শেষ ম্যাচে গোয়ার বিপক্ষে ১-১ ড্র করেছে মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। ফলে, খেতাবি লড়াইয়ে কিছুটা হলেও সুবিধা পেয়েছে চির-প্রতিদ্বন্দ্বী ইস্টবেঙ্গল। আর সুবিধা বজায় রাখতেই সোমবার পাঞ্জাব এফসির বিপক্ষে মরসুমের শেষ হোম ম্যাচে মাঠে নামছে লাল-হলুদ ব্রিগেড। খেতাবি দৌড়ে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে ইস্টবেঙ্গলের কাছে এই ম্যাচের গুরুত্ব অপরিসীম। তা নিজেও জানেন লাল-হলুদ কোচ অস্কার ব্রুজো। প্রতিপক্ষ পাঞ্জাব এফসি পয়েন্ট তালিকায় সপ্তম স্থানে থাকলেও দলে এফিয়ং, লুকা ম্যাঞ্চেনদের মতো খেলোয়াড়রা রয়েছেন। তাই তাদেরকে হালকাভাবে নিতে রাজি নন অস্কার। জানালেন, পাঞ্জাব খুব শক্তিশালী দল। তাদের দলে ভারসাম্য আছে, বিশেষ করে মাঝমাঠে। যদিও, নিজের দলের খেলোয়াড়দের নিয়েও বেশ উচ্ছসিত তিনি। লাল-হলুদ কোচের স্পষ্ট বক্তব্য, সাজঘরের পরিবেশ দুর্দান্ত।
খেলোয়াড়রা বাইরের কোনও আওয়াজে মনযোগ দিচ্ছে না। এই মরসুমে সবাই সাফল্য পেতে বদ্ধপরিকর।
এদিকে, ইতিমধ্যেই তিনটি হলুদ কার্ড দেখলেও পাঞ্জাবের বিপক্ষে সম্ভবত প্রথম একাদশে থাকতে চলেছেন ডিফেন্ডার কেভিন সিবিলে। বিষয়টি নিয়ে ম্যাচের আগেরদিন ইস্টবেঙ্গল কোচ বলেন, বর্তমানে তাঁদের ভাবনায় শুধুই পাঞ্জাব ম্যাচ। সেই ম্যাচে জেতার লক্ষ্যেই নামবে দল। পাশাপাশি, পয়েন্ট তালিকায় শীর্ষে থাকাটাকে কোনওরকম চাপ হিসাবে দেখতে রাজি নন অস্কার। এদিকে, পরের ম্যাচ ডার্বি হলেও এখনই সেসব নিয়ে ভাবতে চান না তিনি। বরং, পাঞ্জাব ম্যাচ থেকে তিন পয়েন্ট তুলে নিয়ে ডার্বির আগে নিজেদের অবস্থান আরও মজবুত করতে চান অস্কার।
অন্যদিকে, রবিবার ফের একবার ক্লাবের প্রাক্তন ফুটবলারদের বিরুদ্ধে সরব হলেন ইস্টবেঙ্গল কোচ। অস্কার বলেন, অনেকেই আছে যারা ক্লাবের ক্ষতি করার চেষ্টা করছে। দলের পরিবেশ নষ্ট করছে। ক্লাবের খারাপ সময়কে এরা নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করছে। এই সকল প্রাক্তনরা হয়তো দলের সাফল্য চান না বলেই মনে করছেন অস্কার। তিনি বলেন, কেরালা ম্যাচের পর কিছু মানুষ প্রচুর কথা বলেছিলেন। কিন্তু, বর্তমানে ক্লাব যখন সাফল্য পাচ্ছে তাঁদেরকে আর কোনও কথা বলতে দেখা যাচ্ছে না। এরপরেই বিগত বছরগুলিতে ইস্টবেঙ্গলের সাফল্য না পাওয়ার নেপথ্যে ক্লাবের এই সকল প্রাক্তন খেলোয়াড়রা দায়ী বলেই সুর ছড়িয়েছেন লাল-হলুদ কোচ। এক্ষেত্রে অস্কার বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন প্রাক্তন গোলরক্ষক কোচ সন্দীপ নন্দী, আলভিটো ডি’কুনহা এবং রহিম নবীর নাম। তাঁর মতে, মূলত দালালী করাই এসব প্রাক্তন খেলোয়াড়দের প্রধান কাজ। একইসঙ্গে ইস্টবেঙ্গল কোচ দাবি তুলেছেন, এই সকল প্রাক্তন খেলোয়াড়কে ক্লাবের বাইরে সরিয়ে দেওয়া উচিত। কারণ, এরা দলের জন্য ক্যান্সারের মতোই ক্ষতিকারক।