খেলার মাঠে ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ মানেই বাড়তি উত্তেজনা। তবে সেই লড়াইয়ের মঞ্চ থেকেই কখনও কখনও উঠে আসে এমন কিছু গল্প, যা পরে স্মৃতি হয়ে থেকে যায়। এমনই এক মজার ঘটনার কথা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সামনে তুলে ধরলেন ভারতীয় বক্সার নরেন্দ্র বেরওয়াল। বেরওয়াল ২০২৬ কমনওয়েলথ গেমসের পুরুষদের ৯০ কেজির বেশি ওজনের বক্সিং বিভাগে রুপোর পদক জিতেছেন। তাঁর এই সাফল্যের জন্য প্রধানমন্ত্রীও তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন।
সম্প্রতি কমনওয়েলথ গেমসে ভারতের পদকজয়ীদের রবিবার সংবর্ধনা দেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। সেই অনুষ্ঠানে রুপোর পদকজয়ী বক্সার প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, ‘স্যর, পাকিস্তানের কথা উঠতেই একটা ঘটনা মনে পড়ে গেল। ২০১৫ সালের বিশ্ব সামরিক ক্রীড়ায় আমার প্রথম লড়াই ছিল পাকিস্তানের এক বক্সারের বিরুদ্ধে। তখন সামরিক ক্রীড়া চলছিল বলে ভারতীয় সেনার আধিকারিকেরা আমাকে ফোন করে বলেছিলেন- পাকিস্তানের কাছে যেন হেরো না।’
শেষ পর্যন্ত সেই লড়াইয়ে জিতেছিলেন বেরওয়াল। তবে দু’জনেরই মুখে চোট লাগে। ফলে লড়াইয়ের পর একসঙ্গেই হাসপাতালে গিয়ে সেলাই করাতে হয়েছিল তাঁদের। বেরওয়ালের কথায়, ‘আমি প্রথম রাউন্ডে ৪-১ এবং দ্বিতীয় রাউন্ডে ৩-২ ব্যবধানে জিতেছিলাম। কিন্তু দু’জনেরই মুখ কেটে গিয়েছিল। লড়াইয়ের পরে আমরা দু’জনেই সেলাই করাতে হাসপাতালে গিয়েছিলাম।’
এর পরেই আসে আসল মজার ঘটনা। বেরওয়াল জানান, ২০১৪-য় নরেন্দ্র মোদী প্রথম বার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার প্রসঙ্গও সেই পাকিস্তানি বক্সারের সঙ্গে কথায় কথায় উঠে এসেছিল। তাঁর সঙ্গে থাকা সেনা কোচের নামও ছিল নরেন্দ্র রানা।
বেরওয়াল বলেন, ‘২০১৪-য় আপনি প্রথম বার প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন। আমাদের সঙ্গে যে সেনা কোচ ছিলেন, তাঁর নাম ছিল নরেন্দ্র রানা। পাকিস্তানি বক্সারটি কিছুক্ষণ ভাবল। তার পর আমাকে বলল, ‘ভাই, একটা কথা বলতে পারি?’ আমি বললাম, ‘হ্যাঁ, বলো।’ সে বলল, ‘তোমার নাম নরেন্দ্র, তোমার কোচের নাম নরেন্দ্র, আর তোমার প্রধানমন্ত্রীর নামও নরেন্দ্র! আমার তো ‘নরেন্দ্র’ নামটাই অপছন্দ!’
বেরওয়ালের মুখে এই কাহিনি শুনে আর হাসি চাপতে পারেননি প্রধানমন্ত্রী মোদী। কমনওয়েলথ গেমস থেকে রুপোর পদক জিতে ফেরা ভারতীয় বক্সারের মুখে পাকিস্তানি প্রতিপক্ষের সেই মন্তব্যের গল্প মুহূর্তেই হয়ে ওঠে এই অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণীয় ঘটনা।
‘ভারতের সঙ্গে লড়াই মানেই হার’!
কমনওয়েলথ গেমসে বক্সিংয়ে ভারতের দাপট এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে প্রতিপক্ষরা ড্রয়ে ভারতীয় বক্সারের নাম উঠলেই কার্যত হাল ছেড়ে দিতেন! প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে সাক্ষাতে এমনই দাবি করেন ভারতের বক্সাররা। তাঁদের কথায়, গ্লাসগোয় তৈরি হয়েছিল এক ধরনের ‘ইন্ডিয়া ফোবিয়া’।
রবিবার দেশের কমনওয়েলথ গেমস পদকজয়ীদের সংবর্ধনা ও কথোপকথনে উঠে আসে বক্সিংয়ের দুরন্ত সাফল্যের প্রসঙ্গ। ২০২৬ কমনওয়েলথ গেমসে ভারতীয় বক্সাররা মোট ১০টি পদক জিতেছেন, যার মধ্যে রয়েছে সাতটি সোনা।
Watch | 7 Lok Kalyan Marg, Delhi: Prime Minister Narendra Modi interacted with Narendra Berwal, who won the silver medal in the men’s 90+ kg boxing category at the 2026 Commonwealth Games, on August 9, 2026.
During the interaction, Narendra Berwal shared an anecdote about his… pic.twitter.com/enZ6ekJeSh
— United News of India (@uniindianews) August 10, 2026
বক্সার সাক্ষী চৌধুরী প্রতিযোগিতার অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে বলেন, প্রতিপক্ষদের মধ্যে ভারতীয় বক্সারদের নিয়ে এমন ভয় তৈরি হয়েছিল যে ড্রয়ে ভারতের নাম উঠলেই অন্যেরা ধরে নিতেন, আর পদক পাওয়া সম্ভব নয়।
সাক্ষীর কথায়, “সবাই আমাদের ভয় পাচ্ছিল। ভেবে নেয়, ভারতের সঙ্গে লড়াই পড়েছে, তাই প্রথম রাউন্ডেই হেরে যাব এবং পদকও পাব না।’
মোদী তখন লভলিনা বরগোঁহাইয়ের কাছে জানতে চান, বিশ্বজুড়ে বক্সারদের মধ্যে সত্যিই কি ভারতকে নিয়ে ভয় তৈরি হয়েছে?
লভলিনার জবাব, ‘অবশ্যই স্যার। সবাই ভীষণ ভয় পাচ্ছিল। একের পর এক সোনা আসছিল—শেষ দিকে মনে হচ্ছিল যেন পুরো বিস্ফোরণ ঘটে গিয়েছে। আমরা যে সমর্থন পাই এবং পর পর প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাই, সেটাই অনেক বড় পার্থক্য গড়ে দেয়’।
শুধু অভিজ্ঞ বক্সাররাই নন, নতুন প্রজন্মের সাফল্যের পিছনেও ‘খেলো ইন্ডিয়া’-র মতো বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের ভূমিকার কথা তুলে ধরেন লভলিনা।
গ্লাসগোয় শুধু বক্সিং নয়, একাধিক খেলায় নজরকাড়া সাফল্য পেয়েছে ভারত। জুডোয় প্রথম বার কমনওয়েলথ গেমসে সোনা এসেছে, ডেকাথলনেও প্রথম বার রুপো পেয়েছে ভারত। আর সেই সাফল্যের অন্যতম বড় মুখ হয়ে ওঠা ভারতীয় বক্সারদের কথাতেই উঠে এল প্রতিপক্ষের ‘ভয়’—ভারতের সঙ্গে লড়াইয়ের আগেই হার মেনে নেওয়ার ভয়।