একদিকে যখন লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক ফুটবলে বিদালগ্নে কেঁদে ভাসাচ্ছে তাঁর দেশের মানুষ, সেখানে আর এক ফুটবল কিংবদন্তি ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর আন্তর্জাতিক ফুটবল জীবনে প্রায় জোর করে ইতি টেনে দিল তাঁর দেশের ফুটবল ফেডারেশন। সাসপেন্ড করা হল সিআর সেভেনকে!
তাঁর ‘অপরাধ’ পর্তুগালের কোচ জর্জ জেসুসের সঙ্গে বিবাদের জেরে জাতীয় দলের শিবির ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছিলেন রোনাল্ডো। এ বার তাঁর বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের তদন্ত শুরু করে তাঁকে সাময়িক ভাবে সাসপেন্ড করল পর্তুগাল ফুটবল ফেডারেশন। নিজের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চাইলেও শাস্তির মুখে পড়তে হল ৪১ বছরের মহাতারকাকে।
জাতীয় দলের জার্সিতে রোনাল্ডোর ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা চলছিলই। এ বার সেই বিতর্কে এল এক নতুন মোড়। শনিবার তাঁকে সাময়িক ভাবে সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই ঘটনায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।
কী হয়েছিল রোনাল্ডোর সঙ্গে?
বিতর্কের সূত্রপাত উয়েফা নেশনস্ লিগের ম্যাচ ঘিরে। নরওয়ের বিরুদ্ধে পর্তুগালের জয়ের ম্যাচে রিজার্ভ বেঞ্চে বসেছিলেন রোনাল্ডো। পরের ম্যাচে ডেনমার্কের বিরুদ্ধে ম্যাচেও তাঁকে প্রথম একাদশে রাখা হবে না বলে জানান কোচ জর্জ জেসুস। সেই সিদ্ধান্তের পরেই জাতীয় দলের শিবির ছাড়েন পর্তুগালের অধিনায়ক।
রোনাল্ডোর দাবি, তাঁকে নিয়ে কোচের সঙ্গে আগে একটি পরিকল্পনা হয়েছিল। সেই অনুযায়ী নরওয়ে ও ডেনমার্কের বিরুদ্ধে ম্যাচে তাঁকে বিশ্রাম দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নরওয়ের ম্যাচের দিন তাঁকে জানানো হয়, অন্তত ৩০ মিনিট খেলতে পারেন তিনি। বিরতির পর থেকে ওয়ার্ম আপ করলেও শেষ পর্যন্ত মাঠে নামানো হয়নি তাঁকে।
এই ঘটনা নিয়ে রোনাল্ডো বলেছিলেন, ‘বাকিটা সকলের জানা। বিরতির পর থেকে ওয়ার্ম আপ করছিলাম, সময় গড়িয়ে যেতে দেখলাম, কিন্তু আমাকে মাঠে নামানো হয়নি। কোচ আমায় কথা দিয়েও কথা রাখেননি’।
<blockquote class=”twitter-tweet”><p lang=”en” dir=”ltr”>🚨 OFFICIAL: Cristiano Ronaldo has been provisionally suspended by Portuguese Federation after disciplinary case opened.
Cristiano Ronaldo has been “provisionally suspended”, now waiting for the final verdict and decisions about the case.
It was Cristiano himself to suggest a punishment in a public statement after he apologised for leaving Portugal’s camp.
The official statement from the Portuguese Federation ⤵️
“The initiation of disciplinary proceedings against Cristiano Ronaldo, by deliberation of the Non-Professional Section, of October 9, 2026, with the purpose of the investigation of any disciplinary relevance of the facts participated on October 7”.
“Without prejudice to the automatic preventive suspension to which he was subject until the date of establishment, the non-automatic preventive suspension of the player was determined and the urgent nature was attributed to the process”.</p>— Fabrizio Romano (@FabrizioRomano) <a href=”https://x.com/FabrizioRomano/status/2108892705367470580?ref_src=twsrc%5Etfw”>October 10, 2026</a></blockquote>
<script async src=”https://platform.x.com/widgets.js” charset=”utf-8″></script>
‘শাস্তি হওয়া উচিত, কোনও ছাড় নয়’
শিবির ছাড়ার পর মঙ্গলবার সমাজমাধ্যমে দীর্ঘ বিবৃতি দিয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন রোনাল্ডো। সেখানে সতীর্থদের কাছে ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি নিজের আচরণের দায়ও স্বীকার করেন তিনি। একই সঙ্গে ফেডারেশনকে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেন।
রোনাল্ডোর বক্তব্য ছিল, ‘জাতীয় দলের সতীর্থদের কাছে আমার ক্ষমা চাওয়া উচিত, কারণ আমি শিবির ছেড়ে চলে গিয়েছিলাম। কোচের উপর আমার বিশ্বাস পুরোপুরি শেষ হয়ে গেলেও, আমার এটা করা উচিত হয়নি। এর সম্পূর্ণ দায় আমার’।
এর পরেই তিনি যোগ করেন, ‘আমার এই আচরণের কারণ পর্তুগাল ফুটবল ফেডারেশনের বিচার করে দেখা উচিত এবং প্রয়োজনে শাস্তি দেওয়া উচিত। আমার মনে হয়, শাস্তির ক্ষেত্রে কোনও ছাড় থাকা উচিত নয়। আমি ইতিমধ্যেই ক্ষমা চেয়েছি, কিন্তু জানি, কাজের পরিণতি ভোগ করতেই হয়’।
রোনাল্ডোর এই বক্তব্যের পরেই ফেডারেশনের সিদ্ধান্তের দিকে নজর ছিল ফুটবল মহলের। শেষ পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে তাঁকে সাময়িক ভাবে সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হল।
জাতীয় দলের দরজা কি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে?
এই ঘটনার জেরে রোনাল্ডোর আন্তর্জাতিক কেরিয়ার শেষ হয়ে যাচ্ছে কি না, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। তবে নিজের বিবৃতিতে তিনি স্পষ্ট করেছেন, শাস্তি ভোগ করার পর শারীরিক ভাবে ফিট থাকলে এবং ক্লাবের হয়ে খেললে জাতীয় দলের হয়ে ফের মাঠে নামতে প্রস্তুত।
রোনাল্ডো লিখেছেন, ‘আমি পর্তুগিজ সমর্থকদের কাছে আরও এক বার ক্ষমা চাইছি। তবে কথা দিয়ে কথা না রাখার বিষয়টি আমার কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ। জাতীয় দলের হয়ে খেলার জন্য আমি সব সময় প্রস্তুত ছিলাম, এখনও আছি’।
৪১ বছর বয়সেও দেশের হয়ে খেলার ইচ্ছা হারাননি রোনাল্ডো। কিন্তু কোচের সঙ্গে এই সংঘাত এবং ফেডারেশনের শাস্তির সিদ্ধান্তের পরে তাঁর প্রত্যাবর্তনের পথ কতটা সহজ হবে, সেটাই এখন দেখার।