পন্থের পাল্টা আক্রমণ, জুরেলের লড়াই—কলম্বোয় দ্বিতীয় দিনেই সিরিজ জয়ের স্বপ্ন দেখছেন শুভমানরা

Photo: X

টেস্টের প্রথম দিন চোট পেয়ে মাঠ ছেড়েছিলেন ঋষভ পন্থ। দ্বিতীয় দিন ফের ব্যাট হাতে নেমে বুঝিয়ে দিলেন, তিনি কতটা লড়াকু। শ্রীলঙ্কার পেসারদের তাঁর শরীর লক্ষ্য করে দেওয়া একের পর এক বাউন্সারের জবাব দিলেন পন্থ। সঙ্গে পেলেন ধ্রুব জুরেলকে। দুই উইকেটকিপারের দাপটে কলম্বো টেস্টের দ্বিতীয় দিনে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে বেশ মজবুত জায়গায় ভারত। দিনের প্রথম সেশনে ৪১৯/৬-এ পৌঁছয় ভারত। পরে জুরেলের সেঞ্চুরির ওপর ভর করে ৫০৩/৯-এ ইনিংস ঘোষণা করে ভারত। জবাবে দিনের শেষে শ্রীলঙ্কা আট রানের মধ্যেই দু’উইকেট হারিয়ে বেশ চাপে।

প্রথম দিনের শেষে ভারতের রান ছিল ৩০০/৫। রবিবার লাহিরু কুমারার বাউন্সারে বাঁ হাতে চোট পেয়ে মাত্র তিন রানে মাঠ ছেড়েছিলেন পন্থ। তাই দ্বিতীয় দিন সকালে তিনি আদৌ ব্যাট করতে নামবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় ছিল। কিন্তু সারাংশ জৈন ছ’রানে আউট হতেই মাঠে নামেন পন্থ। শুরু থেকেই তাঁকে লক্ষ্য করে শর্ট বল করতে থাকেন অসিথা ফার্নান্দো এবং কুমারা। কাঁধেও বল লাগে পন্থের। তবু দমাতে পারেননি ভারতীয় তারকা উইকেটকিপারকে। বরং সময় যত গড়িয়েছে, ততই ছন্দে ফিরেছেন পন্থ।

কখনও বলের লাইন থেকে সরে গিয়ে, কখনও দুরন্ত পুল শটে শ্রীলঙ্কার পেসারদের পাল্টা জবাব দিয়েছেন। কুমারার বল ফাইন লেগের উপর দিয়ে তুলে মারেন ছক্কাও। ৮১ বলে হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ৬৩ রান করে আউট হন। কুশারা নুয়ানথার বলে লং অফে লাহিরু উদারার হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। তবে তার আগে জুরেলের সঙ্গে সপ্তম উইকেটে ১১২ রান যোগ করে ভারতকে বড় রানের ভিত গড়ে দেন পন্থ।


অন্য দিকে, জুরেল যেন ক্রমশ নিজেকে প্রতিষ্ঠা করছেন। প্রথম টেস্টে অর্ধশতরানের পর দ্বিতীয় টেস্টেও সেঞ্চুরি করেন তিনি। পন্থের সঙ্গে জুটি ভাঙার পরও ভারতীয় ইনিংসকে টেনে নিয়ে যান জুরেল। মানব সুথারের সঙ্গে অষ্টম উইকেটে যোগ করেন ৫৪ রান। শেষ পর্যন্ত ১৭৭ বলে ১১৫ রানে অপরাজিত থেকে ভারতকে ৫০৩/৯-এ পৌঁছে দেন ধ্রুব জুরেল। তাঁর ইনিংসে ছিল ৯টি চার এবং ২টি ছয়। এটি তাঁর দ্বিতীয় টেস্ট সেঞ্চুরি

বৃষ্টির কারণে দিনের খেলা বার বার বিঘ্নিত হলেও জুরেলের ব্যাট থামেনি। সেঞ্চুরি পূর্ণ করার পর অভিনব ভাবে উদ্‌যাপনও করেন তিনি। বাঁ হাতের বাইসেপসে লেখা একটি উল্কি দেখান তিনি, যাতে লেখা ‘জয় জওয়ান, জয় কিষাণ’। শেষ পর্যন্ত জুরেলের সেঞ্চুরির পর ৫০৩/৯-এ ইনিংস ঘোষণা করে ভারত। শ্রীলঙ্কার হয়ে অসিথা ফার্নান্দো নেন চার উইকেট। প্রভাত জয়সূর্য ও কেশরা নুয়ানথা, দুজনেই জোড়া উইকেট নেন।

ভারতের এই বিশাল ইনিংসের পাহাড়ে উঠতে গিয়ে ব্যাট করতে নেমেই বিপদে পড়ে শ্রীলঙ্কা। প্রসিদ্ধ কৃষ্ণা এবং মানব সুতারের বোলিংয়ে মাত্র ৮ রানেই দুই উইকেট হারায় তারা। লাহিরু উদারাকে ১ রানে ফেরান প্রসিদ্ধ, আর প্রভাত জয়সূর্যকে ২ রানে সাজঘরে পাঠান সুথার। দিনের শেষে ৫ রানে অপরাজিত কামিল মিশারা। ভারতের থেকে এখনও ৪৯৫ রান পিছিয়ে রয়েছে শ্রীলঙ্কা।

অর্থাৎ, প্রথম দিন পাডিক্কলের শতরান, দ্বিতীয় দিন পন্থের লড়াই এবং জুরেলের দুরন্ত শতরান—পরপর দুই দিনে ব্যাট হাতে ভারতের দাপট। এখন নজর ভারতীয় বোলারদের দিকে। বিশাল রানের পাহাড়ের নীচে শ্রীলঙ্কাকে কত তাড়াতাড়ি গুটিয়ে দেওয়া যায় এবং তাদের ফলো-অন করানো যায় কি না, তৃতীয় দিনে সেটাই হতে চলেছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।