ইডেনে বাংলার লজ্জার হার! ১০ উইকেটে জিতে অভিমন্যুদের টপকে গ্রুপ শীর্ষে মহারাষ্ট্র, জয়ের নায়ক পৃথ্বী শ

Photo: X

সাতসকালে বাংলার ব্যাটিং দেখতে হাজির সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। কিছুক্ষণ বসে অভিষেক পোড়েলদের ব্যাটিং দেখেন তিনি। কিছুক্ষণের মধ্যেই ৮৪ বলে ৬৫ করে আউট অভিষেক। বিরক্ত হয়ে উঠে পড়লেন সৌরভ। বাংলা তখন রঞ্জি ট্রফির ম্যাচে রীতিমত হার বাঁচানোর লড়াই করছে।

এমন বিপর্যয় কল্পনা করেননি সমর্থকেরাও। ঘরের মাঠে মহারাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ১০ উইকেটে হারতে হল অভিমন্যু ঈশ্বরণদের। যারা গত তিন ম্যাচে টানা জিতে এসেছে।

২০২৪-এর ফেব্রুয়ারিতে রঞ্জি ট্রফিতে শেষবার এই মাঠে হেরেছিল বাংলা। মুম্বইয়ের কাছে, ইনিংস ও ৪ রানে। বোনাস পয়েন্ট সহ জিতেছিলেন শিবম দুবেরা। ২০২৬-এর নভেম্বরে ফের বাংলার বিপর্যয় ইডেন গার্ডেন্সে। এবার মহারাষ্ট্রের কাছে। বোনাস সহ সাত পয়েন্ট পেলেন পৃথ্বী শ-রা।


কাকতালীয় হলেও, ২০২৪-এ মুম্বইয়ের হয়ে ইনিংস ওপেন করেছিলেন পৃথ্বী। এখন তিনি মহারাষ্ট্রের অধিনায়ক। আড়াই বছরের ব্যবধানে ইডেনে বাংলার দুই পরাজয়ের সাক্ষী। শুধু হার নয়, এই পরাজয়ের ফলে গ্রুপ সি-র শীর্ষস্থানও হাতছাড়া করল বাংলা।

ব্যাট হাতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে মহারাষ্ট্রকে বড় জয় এনে দিলেন অধিনায়ক পৃথ্বী শ। দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৫০ বলে অপরাজিত ৫৩ রান করে ম্যাচ শেষ করে দেন তিনি। তাঁর সঙ্গে অপরাজিত থাকেন শচীন ধাস (৬১)।

বৃহস্পতিবার ইডেন গার্ডেন্সে ম্যাচের চতুর্থ তথা শেষ দিনে জয়ের জন্য মহারাষ্ট্রের প্রয়োজন ছিল ১১২ রান। হাতে ছিল ১০ উইকেট। সেই রান তুলতে মাত্র ১৯.৪ ওভার সময় নেন পৃথ্বীরা। কোনও উইকেট না হারিয়ে ১১৪ রান তুলে ম্যাচ জিতে নেয় মহারাষ্ট্র।

দ্বিতীয় ইনিংসেও ব্যাটিং বিপর্যয়

প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৪৩ রানে শেষ হয়ে গিয়েছিল বাংলার ইনিংস। জবাবে মহারাষ্ট্র তোলে ২১৮ রান। ফলে প্রথম ইনিংসে ৭৫ রানের গুরুত্বপূর্ণ লিড পেয়ে যায় তারা। দ্বিতীয় ইনিংসে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ থাকলেও ব্যাটিং ব্যর্থতা কাটিয়ে উঠতে পারেনি বাংলা।

দ্বিতীয় ইনিংসে ৫৪.৪ ওভারে ১৮৬ রানে অল আউট হয়ে যায় অভিমন্যুর দল। অর্থাৎ প্রথম ইনিংসের তুলনায় কিছুটা উন্নতি হলেও মহারাষ্ট্রকে বড় টার্গেট দিতে পারেনি তারা। বাংলার হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন অভিষেক পোড়েল। অন্য দিকে, সুমন্ত গুপ্ত করেন ৯৩ বলে ৫৯ রান।

