সাদা বলের ক্রিকেটে কি ফেরানো হবে ঋষভ পন্থকে? কয়েক দিন আগেও যে সম্ভাবনা কার্যত উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছিল, নির্বাচক মহলে এখন সেই পন্থকে নিয়েই শুরু হয়েছে নতুন ভাবনা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের দল বাছাইয়ে পন্থকে ফেরানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি তিন আইপিএল অধিনায়ককেও দলে জায়গা দেওয়ার কথা ভাবছেন নির্বাচকেরা। বুধবার দল নির্বাচনী বৈঠক হওয়ার কথা।
ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজ ওয়ানডে সিরিজ শুরু ২৭ সেপ্টেম্বর তিরুঅনন্তপুরমে। পরের দু’টি ম্যাচ ৩০ সেপ্টেম্বর এবং ৩ অক্টোবর। তার আগে ৫০ ওভারের দলে একাধিক জায়গা নিয়ে ধন্দ রয়েছে নির্বাচকদের। বিশেষ করে পন্থের প্রত্যাবর্তন এবং হার্দিক পাণ্ডিয়ার ফিটনেস—এই দুই বিষয়েই নজর সবচেয়ে বেশি।
আইপিএলে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর পন্থ টেস্ট দলের সহ-অধিনায়কত্ব হারিয়েছেন। সাদা বলের দল থেকেও বাইরে ছিলেন তিনি। কিন্তু এ বার পরিস্থিতি কিছুটা বদলেছে।
ইশান কিষাণ এশিয়ান গেমসে খেলবেন। ফলে ওয়ানডে দলে
কে এল রাহুল উইকেটকিপার হিসাবে প্রথম পছন্দ হলেও দ্বিতীয় কিপার হিসাবে পন্থকে ফেরানোর রাস্তা খুলে গিয়েছে। নির্বাচকেরা শেষ পর্যন্ত তাঁকে ১৫ জনের দলে রাখেন কি না, সেটাই এখন দেখার।
পন্থ সুযোগ না পেলে ধ্রুব জুরেলকে নেওয়া হতে পারে। সে ক্ষেত্রে পন্থকে ভারতীয় দলের হয়ে ইরানি কাপে রেস্ট অফ ইন্ডিয়ার নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য পাঠানো হতে পারে।
শুভমান গিলের নেতৃত্বে ওয়ানডে দল খেলবে বলেই আপাতত মনে করা হচ্ছে। শ্রেয়স আইয়ার এশিয়ান গেমসে থাকায় কে এল রাহুলকে গিলের ডেপুটি করার সম্ভাবনাও রয়েছে।
অন্য দিকে, মিডল অর্ডারে জায়গা পাওয়ার দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন রুতুরাজ গায়কোয়াড় এবং রজত পাটিদার। গায়কোয়াড়কে চার নম্বরে খেলানোর পরিকল্পনা হতে পারে। রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলির সঙ্গে টপ অর্ডার ব্যাটিংয়ের কাঠামোও ধরে রাখার সম্ভাবনা আছে। যশস্বী জয়সওয়ালকে রাখা হতে পারে রিজার্ভ ওপেনার হিসাবে।
গায়কোয়াড় এবং পাটিদার দু’জনেরই ভারত এ দলের হয়ে খেলার কথা রয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের পরে। ভারত ‘এ’-র নেতৃত্বের দায়িত্বও গায়কোয়াড়ের হাতে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
হার্দিক পাণ্ডিয়া প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফিরতে পারেন ২০ সেপ্টেম্বরের কাছাকাছি। ভারত ‘এ’ দলের হয়ে অস্ট্রেলিয়া ‘এ’-র বিরুদ্ধে এক দিনের সিরিজে তাঁকে রাখা হয়েছে। কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে সরাসরি আন্তর্জাতিক ম্যাচে নামার মতো অবস্থায় তিনি আছেন কি না, সেটাই বড় প্রশ্ন।
কারণ, শুধু ব্যাটিং নয়, হার্দিককে ১০ ওভার বল করার পাশাপাশি ৫০ ওভার ফিল্ডিংও করতে হবে। তাঁর ফিটনেস নিয়ে সামান্য সন্দেহ থাকলেও নির্বাচকদের সমস্যা বাড়বে। নীতীশ কুমার রেড্ডি এশিয়ান গেমসে থাকবেন। সূর্যাংশ শেডগে এবং বেঙ্কটেশ আইয়ার চোটে রয়েছেন। ফলে পেস-বোলিং অলরাউন্ডারের বিকল্প খুব বেশি নেই।
রবীন্দ্র জাদেজাকেও ফেরানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ওয়ান ডে সিরিজে তাঁকে দলে রাখা হয়নি। কিন্তু সাম্প্রতিক দুলীপ ট্রফিতে হর্ষ দুবে চোট পাওয়ায় বাঁ হাতি স্পিনারের জায়গায় জাদেজার প্রয়োজন হতে পারে।
অক্ষর পটেল এশিয়ান গেমসে থাকবেন। তাই জাদেজার অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারেন নির্বাচকেরা। তবে চমক হিসাবে মানব সুথারকেও ভাবা হতে পারে।
কুলদীপ যাদবও এশিয়ান গেমসে। তাই স্পিন বিভাগে আরও সমস্যা তৈরি হবে। সে ক্ষেত্রে বিপ্রজ নিগম বা জিশান আনসারির মতো তরুণদের দিকে তাকাতে হতে পারে নির্বাচকদের।
ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে এক দিনের সিরিজে বিশ্রামে থাকা মহম্মদ সিরাজের প্রত্যাবর্তন প্রায় নিশ্চিত বলেই খবর। তাঁর সঙ্গে গুরনূর ব্রার, প্রসিধ কৃষ্ণা এবং প্রিন্স যাদবেরও দলে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্য দিকে, জসপ্রীত বুমরাহকে এই সিরিজে পাওয়া যাবে না। এশিয়ান গেমসে তাঁর দায়িত্ব থাকায় ওয়ানডে সিরিজের বাইরে থাকবেন তিনি।
মহম্মদ শামি এবং যুজবেন্দ্র চহাল—এই দুই অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের আপাতত দলে ফেরার সম্ভাবনা কম।
অর্থাৎ, বুধবারের নির্বাচনী বৈঠকে শুধু একটি দল ঘোষণা হবে না—২০২৭-এর ওয়ানডে বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তেরও ইঙ্গিত মিলতে পারে।