‘কঠোর পরিশ্রম করব, যাতে সবুজ-মেরুন সমর্থকরা গর্বিত হতে পারেন’, চুক্তিতে সই করে বললেন নয়া মোহনবাগান কোচ

New MohanBagan Coach Photo-SNS

কলকাতায় এসেই তাঁর প্রথম ম্যাচ ডার্বি। যা নিয়ে রীতিমতো রোমাঞ্চিত মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের নতুন হেড কোচ গ্রিসের পানাগিওটিস দিলমপেরিস। প্যানোস নামে যাঁকে চেনে ভারতীয় ফুটবল মহল। সবুজ-মেরুন বাহিনীর দায়িত্ব নিয়েই তাঁকে দল নামাতে হবে কলকাতা ডার্বিতে, যা তাঁর কাছে বিশাল চ্যালেঞ্জ। ২৫ জুলাই ডুরান্ড কাপের উদ্বোধনী ম্যাচেই এ বার মুখোমুখি হতে চলেছে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দী।

শুরুতেই এত বড় চ্যালেঞ্জ নিয়ে দিলমপেরিস বলেন, “ভারতে আসার পরই জেনে গিয়েছি কলকাতা ডার্বি বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম বৃহত্তম এবং সবচেয়ে ঐতিহাসিক ম্যাচগুলোর একটি। সমর্থক, খেলোয়াড় এবং ক্লাবের সাথে যুক্ত প্রত্যেকের কাছে এর গুরুত্ব কতটা, তা আমি জানি। এই ধরনের ম্যাচের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করার সেরা উপায় কেবল আবেগ নয়, বরং চমৎকার প্রস্তুতি, শৃঙ্খলা এবং আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামা। আমরা প্রতিপক্ষকে সম্মান করব, তবে একই সঙ্গে মোহনবাগানের ঐতিহ্যের সাথে মানানসই সাহসিকতা নিয়ে এই ডার্বি জিততেও চাইব”। সোমবার কোচের চুক্তিতে সই করার পর মোহনবাগান এসজি মিডিয়া টিম-কে এই কথাগুলি বলেন তাদের নয়া কোচ।

গ্রিক কোচের সঙ্গে এক বছরের চুক্তি সবুজ মেরুনের। গ্রিসের প্রথম ডিভিশনের বিভিন্ন ক্লাবে কোচিং করানোর পর গত বছর ভারতে এসে পঞ্জাব এফ সি-র দায়িত্ব নিয়েছিলেন তিনি। পঞ্জাবের নতুন দলকে কোচিং করিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের আকর্ষনীয় ফুটবল উপহার দিয়েছিলেন সবুজ মেরুনের নতুন হেড স্যার। ইন্ডিয়ান সুপার লিগে নতুন বিদেশি ও যুব ফুটবলার নিয়ে দল গড়েও নজর কেডে়ছিল তাঁর কৌশল। মূলত আক্রমনাত্মক অথচ ব্যালান্স ফুটবলের দর্শনে বিশ্বাসী পানোস। একান্ন বছর বয়সী এই কোচের সুবিধা তিনি সিনিয়র ও জুনিয়র ফুটবলারদের নিয়ে দলে সমন্বয় ঘটিয়ে সফল হয়েছেন। সেজন্যই তাঁর হাতে নতুন মরসুমে দল পরিচালনার দায়িত্ব তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মোহনবাগান সুপারজায়ান্ট ম্যানেজমেন্ট।
কেন মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের প্রস্তাবে রাজি হলেন, জানতে চাওয়া হলে দিলমপেরিস বলেন, “আসলে মোহনবাগান কেবল এক ফুটবল ক্লাব নয়— এক ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান, যার সঙ্গে রয়েছে গৌরবময় ইতিহাস, জয়ের সংস্কৃতি এবং এশিয়ার অন্যতম সেরা আবেগপ্রবণ ও অনুরাগী সদস্য সমর্থক। যা ভারতের আর কোনও ক্লাবের নেই। তাই এই ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত হতে পেরে আমি খুশি”। দল নিয়ে সন্তুষ্ট গ্রিক কোচ বলেন, “হ্যাঁ, আমি বিশ্বাস করি একটি শক্তিশালী এবং প্রতিভাবান দল হাতে পাচ্ছি, যেখানে অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার একটি চমৎকার ভারসাম্য আছে। আমার মূল লক্ষ্য থাকবে, আমি যে দলকে কোচিং করাব তাদের সবাইকে সক্ষমতার শীর্ষে নিয়ে গিয়ে সর্বোচ্চভাবে ব্যবহার করতে। সঠিক মানসিকতা, শৃঙ্খলা এবং দায়বদ্ধতার মাধ্যমে একটি ঐক্যবদ্ধ দল গড়ে তুলতে পারলে সাফল্য আসবে”।


