পাকিস্তান ক্রিকেটে নতুন নাটক, ক্রিকেটারদের মোবাইল নিয়ে নিল পাক বোর্ড

Pakistan Players Photo-SNS

মাঠে নামার আগেই পাকিস্তান ক্রিকেটে ফের বিতর্ক। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজের তৃতীয় এবং শেষ টেস্টের আগে দলের ক্রিকেটারদের মোবাইল ফোন নিজেদের হেফাজতে নিয়ে নিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (PCB)! পাকিস্তানের কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের দাবি, এজবাস্টন টেস্ট শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেই ফোনগুলি ক্রিকেটারদের হাতে ফিরবে না।

কেন এমন সিদ্ধান্ত? সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও মেলেনি। পিসিবি-ও এ নিয়ে কোনও সরকারি বিবৃতি দেয়নি। এমনকি দলের কোন কোন সদস্যের ফোন নেওয়া হয়েছে, সেটাও স্পষ্ট নয়। ফলে তৃতীয় টেস্টের আগে পাকিস্তান শিবিরে তৈরি হয়েছে নতুন জল্পনা।

সম্প্রতি পাকিস্তান ক্রিকেটে একের পর এক নাটকীয় ঘটনা ঘটেছে। তৃতীয় টেস্টের আগে একাধিক ক্রিকেটার এবং কোচকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বোর্ড। তার পরেই ক্রিকেটারদের ফোন নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার খবর সামনে এল।


অবশ্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মোবাইল ফোন ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (ICC) নিয়ম অনুযায়ী, ম্যাচ চলাকালীন ড্রেসিংরুম-সহ নির্দিষ্ট ‘রেস্ট্রিক্টেড এরিয়া’-য় ক্রিকেটার বা দলের অন্য কোনও সদস্য মোবাইল ফোন কিংবা যোগাযোগের অন্য কোনও যন্ত্র ব্যবহার বা বহন করতে পারেন না।

ICC-র নিয়মে বলা হয়েছে, ম্যাচ পারফরম্যান্স মনিটরিং এরিয়া (PMOA)-য় কোনও ব্যক্তি কোনও কারণে মোবাইল ডিভাইস বহন বা ব্যবহার করতে পারবেন না। ল্যাপটপ বা একই ধরনের যোগাযোগের যন্ত্রের ক্ষেত্রেও রয়েছে নিষেধাজ্ঞা।

কিন্তু পিসিবি যে ভাবে পুরো দলের মোবাইল ফোন নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে খবর, তা প্রচলিত আইসিসি প্রোটোকলের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, সেই প্রশ্নই এখন উঠছে। কারণ আইসিসি-র নিয়ম মূলত ম্যাচ চলাকালীন নির্দিষ্ট জায়গায় মোবাইল ব্যবহারের উপর নিষেধাজ্ঞার কথা বলে। পুরো টেস্ট শেষ না হওয়া পর্যন্ত ক্রিকেটারদের ব্যক্তিগত ফোন বোর্ডের কাছে রাখার বিষয়টি আলাদা।

এই সিদ্ধান্তের পিছনে ঠিক কী কারণ রয়েছে, তা জানায়নি পিসিবি। ফলে পাকিস্তান ক্রিকেটে ফের প্রশ্ন উঠছে বোর্ডের কাজকর্ম নিয়ে। তৃতীয় টেস্টের আগে মাঠের বাইরের এই ঘটনা যে দলের উপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে, তা বলাই যায়।

এখন দেখার, এজবাস্টনে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে পাকিস্তান মাঠে কেমন জবাব দেয়। মাঠের বাইরের বিতর্ক সরিয়ে ক্রিকেটাররা কি মাঠে নিজেদের পারফরম্যান্স দিয়ে নজর কাড়তে পারবেন, সেটাই প্রশ্ন।