এক সময় ৮৭ রানে ছয় উইকেট হারিয়ে প্রবল চাপে পড়েছিল বাংলা। সেখান থেকে সপ্তম উইকেটে ৬৪ রান যোগ করেন পোড়েল ও সুমন্ত। তাঁদের লড়াইয়ে ইনিংসের সম্মান কিছুটা রক্ষা হয়। কিন্তু পোড়েল ফিরে যাওয়ার পর আর বেশি দূর এগোতে পারেনি বাংলার ইনিংস। সুমন্তও শেষ ব্যাটার হিসাবে আউট হন।

মহারাষ্ট্রের হয়ে বল হাতে চারটি করে উইকেট নেন প্রদীপ দাধে (৪৮ রানে ৪ উইকেট) এবং হিতেশ ওয়ালুঞ্জ (৫৩ রানে ৪ উইকেট)। তনয় সাঙ্ঘভি নেন দু’টি উইকেট।

পৃথ্বীর ব্যাটে স্বস্তির জয় মহারাষ্ট্রের

জয়ের জন্য ১১২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিলেন পৃথ্বী। ৫০ বলে ৫৩ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি। তাঁর ইনিংসে ছিল তিনটি চার ও চারটি ছক্কা। অন্য প্রান্তে আরও আগ্রাসী ব্যাটিং করেন সচিন ধাস। ৬৮ বলে ৬১ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি। তাঁর ব্যাট থেকে আসে ১০টি চার।

প্রথম ইনিংসে পৃথ্বী শ-র অফস্টাম্প ছিটকে দিয়েছিলেন মহম্মদ শামি। সেই পৃথ্বী দ্বিতীয় ইনিংসে ৪৬ বলে হাফসেঞ্চুরি করেন। শাহবাজ আহমেদকে মাথার ওপর দিয়ে ছক্কা মারেন। বল গিয়ে পড়ে সোজা সাইটস্ক্রিনে।

মাত্র ১৯.৪ ওভারেই বিনা উইকেটে ১১৪ রান তুলে নেয় মহারাষ্ট্র। চার দিনের লড়াইয়ের শেষে বাংলাকে ১০ উইকেটে হারিয়ে মাঠ ছাড়েন পৃথ্বীরা।

এই ম্যাচে মহারাষ্ট্রের জয়ের অন্যতম কারিগর তনয় সাঙ্ঘভি। প্রথম ইনিংসে অপরাজিত ৬০ রান করার পাশাপাশি দুই ইনিংস মিলিয়ে পাঁচটি উইকেট নেন তিনি। তাঁর অলরাউন্ড পারফরম্যান্সের জন্য ম্যাচের সেরা নির্বাচিত হন সাঙ্ঘভি।

আগের ম্যাচে ১০ উইকেট নেওয়া প্রদীপ্ত এই ম্যাচে উইকেট শূন্য। ব্যাটারদের কথা যত কম লেখা যায়, ততই ভাল। এবারের রঞ্জি ট্রফিতে চার ম্যাচের সাত ইনিংসে পাঁচবার দুশোও স্পর্শ করতে পারল না বাংলা।

এই জয়ের ফলে মহারাষ্ট্র সাত পয়েন্ট পেয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে বোনাস পয়েন্টও। ফলে গ্রুপ সি-তে তাদের মোট পয়েন্ট দাঁড়াল ১৯। অন্য দিকে, এই হারের পর ১৮ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে নেমে গেল বাংলা।

বৃষ্টি, মেঘলা আবহাওয়া এবং খারাপ আলোর কারণে কলকাতার এই ম্যাচে গত চার দিনে বার বার খেলা বিঘ্নিত হয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই প্রতিকূলতার মধ্যেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রেখে বড় জয় তুলে নিল মহারাষ্ট্র।

ম্যাচের সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলা: প্রথম ইনিংস ১৪৩ এবং দ্বিতীয় ইনিংস ১৮৬ (অভিষেক পোড়েল ৬৫, সুমন্ত গুপ্ত ৫৯; প্রদীপ দাধে ৪/৪৮, হিতেশ ওয়ালুঞ্জ ৪/৫৩)।
মহারাষ্ট্র: প্রথম ইনিংস ২১৮ এবং দ্বিতীয় ইনিংস ১১৪/০ (সচিন ধাস ৬১*, পৃথ্বী শ ৫৩*)।
ফল: মহারাষ্ট্র ১০ উইকেটে জয়ী।
ম্যাচের সেরা: তনয় সাঙ্ঘভি।