পেতে টেন্ডার ডাকার পর একটি বিদেশি সংস্থা ‘জিনিয়াস স্পোর্টস’ বড় অঙ্কের আর্থিক প্রস্তাব দিলেও তা ক্লাবগুলির মোটেই পছন্দ হয়নি। কারণ, এই প্রস্তাব মেনে নিলে ক্লাবগুলি আর্থিক ক্ষতির সন্মুখীন হত। সেই অনুমান করেই আইএসএলে খেলা অন্তত চার-পাঁচটি ক্লাব তাদের কার্যকলাপ বন্ধ করে দেওয়ার পরিকল্পনা শুরু করে।
শেষ পর্যন্ত ক্লাবগুলির জোট আগামী দুবছর নিজেরাই আইএসএল চালানোর প্রস্তাব দেয় ফেডারেশনকে এবং ক্রীড়ামন্ত্রকের হস্তক্ষেপে সেই প্রস্তাব প্রাথমিক ভাবে মেনেও নেন ফেডারেশনের শীর্ষকর্তারা। কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী ফেডারেশনের এক্সিকিউটিভ কমিটির সদস্যদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে, তাদের বেশিরভাগের সম্মতি না নিলে ফেডারেশনের পক্ষে সরকারি ভাবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়।
শনিবার বিশেষ সাধারণ সভা ডাকা হয় এই বিষয়ে আলোচনার জন্যই। এবং এই সভাতেই ফেডারেশনের নাম বদলের প্রস্তাব দেন কল্যাণ। কিন্তু ওয়েস্টার্ন ইন্ডিয়া ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের তরফে মন্তব্য করা হয়, ফেডারেশনের বর্তমান কমিটির মেয়াদ যেখানে আর বড়জোর ছ’মাস এবং তার পর নতুন কমিটির ক্ষমতায় আসার কথা, তাই নামবদলের ভাবনা ও সিদ্ধান্ত তাদের ওপরই ছেড়ে দেওয়া হোক। ফলে এই বিষয়ে আলোচনা আর বেশিদূর গড়ায়নি।
কিন্তু তার চেয়েও বড় যে ঘটনাটি ঘটে, তা হল ফেডারেশনের এক সদস্য সভাটিকে “প্রাথমিকভাবে অবৈধ” (prima facie illegal) এবং সুপ্রিম কোর্টের রায়ে’র “অবমাননাকর” (contemptuous) বলে অভিযোগ তুলে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার হুমকি দিয়েছেন।শনিবার ভার্চুয়াল বৈঠক শুরু হওয়ার কয়েক মিনিট আগে পাঠানো এক চিঠিতে গোয়া ফুটবল সংস্থার সদস্য ভালেঙ্কা আলেমাও উল্লেখ করেন যে ২০২৫-এর ১৯ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্ট অনুমোদিত এবং ওই বছরেরই ১২ অক্টোবর ফেডারেশনে গৃহীত সংবিধান অনুযায়ী গভর্নিং বডিতে ১৫ জন বিশিষ্ট খেলোয়াড়, তিনজন ক্লাব প্রতিনিধি (আইএসএল, আই-লিগ এবং আইডব্লিউএল থেকে একজন করে), রেফারিদের দু’জন প্রতিনিধি (একজন পুরুষ ও একজন মহিলা) এবং কোচদের দু’জন প্রতিনিধি (একজন পুরুষ ও একজন মহিলা) থাকার কথা। সংবিধানের ২০.২ নম্বর অনুচ্ছেদে এ বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ফেডারেশন দেশের সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশ অমান্য করেছে বলে অভিযোগ করে এই সদস্য জানান, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে আবেদনপত্র আহ্বান করা হলেও সংবিধান অনুযায়ী বাধ্যতামূলক ভাবে ফুটবলার, কোচ ও রেফারিদের জাতীয় সংস্থা এখনও গঠন করতে পারেনি AIFF।
চিঠিতে বলা হয়েছে, “মাননীয় সুপ্রিম কোর্টের রায় মেনে জেনারেল বডি গঠন না করে সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন সংবিধানের কোনো অতিরিক্ত সংশোধন বা সাংবিধানিক বিষয়সংক্রান্ত কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলে তা প্রাথমিকভাবে অবৈধ বলে গণ্য করা হবে এবং এ ধরনের পদক্ষেপ আদালতের অবমাননার শামিল।”
সম্ভবত এই অভিযোগ নিয়ে আদালতেও যাচ্ছেন ভালেঙ্কা আলেমাও। ফেডারেশনের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ নিয়েই তিনি হয়তো সর্বোচ্চ আদালতে যাবেন। সেক্ষেত্রে আদালতের প্রতিক্রিয়া কী হয়, সেটাই দেখার। জানা গিয়েছে যে কারণে এই বৈঠক ডাকা হয়েছিল, আইএসএলের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ নিয়ে, সেই বিষয়ে কোনও ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়নি। অর্থাৎ, আইএসএলের ভাগ্য এখনও ঝুলেই রইল বলা যায়।