ফের হর্ষিত রানার চোট, তিনি খেলতে পারছেন না আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে এবং এশিয়ান গেমসে। যদিও জশপ্রীত বুমরা ও নীতিশ কুমার রেড্ডি এশিয়ান গেমসে খেলবেন বলে জানিয়েছে সেন্টার অফ এক্সেলেন্সের বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু হার্দিক পান্ড্য কিছুতেই ফিট হয়ে উঠতে পারছেন না।
২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে ওয়ান ডে সিরিজ খেলতে নামবে ভারত। এশিয়াডে ভিভিএস লক্ষ্মণ দল নিয়ে গেলেও এই ঘরোয়া সিরিজে দলের কোচ হিসেবে থাকবেন গৌতম গম্ভীর। এই সিরিজে বুমরা, শ্রেয়স আইয়ার, ওয়াশিংটন সুন্দর, অক্ষর প্যাটেল, ইশান কিষাণ, নীতিশ কাউকেই পাবেন না গম্ভীর। হার্দিক পান্ড্যকে নিয়েও কোনো নিশ্চয়তা পাননি তিনি। চোট-আঘাতের জন্য ভারতীয় ক্রিকেটের এমনই বেহাল দশা এখন। তিনি বেঙ্গালুরুতে রিহ্যাব করেই চলেছেন।
এই অবস্থায় কোপ পড়ল ভারতীয় দলের এক গুরুত্বপূর্ণ সাপোর্ট স্টাফের উপর। জানা গিয়েছে, দলের হেড ফিজিও কমলেশ জৈন (Kamlesh Jain) পদত্যাগ করেছেন। তবে তাঁর পদত্যাগ এখনও সরকারি ভাবে গ্রহণ করেনি ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (BCCI)। তিন মাসের নোটিস পিরিয়ডে রয়েছেন তিনি।
আরও পড়ুন: ইউরোপের লিগে ‘মালিক’ রাহুলের নতুন অবতার দেখে অবাক তাঁর প্রাক্তন সতীর্থ
কেন সরে যেতে চাইছেন কমলেশ (Kamlesh Jain)? সূত্রের খবর, জাতীয় দলের সঙ্গে দীর্ঘ এবং লাগাতার সফরের চাপের কারণেই এই সিদ্ধান্ত। প্রায় সাড়ে চার বছর ভারতীয় দলের সঙ্গে কাজ করার পরে পরিবারকে সময় দিতে চাইছেন তিনি। এক সূত্রের কথায়, ‘ভারতীয় দলের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক খুবই ভাল ছিল। কিন্তু তাঁর পরিবারে শিশুসন্তান রয়েছে। তাই তিনি এত বেশি সফর করতে চাইছেন না’।
কিন্তু এমন একটা সময়ে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কমলেশ যে, এই কারণ অনেকেই সত্যি বলে মেনে নিতে চাইছেন না। অনেকে মনে করছেন তাঁকে সরতে বাধ্য করা হচ্ছে। আসলে গত কয়েক মাসে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটার চোট পেয়েছেন। ইংল্যান্ড সফরে গিয়ে ভারতীয় ক্রিকেটারদের বার বার ক্র্যাম্পের সমস্যা দেখা গিয়েছিল।
এই পরিস্থিতিতে ক্রিকেটারদের চোট সামলানো এবং রিহ্যাব প্রক্রিয়া নিয়ে বিসিসিআই ও টিম ম্যানেজমেন্টের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল বলে একাধিক রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে। জাতীয় নির্বাচক এবং কোচ গৌতম গম্ভীরও ক্রিকেটারদের বার বার চোট পাওয়া নিয়ে চিন্তিত ছিলেন বলে খবর।
বোর্ডের এক সূত্রের বক্তব্য, ‘কমলেশ এখন নোটিস পিরিয়ডে রয়েছেন। যেহেতু এশিয়ান গেমসের দলই আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে সিরিজ খেলছে, তাই বর্তমান ফিজিও এবং স্ট্রেংথ অ্যান্ড কন্ডিশনিং কোচরাই জাপানে দলের সঙ্গে যাবেন’।
অপর একটি সূত্র বলছে, কমলেশ ফিরে যাবেন তাঁর পুরনো আইপিএল ঠিকানা কলকাতা নাইট রাইডার্সে, যেখানে কাজের চাপ অনেক কম এবং দেশেও থাকতে পারবেন তিনি। সম্প্রতি কেকেআরের ফিজিও দিল্লি ক্যাপিটালসে যোগ দিয়েছেন। ফলে সেই জায়গা ফাঁকাই রয়েছে। কমলেশ তাই কেকেআরে ফিরে আসতে পারেন বলেই ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা।
২০২২-এর জুনে নিতিন পটেল সেন্টার অফ এক্সেলেন্সে চলে যাওয়ার পরে ভারতীয় দলে (BCCI) যোগ দিয়েছিলেন কমলেশ। এর আগে কলকাতা নাইট রাইডার্সের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। রাহুল দ্রাবিড় ভারতীয় দলের কোচ থাকার সময়ই তাঁকে জাতীয় দলের মেডিক্যাল সেট-আপে আনা হয়েছিল।
আরও পড়ুন: হাজার দিন পর চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ফিরেই ম্যান ইউয়ের গোলবন্যা, সাবাহকে উড়িয়ে দিলেন সেস্কোরা
এখন কমলেশের (Kamlesh Jain)পদত্যাগের ভবিষ্যতে ব্যস্ত সূচি থাকায় দ্রুত তাঁর জায়গায় নতুন ফিজিও নিয়োগ করতে হবে বোর্ডকে। ভারত ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলবে। তার পর রয়েছে এশিয়ান গেমস এবং নিউজিল্যান্ড সফর।
বর্তমান নোটিস পিরিয়ড অনুযায়ী, নিউজিল্যান্ড সফরই কমলেশের (Kamlesh Jain)ভারতীয় দলের হয়ে শেষ দায়িত্ব হতে পারে। সেই সফর ডিসেম্বরের গোড়ায় শেষ হওয়ার কথা। অবশ্য বিসিসিআই চাইলে তার আগেই তাঁকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিতে পারে।
ইংল্যান্ড সফরের পরে ফিল্ডিং কোচ টি দিলীপও দল ছেড়েছেন। সহকারী কোচ রায়ান টেন দুশখাতেও ভারতীয় দলের সঙ্গে সম্পর্ক শেষ করে ফের কলকাতা নাইট রাইডার্সে যোগ দিয়েছেন। ফলে নতুন মরসুমের আগে ভারতীয় দলের সাপোর্ট স্টাফে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বদল ইতিমধ্যেই হয়ে গিয়েছে। এতগুলো পদে পরিবর্তনের পর এ বার কোচ গৌতম গম্ভীরকে নিয়েও জল্পনা শুরু হয়েছে।
আগামী কয়েকটি সিরিজ যে তাঁর কাছে কঠিন পরীক্ষা হতে চলেছে, এই নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। এই সিরিজগুলিতেই বোঝা যাবে আগামী বছর এই সময়ে তিনি ওয়ান ডে বিশ্বকাপে ভারতের দায়িত্বে থাকবেন কি না।