অবশেষে ব্রাজিল শিবিরে এল স্বস্তির খবর। দীর্ঘদিন কাফ মাসলে চোটের কারণে মাঠের বাইরে থাকা তারকা ফরোয়ার্ড নেইমার স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে মাঠে ফিরতে পারেন। আর কেউ নয়, এই খবর দিয়েছেন খোদ দলের কোচ কার্লো আনসেলোত্তি।
হাইতিকে ৩-০-য় হারানোর পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে আনসেলোত্তি বলেন, ‘নেইমারের সুস্থ হয়ে ওঠার প্রক্রিয়া সঠিক পথেই এগোচ্ছে’। ব্রাজিলের কোচ জানিয়েছেন, ‘শনিবার থেকে ব্যক্তিগত অনুশীলন শুরু করবে নেইমার। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী চললে সোমবার হয়তো দলের সঙ্গে অনুশীলনে যোগ দেবে ও এবং পরের ম্যাচে খেলতেও পারবে’।
দুদিন আগেও নেইমারকে দলের সঙ্গে অনুশীলন করতে দেননি আনসেলোত্তি। তিনি দলের সতীর্থদের সঙ্গে প্র্যাকটিস করা শুরু করলেও কোচ তাঁকে তা করতে বারণ করেন এবং আলাদা ভাবে অনুশীলন করার নির্দেশ দেন। এই ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হয়ে যাওয়ার পর সারা দুনিয়ার নেইমার-ভক্তরা বেশ মনমরা হয়ে গিয়েছিলেন। ব্রাজিলের মিডিয়ার একাংশে এই খবরও ছড়ানো হয় যে, নেইমার গ্রুপ পর্বে তো নয়ই, সারা বিশ্বকাপে তাঁর খেলা হবে কি না, এই নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে।
কিন্তু সেই আনসেলোত্তিই এ দিন জানিয়ে দেন, নেইমারকে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে নামিয়ে দেখে নিতে পারেন তিনি। মে মাসে কাফ মাসলে চোট পাওয়ার পর থেকেই মাঠের বাইরে রয়েছেন নেইমার। সেই কারণে মরক্কো ও হাইতির বিরুদ্ধে ব্রাজিলের প্রথম দুই বিশ্বকাপ ম্যাচে খেলতে পারেননি তিনি। তবে শুরু থেকেই আনসেলোত্তি আশাবাদী ছিলেন যে গ্রুপ পর্ব শেষ হওয়ার আগেই দলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা মাঠে ফিরবেন। সেই আশাতেই তিনি দলের সঙ্গে নেইমারকে মার্কিন মুলুকে নিয়ে এসেছেন।
চলতি বিশ্বকাপের প্রথম জয় তুলে নেওয়ার পর উচ্ছ্বসিত ব্রাজিল কোচ বলেন, ‘আজ কমপ্লিট পারফরম্যান্স দেখিয়েছে দল। আমরা ভালো আক্রমণ যেমন করেছি, তেমন ডিফেন্সও ভালো করেছি। এবং বল ছাড়া অবস্থাতেও ভালো খেলেছি। আমি খুবই সন্তুষ্ট।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমরা উন্নতি করছি। প্রথম ম্যাচের তুলনায় আজ দলে অনেক বেশি ভারসাম্য দেখা গিয়েছে। নকআউট পর্বের আগে আমাদের আরও উন্নতি করতে হবে, তবে আমরা সঠিক পথেই আছি।’
ফিলাডেলফিয়ায় মাতেউস কুনহার জোড়া গোল এবং ভিনিসিয়াস জুনিয়রের একটি গোলে সহজ জয় পায় ব্রাজিল। তিনটি গোলেই প্রত্যক্ষ অবদান ছিল ভিনিসিয়াসের। প্রথম গোলে তাঁর শট ফিরিয়ে দিয়েছিলেন হাইতির গোলরক্ষক, ফিরতি বলে গোল করেন কুনহা। দ্বিতীয় গোলেও কুনহাকে অ্যাসিস্ট করেন রিয়াল মাদ্রিদ তারকা, পরে নিজেও গোলের দেখা পান।
দুই গোল করা কুনহার প্রশংসা করে কোচ বলেন, ‘মাতেউস খুব ভালো খেলেছে। সে দলের জন্য কঠোর পরিশ্রম করেছে এবং গোলও করেছে। একজন স্ট্রাইকারের কাছে এর চেয়ে বেশি কিছু চাওয়া যায় না।’ ভিনিসিয়াসের পারফরম্যান্স নিয়েও সন্তুষ্ট ব্রাজিল কোচ। তাঁর ভাষায়, ‘ভিনি ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দিয়েছে। ও আক্রমণে খুবই বিপজ্জনক ছিল এবং দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।’
এই জয়ের ফলে দুই ম্যাচে চার পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ ‘সি’-র শীর্ষে উঠে এসেছে ব্রাজিল। শেষ গ্রুপ ম্যাচে স্কটল্যান্ডের মুখোমুখি হবে আনসেলোত্তির দল। সেই ম্যাচে জয় পেলে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবেই নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
আনসেলোত্তি অবশ্য পাশাপাশি দলকে সতর্কও করে দিয়ে বলেছেন, ‘আমরা ভালো খেলেছি, কিন্তু এখনও কিছু জায়গায় উন্নতির সুযোগ আছে। এখন আমাদের লক্ষ্য ধারাবাহিকতা বজায় রাখা।’ ব্রাজিলের ছন্দে ফেরা যেমন সমর্থকদের কাছে স্বস্তির খবর, তেমনই নেইমারকে নিয়ে কোচের ইতিবাচক ইঙ্গিতও কম বড় খবর নয়। প্রায় তিন বছর জাতীয় দলের হয়ে না খেললেও এবং চোটের কারণে ভুগলেও ব্রাজিল কোচ তাঁর অভিজ্ঞতার উপর ভরসা রেখেছিলেন। এখন স্কটল্যান্ড ম্যাচে তাঁর সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন ব্রাজিল সমর্থকদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার করবে।