দু-বার হলুদ দেখলেও বিশ্বকাপে নকআউট পর্যায়ে খেলায় কোনও অসুবিধা হবে না ফুটবলারদের: ফিফা

প্রতীকী চিত্র

আসন্ন বিশ্বকাপ কাপ ফুটবল প্রতিযোগিতায় ফুটবলারদের শাস্তি প্রয়োগ ব্যাপারে কিছু পরিবর্তন আনা হচ্ছে। বর্তমান নিয়ম অনুসারে, বিশ্বকাপ খেলা চলাকালীন দু’টো হলুদ কার্ড রেফারি দেখালে তাহলেএকটা ম্যাচ নির্বাসিত থাকেন ফুটবলাররা। এতদিন কোয়ার্টার ফাইনালের পর হলুদ কার্ডের রেকর্ড ‘রিসেট’ করা হত। অর্থাৎ কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত একটা হলুদ কার্ড দেখা কোনও ফুটবলার যদি সেমিফাইনালেও একই শাস্তি পান, তবে তাঁর ফাইনাল খেলতে সমস্যা হয় না। কারণ সেমিফাইনালে পৌঁছানোর পর তাঁর রেকর্ড থেকে আগের হলুদ কার্ড মুছে ফেলা হয়।

গত বিশ্বকাপ পর্যন্ত সেমিফাইনালে ওঠার জন্য দলগুলি পাঁচটা ম্যাচ খেলত। এবার ৪৮ দেশের বিশ্বকাপ। নকআউট পর্বে যাবে ৩২ দল। ফলে প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালের আগে একটা বাড়তি রাউন্ড খেলতে হবে দলগুলিকে। ফলে হলুদ কার্ড দেখে নির্বাসনের সম্ভাবনা আরও বেশি এবার। সেকথা মাথায় রেখে দু’বার হলুদ কার্ডের রেকর্ড ‘রিসেট’ করার সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে ফিফা। সেক্ষেত্রে কোয়ার্টার ফাইনালের পাশাপাশি গ্রুপ পর্বের শেষে এই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। অর্থাৎ সব ফুটবলারই নকআউট পর্ব শুরু করবেন হলুদ কার্ডের বোঝা ছাড়া।

একই সঙ্গে মাঠে তর্ক-বিতর্কের সময় মুখ ঢেকে কথা বলা বা সন্দেহজনক আচরণও শাস্তির আওতায় আসতে পারে, যদি তা অপমানজনক বা বর্ণবিদ্বেষী আচরণের ইঙ্গিত বহন করে।
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো জানিয়েছেন, এই নিয়মের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে মাঠে শৃঙ্খলা বজায় রাখা। তাঁর ভাষায়, ”যদি কোনও খেলোয়াড় মুখ ঢেকে কিছু বলেন এবং সেটির ফলে বর্ণবিদ্বেষী আচরণের অভিযোগ ওঠে, তাহলে তাঁকে মাঠ থেকে বের করে দেওয়া উচিত।”


ফিফার একাংশের আশঙ্কা, নিয়ম পরিবর্তন না হলে বহু ফুটবলার সেমিফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নির্বাসিত হতে পারেন। যা নিয়ে বড় বিতর্ক হতে পারে। নিয়ম বদলের পথে হাঁটছে ফিফা। প্রাথমিকভাবে তারা ভিন্ন পরিকল্পনা নিয়েছিল। নির্বাসনের মাপকাঠি দু’টি হলুদ কার্ডের পরিবর্তে তিনটি করার কথা আলোচনা হয়েছিল বিশ্ব ফুটবলের নিয়ামক সংস্থার অন্দরে। দু’বার ‘রিসেট’ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচে কোনও ফুটবলার জোড়া হলুদ কার্ড দেখলেও নকআউট পর্বে খেলতে সমস্যা হবে না। নকআউটের প্রথম তিন রাউন্ডে দু’বার শাস্তি পেলেও, সেমিফাইনালে উঠলে খেলতে পারবেন ফুটবলাররা।