এ বার ডুরান্ড কাপে শুধুই ই-টিকিট, পাওয়া যাবে শুধু অনলাইনে, বক্স অফিস থেকে টিকিট বিক্রি বন্ধ, উদ্বোধনে মুখ্যমন্ত্রী

Photo: X

আগামী শনিবার মরসুমের প্রথম কলকাতা ডার্বি দিয়ে শুরু হচ্ছে ১৩৫তম ডুরান্ড কাপ। এশিয়ার প্রাচীনতম ফুটবল টুর্নামেন্ট হলেও এ বার আধুনিকতায় মোড়ার চেষ্টা হচ্ছে সেনাবাহিনী পরিচালিত এই টুর্নামেন্টকে। ভারতে এই প্রথম কোনো ফুটবল টুর্নামেন্টে সম্পুর্ণ ইলেকট্রনিক টিকিটের মাধ্যমে খেলা দেখবেন দর্শকেরা। অর্থাৎ, সব টিকিটই বিক্রি হবে অনলাইনে, কাউন্টার থেকে টিকিট বিক্রি করা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এ বারের ডুরান্ড কাপে।

যদিও টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচ, অর্থাৎ মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট বনাম ইস্টবেঙ্গল এফসি ম্যাচের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হচ্ছে না। ডার্বিতে আগের মতোই কিছু টিকিট অনলাইনে ও কিছু টিকিট বক্স অফিস থেকে বিক্রি করা হচ্ছে। দুই ক্লাব থেকেও সদস্যদের টিকিট দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু ডার্বির পর থেকে সব ম্যাচেই গ্যালারিতে গিয়ে খেলা দেখতে হলে অনলাইনে টিকিট কিনতে হবে। সেই টিকিটের প্রিন্ট নেওয়ার প্রয়োজন নেই। মোবাইলেই সেভ করে রাখলে তা দেখিয়ে মাঠে ঢোকা যাবে বলে জানিয়েছেন সংগঠকেরা।

বুধবার ফোর্ট উইলিয়ামে এক সাংবাদিক বৈঠকে এই ঘোষণা প্রথমে করেন রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী ঈন্দ্রনীল খাঁ। এই খবর জানিয়ে তিনি বলেন, ‘উদ্বোধনী ও ফাইনাল ম্যাচ-সহ কলকাতায় ডুরান্ড কাপের ১৬টা ম্যাচ দেওয়া হয়েছে। এ জন্য রাজ্য সরকার সেনাবাহিনীকে ধন্যবাদ জানাচ্ছে। সহ-আয়োজক হিসেবে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আমি কথা দিচ্ছি, এ বারের ডুরান্ড কাপই ইতিহাসের সেরা ডুরান্ড কাপ করে দেখাব আমরা’। কী ভাবে তা হবে, তা অবশ্য ব্যাখ্যা করেননি তিনি। বলেন, ‘অপেক্ষা করুন, টুর্নামেন্ট শুরু হলেই বুঝতে পারবেন’। তিনি জানান, শনিবার উদ্বোধনে মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিত থাকার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।


তার মধ্যে একটি অবশ্যই ই-টিকিট নিয়ে এই অভিনব পদক্ষেপ, যা বিদেশে দেখা যায়। কিন্তু এ দেশে আজ পর্যন্ত কখনো হয়নি। ডার্বিতে অবশ্য এই ব্যবস্থা থাকছে না। ডার্বির জন্য ক্লাবগুলিকেও পর্যাপ্ত পরিমান টিকিট দেওয়া হবে বলে এ দিন সেনা কর্তারা জানান। দুই ক্লাবকে ৫১০০ করে কমপ্লিমেন্টারি টিকিট দেওয়া হবে এবং সদস্যদের বিক্রির জন্য সাড়ে সাত হাজার করে টিকিট দেওয়া হয়েছে বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। বাকি টিকিট অনলাইন ও কাউন্টারে বিক্রি করা হবে। তবে সেই সংখ্যাটা কত, তা জানানো হয়নি।

