রাজ্য ক্রিকেট সংস্থা সিএবি-র শতবর্ষ উপলক্ষ্যে বিশেষ টুর্নামেন্ট করার পরিকল্পনা রয়েছে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়দের। বৃহস্পতিবার সংস্থার বার্ষিক সাধারণ সভায় এই প্রস্তাব গৃহিত হয়। ঠিক হয়েছে ২০২৮-এ সিএবি-র শতবর্ষে একটি ঝাঁ চকচকে টুর্নামেন্ট বা ম্যাচ আয়োজন করা হবে। শতবর্ষ উদযাপনের জন্য একাধিক বিশেষ অনুষ্ঠানেরও পরিকল্পনা করা হবে বলে এই সভায় ঠিক হয়েছে।
এ দিন ইডেনে সভার পরে সিএবি সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, ‘আমরা সিএবি-র শতবর্ষ উদযাপন করব। আজকের সভায় অন্যান্য আলোচনা ছাড়াও এই প্রস্তাব এসেছে’। সিএবি-র ৭৫ বছর পূর্তিতে ভারত-পাকিস্তান বিশেষ ম্যাচের আয়োজন করা হয়েছিল। সেই ম্যাচ উপলক্ষে ইমরান খান, ওয়াসিম আক্রম, জাহির আব্বাসের মতো প্রাক্তন অধিনায়কদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। দুই দেশের প্রাক্তন অধিনায়কদের ইডেন প্রদক্ষিণ করানো হয়েছিল সেই বিশেষ ম্যাচের বিরতিতে।
১৯৯৩-এ, ৬০ বছর পূর্তিতে আয়োজন করা হয়েছিল একটি গোটা টুর্নামেন্টের, যা হিরো কাপ নামে পরিচিত ছিল। ভারত, শ্রীলঙ্কা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবোয়ে সেই টুর্নামেন্টে খেলেছিল। এ বার শতবর্ষ পূর্তিতে সেই প্রথা অনুসরণ করেই একটি বিশেষ ম্যাচ বা টুর্নামেন্ট আয়োজন করার পরিকল্পনা নিয়েছে সিএবি।
এ দিনের সভায় বিধায়ক সৌরভ শিকদার এই প্রস্তাব দেন। সভা থেকে বেরিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা সিএবি-র শতবর্ষকে স্মরণীয় করে রাখার পরিকল্পনা নিয়েছি। আশা করি, সবাই মিলে উদ্যোগ নিলে এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী চললে শতবর্ষে ভাল কিছু করা যাবে’।
সৌরভ জানান, ‘বিশেষ ম্যাচ বা টুর্নামেন্ট করতে গেলে বিসিসিআই-এর অনুমতি ও সাহায্য প্রয়োজন। আমরা বিসিসিআই-এর সঙ্গে কথা বলব, যাতে এমন একটা কিছু করা যায়’। ম্যাচ বা টুর্নামেন্ট ছাড়াও আরও বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শতবর্ষ উদযাপন করা হবে বলে জানান সৌরভ।
এ দিনের সভায় উপস্থিত ছিলেন আর এক বিধায়ক রীতেশ তিওয়ারি। তিনি ক্লাব ক্রিকেটে বয়স ভাঁড়ানোর কেলেঙ্কারি নিয়ে তদন্তের দাবি তোলেন। সংশ্লিষ্ট সমস্ত কর্তৃপক্ষ ও ব্যক্তিদের এই বিষয়ে এগিয়ে আসার অনুরোধ করেন। প্রয়োজন পড়লে রাজ্য সরকারের সাহায্য নেওয়ারও প্রস্তাব দেন। পুলিশ, সিআইডি-র সাহায্যে এই অপরাধের মূলে পৌঁছে তা উচ্ছেদ করার প্রস্তাবও দেন।
এই প্রস্তাব নিয়ে সৌরভ বলেন, ‘এই প্রস্তাব এসেছে আজকের সভায়। এই নিয়ে আলোচনা করতে হবে। বিষয়টা নিয়ে এগোতে হলে আরো আলোচনা প্রয়োজন’।
এর আগে সংস্থার পদে ন’বছর বা তার বেশি থাকা বা ৭০ বছর বয়সের বেশি বয়সী সদস্যদের ভোটাধিকার ও বার্ষিক সভায় উপস্থিত থাকা নিয়ে অনেকেই আপত্তি তুলেছিলেন। সেই আপত্তি এদিনের সভায় অবশ্য ওঠেনি। ফলে এ দিনের সভায় অনেকেই ছিলেন, যাদের নিয়ে এই অভিযোগ, তারা অনেকেই এ দিনের সভায় উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু তাদের নিয়ে কোনো আপত্তি তোলা হয়নি।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে সৌরভ জানান, ‘কেন আপত্তি উঠেছে আমি জানিনা। দেশের অন্যান্য রাজ্য ক্রিকেট সংস্থায় সব সভাতেই ন’বছরের বেশি পদে থাকা ও ৭০ বছরের বেশি বয়সীরা সভায় থাকেন ও ভোটও দেন। আমরা সংস্থার সংবিধানের নিয়ম মেনেই সভা করি। যদি কেউ সংবিধানে বদল আনতে চান, তা হলে তাঁকে আদালতে যেতে হবে। কারণ, আদালতের সুপারিশ অনুযায়ীই আমাদের সংবিধান তৈরি হয়েছে’।