আইপিএলের সবচেয়ে দামি দল মুম্বই, শাহরুখের কেকেআরকে টপকে দ্বিতীয় স্থানে কোহলির আরসিবি! কার কত দাম, জেনে নিন

IPL Valuations Photo-SNS

আইপিএলে দশ দলের সম্মিলিত বাজারমূল্য প্রায় ১.৭ লক্ষ কোটি টাকা! ২০০৮ সালে যে কেকেআর বিক্রি হয়েছিল মাত্র ৭৫ কোটি টাকায়, এখন তার মূল্য প্রায় ১৬,৫০০ কোটি। অবিশ্বাস্য হলেও এটাই সত্যি।

মাঠের লড়াইয়ে কে এগিয়ে, তা নিয়ে আলোচনা হয় প্রতি মরসুমেই। কিন্তু টাকার অঙ্কে আইপিএলের কোন দল সবচেয়ে ধনী, সেই হিসাব সামনে আসতেই রীতিমতো চোখ কপালে ওঠার উপক্রম। বাজারমূল্যের বিচারে সবার উপরে রয়েছে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। দ্বিতীয় স্থানে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (আরসিবি)। আর শাহরুখ খানের কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) রয়েছে চতুর্থ স্থানে। অর্থাৎ, বিরাট কোহলির দলের বাজারমূল্য টপকে গিয়েছে কলকাতার ফ্র্যাঞ্চাইজিকেও।

ক্রীড়া ব্যবসা সংক্রান্ত সংস্থা স্পোর্টিকো-র মূল্যায়ন অনুযায়ী, চলতি বছরে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বাজারমূল্য ২.১ বিলিয়ন ডলার, ভারতীয় মুদ্রায় যে অঙ্কটা দঁড়ায় প্রায় ১৯,৯৪৯ কোটি টাকা। দ্বিতীয় স্থানে থাকা আরসিবির মূল্য ১.৮৫ বিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ প্রায় ১৭,৬০০ কোটি টাকা। তিন নম্বরে চেন্নাই সুপার কিংস। তাদের মূল্য ১.৭৫ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ১৬,৬৭০ কোটি টাকা। আর কেকেআরের মূল্য ১.৭৩ বিলিয়ন ডলার, ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় ১৬,৪৮০ কোটি টাকা।


অর্থাৎ, কলকাতার দলের থেকে প্রায় ১,১২০ কোটি টাকা বেশি মূল্য আরসিবির। ২০২৬ আইপিএলে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পরে আরসিবি যে বাণিজ্যিক দিক থেকে কতটা শক্তিশালী হয়ে উঠেছে, এই হিসাবেই তা স্পষ্ট।

১৮ বছরে প্রায় ২৩ গুণ বৃদ্ধি নাইটদের বাজারমূল্যে!

শুধু বর্তমান মূল্যায়ন নয়, গত ১৮ বছরে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলির আর্থিক উত্থানও নজর কাড়ার মতো। ২০০৮ সালে আইপিএলের প্রথম মরসুমের আগে শাহরুখ খান কেকেআর কিনেছিলেন ৭৫.০৯ মিলিয়ন ডলারে। বর্তমানে সেই দলের মূল্য প্রায় ১.৭৩ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ, প্রায় ২৩ গুণ বেড়েছে শাহরুখের দলের বাজারমূল্য। যা অভাবনীয় বললেও কম বলা হয় বোধহয়।

বাজারমূল্য সবচেয়ে বেশি বেড়েছে রাজস্থান রয়্যালসের। ২০০৮ সালে মাত্র ৬৭ মিলিয়ন ডলারে বিক্রি হওয়া দলটির বর্তমান মূল্য ১.৬৫ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ, প্রায় ২৫ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে তাদের মূল্য। অন্য দিকে, ২০০৮-এ ১১১.৬ মিলিয়ন ডলারে বিক্রি হওয়া আরসিবির মূল্য বেড়েছে প্রায় ১৬.৬ গুণ।

আইপিএলের প্রতিষ্ঠাতা তথা প্রথম কমিশনার ললিত মোদী প্রথম মরসুমের পরেই ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলির ভবিষ্যৎ মূল্য নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, ‘আমি কোনও আর্থিক বিশ্লেষক নই। তবে লিগের বিপুল সাফল্য এবং ভবিষ্যতের সম্ভাবনা দেখে বলতে পারি, দলগুলির মালিকেরা অত্যন্ত কম দামে সম্পদ কিনেছিলেন।’ তাঁর সেই ভবিষ্যদ্বাণীতে যে কোনো ভেজাল ছিল না, দলগুলির বর্তমান মূল্যায়ন দেখেই তা বোঝা যায়।

১০ দলের সম্মিলিত মূল্য প্রায় ১.৭ লক্ষ কোটি টাকা!

স্পোর্টিকো-র হিসাব অনুযায়ী, আইপিএলের দশটি দলের সম্মিলিত বাজারমূল্য প্রায় ১৭ বিলিয়ন ডলার। ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় ১.৬২ লক্ষ কোটি টাকা। প্রতিটি দলের গড় মূল্য প্রায় ১.৭ বিলিয়ন ডলার। উল্লেখযোগ্য বিষয়, আইপিএলের কোনও দলেরই বাজারমূল্য এখন ১.৫ বিলিয়ন ডলারের কম নয়।

২০২৬ মরসুমে একটি আইপিএল দলের গড় আয় ছিল ৭৪.৪ মিলিয়ন ডলার। আয়ের তুলনায় দলের মূল্যায়নের অনুপাত ২২.৯। এই অনুপাত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাস্কেটবল লিগ এনবিএ-র ক্ষেত্রে ১৪.৬ এবং সে দেশের ফুটবল লিগ এনএফএল-এর ক্ষেত্রে ১২.৭। অর্থাৎ, বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ক্রীড়া লিগগুলির তুলনায় বাণিজ্যিক মূল্যায়নেও অনেকটা এগিয়ে আইপিএল।

এই বিপুল আর্থিক সাফল্যের পিছনে রয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের কেন্দ্রীয় রাজস্ব বণ্টন, সম্প্রচার স্বত্ব, স্পনসরশিপ, টিকিট বিক্রি এবং বাণিজ্যিক চুক্তি। বোর্ডের কেন্দ্রীয় আয় থেকে প্রতিটি ফ্র্যাঞ্চাইজি বছরে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৪৭৫ কোটি থেকে ৫২৫ কোটি টাকা) পায়। ফলে মাঠের সাফল্যের পাশাপাশি আর্থিক দিক থেকেও আইপিএলের দলগুলি ক্রমশ শক্তিশালী হয়ে উঠছে এবং এর ফলে যে আইপিএলের ভবিষ্যৎ বেশ উজ্জ্বল, এই নিয়ে কোনো সন্দেহই নেই।

 

২০২৬ সালের আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলির মূল্যায়ন (ভারতীয় মুদ্রায়):

মুম্বই ইন্ডিয়ান্স

১৯,৯৪৯ কোটি

রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু

১৭,৬০০ কোটি

চেন্নাই সুপার কিংস

১৬,৬৭০ কোটি

কলকাতা নাইট রাইডার্স

১৬,৪৮০ কোটি

দিল্লি ক্যাপিটালস

১৬,২০০ কোটি

রাজস্থান রয়্যালস

১৫,৭২০ কোটি

সানরাইজার্স হায়দরাবাদ

১৫,৪৪০ কোটি

গুজরাত টাইটান্স

১৫,০৬০ কোটি

পঞ্জাব কিংস

১৪,৫৮০ কোটি

লখনউ সুপার জায়ান্টস

১৪,২৮০ কোটি