এবারের ডুরান্ড কাপের ম্যাচগুলি হবে কলকাতা, রাঁচি, ইম্ফল, শিলং এবং গুয়াহাটিতে। গ্রুপ ‘এ’-তে রয়েছে রেকর্ড ১৭ বারের চ্যাম্পিয়ন মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট, ১৬ বারের চ্যাম্পিয়ন ইস্টবেঙ্গল এফসি, সাউথ ইউনাইটেড এফসি এবং সিআইএসএফ প্রোটেক্টর্স। স্বাভাবিকভাবেই নজরের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে ২৫ জুলাইয়ের উদ্বোধনী ম্যাচ কলকাতা ডার্বি।

Photo: X

কলকাতার আর এক প্রধান মহামেডান এসসি গ্রুপ ‘বি’-তে রয়েছে। এই গ্রুপে তাদের সঙ্গী ইন্ডিয়ান আর্মি এফটি এবং ডুরান্ড কাপে অভিষেক হওয়া বাঘপত এফসি ও সমলেশ্বরী স্পোর্টিং।

রাঁচি এ বারই প্রথম ডুরান্ড কাপের আয়োজক শহর হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে। বিরসা মুন্ডা ফুটবল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে গ্রুপ ‘সি’-র সব ম্যাচ। এই গ্রুপে রয়েছে আইএসএল-এর জামশেদপুর এফসি, স্পোর্টিং ক্লাব দিল্লি, ইন্ডিয়ান এয়ার ফোর্স এফটি এবং শ্রীলঙ্কার সশস্ত্র বাহিনীর দল ডিফেন্ডার্স এফসি, যারা এবারই প্রথম ডুরান্ড কাপে অংশ নিচ্ছে।

গ্রুপ ‘ডি’-তে রয়েছে মণিপুরের ট্রাউ এফসি, নেরোকা এফসি, এফসি রেংদাই এবং ইন্ডিয়ান নেভি এফটি। শিলংয়ে হবে গ্রুপ ‘ই’-র ম্যাচগুলি, যেখানে ঘরের মাঠে খেলবে শিলং লাজং এফসি, লাংসনিং এফসি এবং মেঘালয় প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়ন নংকসেহ এসএস অ্যান্ড সিসি। তাদের সঙ্গে থাকবে মহারাষ্ট্রের ডুরান্ড অভিষেককারী মুম্বই এফসি।

গুয়াহাটিতে হবে গ্রুপ ‘এফ’-এর ম্যাচ, যেখানে টানা দু’বারের চ্যাম্পিয়ন নর্থইস্ট ইউনাইটেড এফসি তৃতীয়বারের মতো খেতাব জয়ের লক্ষ্যে অভিযান শুরু করবে। তাদের সঙ্গে রয়েছে বোডোল্যান্ড এফসি, এফসি১ এবং কার্বি আংলং মর্নিং স্টার এফসি।

লিগ পর্ব শেষ হওয়ার পর ছ’টি গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন এবং সেরা দুই রানার্স-আপ দল নকআউট পর্বে উঠবে। কোয়ার্টার ফাইনাল শুরু হবে ১৬ আগস্ট। প্রথম ম্যাচ হবে রাঁচিতে এবং দ্বিতীয়টি কলকাতায়। বাকি দুটি কোয়ার্টার ফাইনাল হবে ১৭ আগস্ট, যথাক্রমে কলকাতা ও শিলংয়ে।

প্রথম সেমিফাইনাল হবে ১৯ আগস্ট কলকাতার বিবেকানন্দ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে। দ্বিতীয় সেমিফাইনাল হবে ২০ আগস্ট শিলংয়ের জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে। ২৩ আগস্ট কলকাতার বিবেকানন্দ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ফাইনাল ম্যাচের মাধ্যমে পর্দা নামবে ১৩৫তম ইন্ডিয়ানঅয়েল ডুরান্ড কাপের। সেদিনই মুকুট উঠবে চ্যাম্পিয়নদের মাথায়। ১৩৫তম ডুরান্ড কাপের ম্যাচগুলি সরাসরি সম্প্রচার করবে সোনি স্পোর্টস নেটওয়ার্ক। পাশাপাশি SonyLIV অ্যাপেও ম্যাচগুলির লাইভ স্ট্রিমিং দেখা যাবে।