জার্মানিকে হারিয়ে বিশ্বকাপে ইতিহাস ইকুয়েডরের, শেষ ষোলোর স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখল লাতিন দল

চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে ২-১-এ হারিয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের অন্যতম বড় অঘটনের জন্ম দিল ইকুয়েডর। গ্রুপ ই-র শেষ ম্যাচে পিছিয়ে পড়েও দারুন ভাবে ঘুরে দাঁড়ায় তারা। শেষে ঐতিহাসিক জয় ছিনিয়ে নেয় সেবাস্তিয়ান বেকাসেসের দল।

এই জয়ের ফলে সেরা আটটি তৃতীয়-স্থানাধিকারী দলের একটি হিসেবে নকআউট পর্বে খেলা নিশ্চিত করে ফেলল ইকুয়েডর। অন্যদিকে, হারলেও গোল পার্থক্যে আইভরি কোস্টের চেয়ে এগিয়ে থাকায় ছ’পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের শীর্ষস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হল জার্মানি। কিন্তু নক আউট পর্বের ঠিক আগে এই পারফরম্যান্সের পর তাদের আত্মবিশ্বাস যে যথেষ্ট ধাক্কা খাবে, এই নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।

নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরুটা অবশ্য স্বপ্নের মতোই হয়েছিল জার্মানির। দ্বিতীয় মিনিটেই লেরয় সেন গোল করে এগিয়ে দেন ইউরোপীয় ফুটবলের অন্যতম সেরা শক্তিকে। ফ্লোরিয়ান ভির্তজের নিখুঁত পাস থেকে বল পেয়ে বক্সের ভেতর থেকে নিচু শটে ডানদিকে ঝাঁপিয়ে পড়া গোলরক্ষক হার্নান গালিনদেজকে পরাস্ত করেন সেন। জার্মানির হয়ে বড় কোনো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে নিজের প্রথম গোলটি করেন তিনি। ১৯৩৪-এর পর বিশ্বকাপে জার্মানির করা সবচেয়ে দ্রুততম গোল ছিল এটি।


কিন্তু সেই ধাক্কা সামলে মাত্র সাত মিনিট পরই সমতা ফেরায় ইকুয়েডর। নবম মিনিটেই দূরপাল্লার জোরালো শটে গোল করে দলের বিশ্বকাপে দীর্ঘ গোলখরা কাটান নিলসন অ্যাঙ্গুলো, যিনি এই বিশ্বকাপে এই প্রথম এগারো জনের দলে সুযোগ পেয়েছিলেন। জার্মানির অর্ধে বল কুড়িয়ে নিয়ে পাবলো ভিতে পাস বাড়ান অ্যাঙ্গুলোর উদ্দেশে। ‘ডি’-এর ঠিক বাইরে শট নেওয়ার মতো ফাঁকা জায়গা পেয়ে অ্যাঙ্গুলো জোরালো শট নেন। বলটি আলেকজান্ডার পাভলোভিচের দুই পায়ের মাঝখান দিয়ে বেরিয়ে ম্যানুয়েল নয়্যারকে পরাস্ত করে জালে জড়িয়ে যায়।

সমতায় ফেরার পর আত্মবিশ্বাস ফিরে পায় দক্ষিণ আমেরিকার দল। ম্যাচ যত এগোয়, ততই আক্রমণের ঝাঁঝ বাড়াতে থাকে তারা। একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও গোল আসছিল না।দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই জার্মানি একটি পেনাল্টি পায়। কিন্তু ভিএআর পর্যালোচনার পর রেফারি টোরি পেনসো সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করে দেন। কারণ, পেনাল্টির পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আগে লেরয় সেন পাবলো ভিতের বিরুদ্ধে ফাউল করেছিলেন।

তবে ম্যাচের আসল নাটকীয় সময় আসে শেষ ১৫ মিনিটে। ম্যানুয়েল নয়্যার ও জনাথান তাহের মধ্যে বোঝাপড়ার ভুলের সুযোগে মোইসেস কাইসেদোর ক্রস পেয়ে খুব কাছ থেকে শট নেন গনজালো প্লাতা। কিন্তু তাঁর শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়। অন্য প্রান্তে দ্রুতগতিতে এগিয়ে গিয়ে লেরয় সেন শট নিলেও তা ঠেকিয়ে দেন ইকুয়েডরের গোলরক্ষক হার্নান গালিনদেজ।

শেষ পর্যন্ত ইকুয়েডরকে আর আটকানো যায়নি। একটি কর্নার থেকেই নিকটবর্তী পোস্টে বলটি হালকা টোকা মেরে জালে পাঠিয়ে দেন বদলি খেলোয়াড় কেভিন রদ্রিগেজ। ভীড়ের মধ্যে সবার আগে পা বাড়িয়ে ম্যানুয়েল নয়্যারকে পরাস্ত করে বলটি জালের ছাদে জড়িয়ে দেন গনজালো প্লাতা।

এই জয়ের পর আবেগাপ্লুত ইকুয়েডর কোচ সেবাস্তিয়ান বেকাসেসে বলেন, “এটা আমার জন্য কী অর্থ বহন করে, সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। এটা দেশের মানুষের জন্য। ফুটবলাররাই তাদের এই যোগ্যতা এনে দিয়েছে। আজ ওদের উদযাপন করতে দিন, এই মুহূর্তটা উপভোগ করতে দিন।”

অন্যদিকে, জার্মান অধিনায়ক যোশুয়া কিমিখ ম্যাচ শেষে স্বীকার করেন, নকআউট পর্বে সফল হতে হলে দলকে বল হারানোর প্রবণতা কমাতে হবে এবং আরও ধারাবাহিক ফুটবল খেলতে হবে।প্রথম দুই ম্যাচে একটি হার ও একটি ড্র করে চাপে পড়ে গিয়েছিল ইকুয়েডর। সেই অবস্থান থেকে বিশ্বকাপের অন্যতম শক্তিশালী দল জার্মানিকে হারিয়ে তারা শুধু নকআউটের দৌড়েই টিকে থাকল না, ফুটবলবিশ্বকে চমকে দিল। কারণ, এটিই চলতি বিশ্বকাপের অন্যতম বড় অঘটন।