ব্যাট হাতে সেঞ্চুরি। বল হাতে ১০ উইকেট। ছিল দলের অন্যান্য ক্রিকেটারদের কার্যকরী অবদানও। রঞ্জি ট্রফির (Ranji Trophy) ম্যাচে কেরলের বিরুদ্ধে আগাগোড়া দাপট দেখিয়ে ২৮৭ রানে জয় ছিনিয়ে নিল বাংলা। এই জয়ের দুই নায়ক শাহবাজ আহমেদ এবং প্রদীপ্ত প্রামাণিক। শাহবাজের দুরন্ত শতরানের পরে বল হাতে প্রতিপক্ষের ব্যাটিংকে তছনছ করে দিলেন প্রদীপ্ত (Pradipta Pramanik)। দুই ইনিংস মিলিয়ে তাঁর ঝুলিতে এল ১০ উইকেট।
বাংলার এই জয়ে অধিনায়ক অভিমন্যু ঈশ্বরণ, সুমন্ত গুপ্ত এবং অঙ্কুর পালেরও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। সব মিলিয়ে ব্যাটিং ও বোলিং—দুই বিভাগেই প্রতিপক্ষের তুলনায় অনেকটা এগিয়ে ছিল বাংলা।
বাংলার ইনিংসে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অবদান শাহবাজের। ২০৩ বল খেলে ১২১ রানের দুরন্ত ইনিংস খেলেন তিনি। ধৈর্য এবং দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ের মিশেলে দলের রানকে শক্ত ভিতের উপর দাঁড় করিয়ে দেন এই অলরাউন্ডার।
শাহবাজের সেঞ্চুরি বাংলাকে বড় রান তুলতে সাহায্য করে। অধিনায়ক অভিমন্যু ঈশ্বরণ-সহ অন্য ব্যাটারদের অবদানও দলকে এগিয়ে নিয়ে যায়। সুমন্ত গুপ্ত এবং অঙ্কুর পালও দলের প্রয়োজনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
শুধু ব্যাট হাতেই নয়, বল হাতেও কার্যকর ছিলেন শাহবাজ। ম্যাচে দুই ইনিংস মিলিয়ে তাঁর বোলিং পরিসংখ্যান ২-২২ এবং ২-১৯। অর্থাৎ, দুই ইনিংসে দু’টি করে উইকেট নিয়ে কেরলের ব্যাটিংয়ের উপর চাপ বজায় রাখেন তিনি।
তবে ম্যাচের সেরা আকর্ষণ প্রদীপ্ত প্রামাণিকের (Pradipta Pramanik) বোলিং। দুই ইনিংস মিলিয়ে ১০ উইকেট তুলে নিয়ে কেরলের ব্যাটিংয়ের মেরুদণ্ড ভেঙে দেন তিনি। তাঁর এই অসাধারণ পারফরম্যান্সই বাংলার বড় ব্যবধানে জয়ের অন্যতম প্রধান কারণ।
ম্যাচের পর নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে উচ্ছ্বসিত প্রদীপ্ত বলেন, ‘একটা ম্যাচে ১০ উইকেট নেওয়া আমার কাছে বিশেষ মুহূর্ত। এটা আমার কাছে অত্যন্ত গর্বের। তবে সবচেয়ে বেশি ভাল লাগছে, দলের জয় এবং সাফল্যে অবদান রাখতে পেরেছি বলে। পরের ম্যাচগুলোতেও এই ছন্দ ধরে রাখা এবং বাংলাকে জেতানোই এখন আমার লক্ষ্য’।
প্রদীপ্তর (Pradipta Pramanik) এই মন্তব্য থেকেই স্পষ্ট, ব্যক্তিগত সাফল্যের থেকেও দলের জয়কে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। মরসুমের পরবর্তী ম্যাচগুলিতেও এই পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চান বাংলার এই বোলার।
আগের দিন, বুধবার কেরলের প্রথম ইনিংসে শেষ চার উইকেট পড়ার পর বাংলার দ্বিতীয় ইনিংসে দশ উইকেট এবং কেরলের দ্বিতীয় ইনিংসের প্রথম চার উইকেট পড়ে। সব মিলিয়ে এক দিনে আঠারো উইকেট পড়ে।
আরও পড়ুন: মেসিকে হারিয়ে সর্বকালের সেরা রোনাল্ডো! ব্যালন ডি’অরের ইতিহাসে নতুন স্বীকৃতি ক্রিশ্চিয়ানোর
তাতেই বাংলার টানা তৃতীয় জয় প্রায় নিশ্চিত হয়ে যায়। গতকাল দিনের শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে ৫৩ রানের মধ্যেই চার উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে গিয়েছিল কেরল। ফলে শেষ দিনে বাংলার জয়ের সম্ভাবনা ছিল প্রবল। বাকি কাজটুকু করতে বেশি সময় নেননি বোলাররা। চতুর্থ দিনে স্কোরবোর্ডে মাত্র ৬৭ রান যোগ করেই শেষ ছ’টি উইকেট হারায় কেরল। দিল্লি, সার্ভিসেসের পর এ বার কেরলও জয় করল বাংলা। তাদের বিজয়রথ তরতর করে এগিয়ে চলেছে।
রঞ্জি ট্রফির (Ranji Trophy) মতো দীর্ঘ পরিসরের ক্রিকেটে বড় জয় পেতে হলে ব্যাটিং ও বোলিং—দুই বিভাগেই ধারাবাহিকতা প্রয়োজন। কেরলের বিরুদ্ধে সেই কাজটাই করে দেখাল বাংলা। শাহবাজের শতরান, প্রদীপ্তর (Pradipta Pramanik) ১০ উইকেট এবং দলের অন্য ক্রিকেটারদের সম্মিলিত অবদান ম্যাচের রং বদলে দেয়।২৮৭ রানের বিশাল ব্যবধানে জয় শুধু বাংলার শক্তির পরিচয় নয়, দলের আত্মবিশ্বাসও বাড়াবে।
তিন ম্যাচে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে এলিট সি গ্রুপের শীর্ষে বাংলা। এর পর নভেম্বরে মহারাষ্ট্র, কর্নাটকের বিরুদ্ধে ম্যাচ বাংলার। জানুয়ারিতে গুজরাত, ওড়িশা, ঝাড়খণ্ডের বিরুদ্ধে। মাঝে মুস্তাক আলি ট্রফি ও বিজয় হাজারে ট্রফির খেলাও রয়েছে। রঞ্জির বাকি ম্যাচগুলিতে এই ছন্দ ধরে রাখতে পারলে প্রতিযোগিতায় আরও ভাল জায়গায় পৌঁছনোর সুযোগ থাকবে অভিমন্যুদের সামনে।
দেখুন: কর্ণজোড়া Auditorium-এ প্রশাসনিক বৈঠক, বিভিন্ন বিষয়ে পর্যালোচনায় মুখ্যমন্ত্রী