দল নিয়ে তাঁর মূল লক্ষ্য যে প্রতি টুর্নামেন্টের খেতাব জয়, তা স্পষ্ট করে এদিন দিলমপেরিস বলেন, “মোহনবাগানের মত হাই প্রোফাইল ক্লাবের কোচিং করালে সবসময় প্রতিটি ট্রফির জন্য লড়াই করাই লক্ষ্য হওয়া উচিত। টানা চ্যাম্পিয়ন হওয়া কখনোই সহজ কাজ নয়। এখন আমাদের দায়িত্ব হলো সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখা। একটি আকর্ষণীয় ও শৃঙ্খলাপরায়ণ দল তৈরি করতে চাই আমি, যা জয়ের রাস্তা খুলে দেবে। কঠোর পরিশ্রম এবং ক্লাবের জন্য আরও সাফল্য অর্জনের মানসিকতা নিয়েই মাঠে নামব আমরা”।

ভারতে ও সারা দুনিয়ায় ছড়িয়ে থাকা মোহনবাগানের কোটি কোটি সমর্থকদের প্রত্যাশার চাপ সামলানো নিয়েও পরিকল্পনা রয়েছে নয়া কোচের। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “একটি প্রবাদ আছে, ‘প্রেশার ইজ প্রিভিলেজ’। বিশ্বের সব বড় ক্লাবগুলোতেই প্রত্যাশা সব সময়ই থাকে এবং সেটাই স্বাভাবিক। মোহনবাগান সমর্থকদের এই আবেগই ক্লাবের অন্যতম প্রধান শক্তি। আমাদের দায়িত্ব হলো কঠোর পরিশ্রম, পেশাদারিত্ব এবং এই মহান ক্লাবের মর্যাদার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ পারফরম্যান্সের মাধ্যমে প্রতিদিন তাদের বিশ্বাস অর্জন করা। প্রতি সপ্তাহে জয়ের প্রতিশ্রুতি দিতে পারব না, কিন্তু আমরা এমন একটি দল হয়ে উঠতে চাইব যারা প্রতিটি ম্যাচ জেতার তীব্র আকাঙ্ক্ষা নিয়ে মাঠে নামবে, লড়বে”।

সবুজ মেরুন সমর্থকদের জন্য নতুন বিদেশি কোচের বার্তা, “আমি সৌভাগ্যবান যে এর আগে এমন কিছু ক্লাবে কাজ করেছি যেখানে সমর্থকরা সাফল্য ছাড়া কিছু বুঝতেন না, তবে মোহনবাগান অনন্য। এখানে আসার আগেই আমি ক্লাব এবং তাদের সমর্থকদের মধ্যে আবেগের সম্পর্কের কথা বুঝতে পেরেছি। সমস্ত মোহনবাগান সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, এই ক্লাব আপনাদের কাছে কতটা আবেগের জায়গা তা আমি জানি। এই ক্লাবের জার্সি গায়ে জড়ানোর পর দায়িত্ব কতটা বেড়ে যায়, তাও আমি বুঝি। আমরা প্রতিদিন কঠোর পরিশ্রম করব, যাতে সবুজ মেরুন সমর্থকরা গর্বিত হতে পারেন। আমাদের আপনাদের সমর্থনের শক্তি প্রয়োজন, কারণ দল এবং সমর্থকরা যখন এক হয়ে এগিয়ে চলে, তখনই ফুটবল সবচেয়ে শক্তিশালী হয়ে ওঠে। ট্রফি জয়ের জন্য যা দরকার”।