ভারতের বোলারদের আঘাতে কলম্বোয় পাকিস্তান বধ

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সম্মুখ সমরে ভারত আর পাকিস্তান। রবিবারের এই রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে খেলার শুরু থেকেই দুই দলের দুরন্ত ভূমিকা দেখতে পাওয়া যায়। একে অপরের বিরুদ্ধে লড়াই করার আঁচটা দর্শকরা প্রত্যক্ষ করেছেন। তাই তো টস করতে এসে ভারতের অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব ও পাকিস্তানের দলনেতা সলমন আলি আখা একে অপরের দিকে সেইভাবে তাকালেন না।

ভারতীয় দলে ফিরে অভিষেক শর্মা ওপেন করতে এসে ব্যর্থ হলেন। কোনও রান না করেই প্যাভিলিয়নে ফেরত গেলেন তিনি। সলমন আলি আঘার বল মোকাবিলা করতে গিয়ে শাহিন আফ্রিদির হাতে ক্যাচ তুলে দিলেন। ভারতের স্কোরবোর্ডে তখন মাত্র ১ রান। অভিষেক ব্যর্থ হওয়ার পরে ওপেনার ঈশান কিশানের সঙ্গে জুটি বাঁধেন তিলক ভার্মা। ঈশান বেশ বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়ে খেলতে থাকেন। ঈশান ২৭ বলে অর্ধশতরান করার কৃতিত্ব দেখান। এই রান করার ফাঁকে সাতটি চার এবং দু’টি ছক্কা মারেন। ৫০ রান করার পরেই হাত খুলে খেলতে দেখা যায় ঈশানকে। ভারতের দ্বিতীয় উইকেট পড়ে ৮৮ রানের মাথায়। ঈশান কিশান আউট হন ৭৭ রানে। ঈশানকে সরাসরি বোল্ড আউট করলেন সাইম আয়ুব।

অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব ঝড়ের গতিতে মারতে থাকেন। সঙ্গী তিলক ভার্মাও কমতি যাননি। কিন্তু সাইম আয়ুবের একটি বলের ফ্লাইট মিস করায় তিলককে এলবিডব্লু হয়ে মাঠের বাইরে চলে যেতে হয়। তাঁর ব্যাট থেকে ২৫ রান আসে ২৪ বলে। ভারতের তৃতীয় উইকেটটি হারাতে হয় ১২৬ রানে। সূর্যকুমারের সঙ্গী হতে মাঠে নামেন হার্দিক পাণ্ডিয়া। হার্দিক প্রথম বলটি খেলতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দেন বাবর আজমের হাতে। বল করছিলেন সাইম আয়ুব। পঞ্চম উইকেটে সূর্যকুমার যাদবের পাশে দাঁড়ান শিবম দুবে। সূর্যকুমার যাদব যখন রানের তাড়নায় ছুটছেন, তখনই উসমান তারিকের বলে সাইম আয়ুবের হাতে ক্যাচ দিয়ে সূর্যকুমার প্যাভিলিয়নে ফেরত গেলেও তাঁর ব্যাট থেকে আসে ২৯ বলে ৩২ রান। ভারতের পঞ্চম উইকেটি পড়ে ১৫৯ রানে। শিবম দুবের সঙ্গে খেলতে নামেন রিঙ্কু সিং। শিবম ২৭ রানের মাথায় রান আউট হয়ে যান। অক্ষর প্যাটেল কোনও রান করার আগেই আউট হন শাহিন আফ্রিদির বলে সাইম আয়ুবের হাতে ধরা পড়ে। রিঙ্কু সিং ১১ রানে নট আউট থাকেন। ভারত নির্দিষ্ট ওভারে ৭ উইকেটে হারিয়ে ১৭৫ রান করে।


পাকিস্তান ১৭৬ রানের টার্গেট নিয়ে মাঠে নামলে ভারতের বোলারদের দাপটের কাছে পাকিস্তান ছত্রখান হয়ে যায়। পাকিস্তান ১১৪ রানে ২ ওভার বাকি থাকতেই সকলেই আউট হয়ে যান। বাবর আজম ৫ ও সলমন আলি আঘা ৬ রানে আউট হন। উসমান খান ৪৪ রানে আউট হন। ভারতের যশপ্রীত বুমরা ২টি, অক্ষর প্যাটেল ২টি, হার্দিক পাণ্ডিয়া ২টি, বরুণ চক্রবর্তী ২টি করে উইকেট পেয়েছে। কুলদীপ ও তিলক ১টি করে উইকেট পান। ভারত ম্যাচ জিতে সুপার এইটে জায়গা নিশ্চিত করল।