নেইমারের মাঠে ফেরা নিয়ে বিতর্ক, প্রশ্ন উঠছে, বেশি ঝুঁকি নেওয়া হয়ে যাচ্ছে না তো? স্কটল্যান্ড ম্যাচের আগে তুঙ্গে বিতর্ক

খোদ দেশের প্রেসিডেন্ট যখন তাঁকে নিয়ে মজা করছেন, তখন কি আর বসে থাকতে পারেন তিনি? তাই দলের সঙ্গে পুরোদমে অনুশীলনে নেমে পড়েছেন ব্রাজিলের সবচেয়ে জনপ্রিয় তারকা নেইমার। কোচ কার্লো আনসেলোত্তিও খুশি তাঁর শারীরিক অবস্থায়। বুধবার গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচে তাই হয়তো মাঠে নেমে পড়তে দেখা যাবে নেইমারকে। কিন্তু সত্যিই তিনি মাঠে নামার অবস্থায় রয়েছেন কি না, সেই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

ব্রাজিলের বিশ্বকাপ অভিযানে এখনও মাঠে নামতে না পারলেও বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচের আগে তাদের শিবিরের সবচেয়ে আলোচিত নামটি নেইমার। স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তাঁর সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন নিয়ে এখন উত্তেজনা যেমন রয়েছে, তেমনই রয়েছে বড়সড় বিতর্কও।

ডান পায়ের কাফের চোটের কারণে মরক্কো ও হাইতির বিরুদ্ধে ব্রাজিলের প্রথম দুটি ম্যাচে খেলতে পারেননি নেইমার। তবে সাম্প্রতিক অনুশীলনে তিনি পুরো দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন এবং কোচ কার্লো আনসেলোত্তিও জানিয়েছেন, স্কটল্যান্ড ম্যাচে তিনি হয়তো মাঠে নামতে পারবেন।


তবে প্রশ্ন উঠছে, ৩৪ বছর বয়সী এই তারকাকে কি সত্যিই বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে ভরসা করা উচিত? চোট-আঘাতে জর্জরিত নেইমার গত তিন বছরে ব্রাজিলের হয়ে একটিও ম্যাচে খেলতে পারেননি। শেষ ম্যাচ খেলেছিলেন ২০২৩-এর অক্টোবরে। তার পর তিনি মাত্র ৪৫টি পেশাদার ম্যাচ খেলেছেন এবং গোল করেছেন ১৭টি। ফলে তাঁর বর্তমান ফিটনেস ও ছন্দ নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে বিশেষজ্ঞদের।
সম্প্রতি ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুই ইনাসিও লুলা দা সিলভা নেইমারকে নিয়ে মজা করে মন্তব্য করেন, ‘ও তো এখন ওয়ার্ক ফ্রম হোম প্লেয়ার’। দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় তারকাকে নিয়ে প্রেসিডেন্টের মন্তব্য দেশের ফুটবল মহলে অনেকেই ভাল ভাবে নেয়নি।

ব্রাজিল শিবিরেও নেইমারের গুরুত্ব নিয়ে কোনও দ্বিমত নেই। দলের মিডফিল্ডার লুকাস পাকেতা তাঁকে জাতীয় দলের জন্য ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’ বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, “নেইমার আমাদের দলের খুবই গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এই জার্সিতে অনেক ইতিহাস সৃষ্টি করেছে ও। এই বিশ্বকাপেও আমাদের দলকে অনেক সাহায্য করতে পারে ও। আশা করি, যথাসম্ভব দ্রুত ও দলে ফিরে আসবে এবং দলের সাফল্যে অবদান রাখবে।” কিন্তু কতটা কী অবদান রাখতে পারবেন তিনি, এই প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই। অন্যদিকে, ভিনিসিয়াস জুনিয়র প্রকাশ্যেই বলেছেন, নেইমার তাঁর আদর্শ এবং দলের মধ্যে তাঁর উপস্থিতি সকলকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস দেয়।

বিশ্বকাপের গ্রুপ সি-তে ব্রাজিল শীর্ষে থাকলেও স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচটি তাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গ্রুপের শীর্ষস্থান নিশ্চিত করতে জয় প্রায় অপরিহার্য। সেই কারণেই নেইমারের প্রত্যাবর্তনকে ব্রাজিল সমর্থকরা বড় অস্ত্র হিসেবে দেখছেন। কিন্তু স্কটল্যান্ডের ডিফেন্ডার জ্যাক হেনড্রি নেইমারের নাম শুনে ভয় পাচ্ছেন না। তাঁর দাবি, “বিশ্বের সেরা ফুটবলারদের বিরুদ্ধে খেলতেই আমি অভ্যস্ত। নেইমারকে সামলানো কোনও সমস্যা নয়”।

ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা নেইমার আসলে শুধুমাত্র তাঁর ‘অসাধারণ অতীত কীর্তি ও ইতিহাসের’ কারণেই দলে জায়গা পেয়েছেন। কারণ, গত তিন বছরে তো বটেই, এমনকি গত তিন মাসেও তিনি এমন কিছু করতে পারেননি, যা তাঁকে বিশ্বকাপ দলে অন্তর্ভুক্ত করার যথেষ্ট কারণ হিসেবে ধরা যায়।

পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৩ সালের ১৮ অক্টোবর উরুগুয়ের বিরুদ্ধে ব্রাজিলের হয়ে শেষ ম্যাচ খেলার পর থেকে নেইমার পেশাদার ফুটবলে মাত্র ৪৫টি ম্যাচ খেলেছেন এবং করেছেন মাত্র ১৭টি গোল।
সবচেয়ে অবাক করা পরিসংখ্যান হল, ব্রাজিলের বিশ্বকাপ দলে বিতর্কিতভাবে বাদ পড়া ফরোয়ার্ড জোয়াও পেদ্রো গত এক মরসুমেই এই দুই সংখ্যাকেই ছাড়িয়ে গেছেন। চেলসির হয়ে তিনি ৫০ ম্যাচে ২০টি গোল করেছেন, যা নেইমারের গত তিন বছরের পরিসংখ্যানের চেয়েও বেশি কার্যকর বলে মনে করা হচ্ছে।