২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের উত্তেজনার পারদ এখনও চড়তে শুরু করেনি। কিন্তু তার আগেই আতঙ্কের কালো ছায়া নেমে এল বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক শহর কানসাস সিটিতে। ইংল্যান্ড দলের নির্ধারিত ট্রেনিং বেস এবং হোটেল থেকে মাত্র কয়েক মাইল দূরে ভয়াবহ বন্দুকবাজির ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৯ জন। এই ঘটনায় নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে বিশ্বকাপের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে।
স্থানীয় সময় শনিবার ভোর চারটে নাগাদ কানসাস সিটির ট্রুস্ট অ্যাভিনিউ এলাকায় হঠাৎই গুলির শব্দে কেঁপে ওঠে এলাকা। ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ একাধিক আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। প্রথমে তিন জন মহিলা আহত হওয়ার খবর মিললেও পরে জানা যায়, মোট ৯ জন প্রাপ্তবয়স্ক গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। যদিও তাঁদের কারও আঘাত প্রাণঘাতী নয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি। তদন্ত চলছে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, যে এলাকায় এই ঘটনা ঘটেছে, সেটি ইংল্যান্ড দলের বিশ্বকাপ বেস ক্যাম্প থেকে খুবই অল্প দূরত্বে। কয়েক দিনের মধ্যেই কোচ থমাস টাচেলের দল কানসাস সিটিতে পৌঁছনোর কথা। বর্তমানে তারা ফ্লোরিডায় প্রস্তুতি শিবিরে রয়েছে।
বিশ্বকাপ শুরুর আগে থেকেই নিরাপত্তা নিয়ে নানা আলোচনা চলছিল। ইংল্যান্ডের ট্রেনিং ভেন্যু সোপ সকার ভিলজকে কার্যত দুর্গে পরিণত করার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। অতিরিক্ত নিরাপত্তারক্ষী, কংক্রিট ব্যারিকেড, নজরদারি ব্যবস্থা এবং বিশেষ সুরক্ষা বলয় তৈরির উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এই ঘটনার পর সেই নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
যদিও কানসাস সিটির পুলিশ প্রশাসন দাবি করেছে, বিশ্বকাপের জন্য তারা সম্পূর্ণ প্রস্তুত। গত এক বছর ধরে বিশেষ মহড়া, অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে তারা।
তবু বিশ্বকাপের মুখে দাঁড়িয়ে এই ঘটনা ফুটবলপ্রেমীদের মনে অস্বস্তি বাড়িয়ে দিয়েছে। কারণ, আগামী এক মাসে বিশ্বের কোটি কোটি দর্শকের নজর থাকবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে। আর সেই মঞ্চে নিরাপত্তার সামান্য ফাঁকও যে কত বড় বিপদের কারণ হতে পারে, কানসাস সিটির এই রক্তাক্ত ভোর যেন আবারও সেই সতর্কবার্তাই দিয়ে গেল।