৯৮১ দিন পর ব্রাজিলের জার্সি গায়ে মাঠে নামতেই সমর্থকদের উল্লাস, চোখের জল ধরে রাখতে পারলেন না নেইমার

দীর্ঘ ৯৮১ দিনের অপেক্ষার অবসান। অবশেষে ব্রাজিলের জার্সিতে মাঠে ফিরলেন এই মুহূর্তে ব্রাজিলের সবচেয়ে জনপ্রিয় তারকা নেইমার জুনিয়র। স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে পরিবর্ত হিসেবে মাঠে নেমে আন্তর্জাতিক ফুটবলে ফিরে এলেন ব্রাজিলের সর্বকালের সেরা গোলদাতা। যদিও তাঁর প্রত্যাবর্তনের রাতে ‘স্পটলাইট’ কেড়ে নিলেন আর এক তারকা ভিনিসিয়াস জুনিয়র। কিন্তু নেইমারের মাঠে নামার মুহূর্তের পরিবেশই বুঝিয়ে দেয় সমর্থকদের কাছে কতটা প্রিয় তিনি।

বুধবার স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে ব্রাজিলের ৩-০ জয়ের মধ্যেই ৭৬তম মিনিটে মাঠে নামেন নেইমার। ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর এটাই ছিল তাঁর প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ। চোট, অস্ত্রোপচার এবং দীর্ঘ চিকিৎসা ও রিকভারির কঠিন পথ পেরিয়ে অবশেষে জাতীয় দলের জার্সিতে ফিরে এলেন তিনি।

ম্যাচ চলাকালীনই গ্যালারিতে নেইমারের নামে সমর্থকদের স্লোগান দিতে শোনা যায় বারবার। তাদের একটাই দাবি, নেইমার যেন মাঠে নামেন। ম্যাচের দু’দিন আগেই কোচ কার্লো আনসেলোত্তি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, তিনি শুরু থেকে না খেললেও রিজার্ভ বেঞ্চে থাকবেন। তাই তাঁকে নিয়ে আগ্রহের সীমা ছিল না সমর্থকদের মধ্যে।


মিয়ামিতে ম্যাচে নামার জন্য যখন তিনি বেঞ্চ ছেড়ে উঠে দাঁড়ালেন এবং মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখন গ্যালারিতে উপস্থিত দর্শকেরা দাঁড়িয়ে হাততালি দিতে শুরু করেন। সেই অভূতপূর্ব অভ্যর্থনা যেন আবেগে ভাসিয়ে দেয় তারকা ফরোয়ার্ডকে। মাঠে নামার আগে তাঁকে স্পষ্টতই আবেগাপ্লুত দেখাচ্ছিল। এরপরই তিনি নিজের চতুর্থ ফিফা বিশ্বকাপ অভিযানে অংশ নিতে মাঠে পা রাখেন।

৩৪ বছর বয়সি এই তারকা মাঠে নামতেই সমর্থকদের উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে স্টেডিয়াম। যদিও তিনি গোল করতে পারেননি, তবু কয়েকটি আক্রমণ গড়ে তোলেন এবং তাঁর উপস্থিতিই গোটা দলকে আরও চনমনে করে তোলে।খেলা শেষের বাঁশি বাজার পর নেইমার আর নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। ক্যামেরায় ধরা পড়ে ব্রাজিলের এই তারকার চোখে জল, যা দীর্ঘ অপেক্ষা, লড়াই এবং জাতীয় দলের জার্সিতে প্রত্যাবর্তনের মুহূর্তের আবেগকেই ফুটিয়ে তোলে।

বিশ্বকাপ শুরুর আগে নেইমারের প্রত্যাবর্তন নিয়ে যথেষ্ট বিতর্ক ছিল। চোট থেকে সদ্য সেরে ওঠা একজন অভিজ্ঞ ফুটবলারকে দলে নেওয়া উচিত কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। কিন্তু কোচ শুরু থেকেই তাঁর ওপর আস্থা রেখেছিলেন। স্কটল্যান্ড ম্যাচের আগে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, ‘নেইমার প্রস্তুত। প্রয়োজন হলে পুরো ম্যাচও খেলতে পারবে।’

তবে এই ব্রাজিল দলে এখন নেতৃত্বের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ভিনিসিয়াস। স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে তাঁর গতি, ড্রিবলিং এবং গোল করার দক্ষতা ফের প্রমাণ করে দিয়েছে যে সেলিসাওদের আক্রমণের নতুন মুখ তিনিই। ম্যাচে জোড়া গোল করার পাশাপাশি হ্যাটট্রিকের খুব কাছেও পৌঁছে গিয়েছিলেন তিনি।

নেইমারের প্রত্যাবর্তন নিঃসন্দেহে ব্রাজিলের জন্য বড় সুখবর। তবে একই সঙ্গে স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে, এই বিশ্বকাপে ব্রাজিলের প্রধান অস্ত্র এখন ভিনিসিয়াস জুনিয়র। অভিজ্ঞ নেইমার হয়তো দলের পথপ্রদর্শক ও অনুপ্রেরণার উৎস, কিন্তু মাঠের কেন্দ্রীয় চরিত্র হয়ে উঠেছেন নতুন প্রজন্মের এই তারকা। ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন পূরণ করতে গেলে আনসেলোত্তিকে তাই ভরসা রাখতে হবে দুই প্রজন্মের এই জুগলবন্দির ওপর।