ডুরান্ড কাপ ফুটবলের ডার্বিতে মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট জয় তুলে নেয় ইস্টবেঙ্গলের বিপক্ষে। অতীতে মাঠে একটা কথা বার বার ঘেরাফেরা করত, ডার্বি জয়ের পরে সেই ক্লাব পরের ম্যাচে ধাক্কা খায়। কিন্তু মঙ্গলবার কলকাতা ফুটবল লিগে সেই ছবিটা পাল্টিয়ে গেল। মোহনবাগান ১-০ গোলে ইউনাইটেড কলকাতার বিরুদ্ধে জয় তুলে নিয়েছে। বুধবার মোহনবাগান দিবসের প্রাক্কালে এই জয় অবশ্যই সমর্থকদের কাছে খুশির বার্তা দিয়েছে। আবার এদিন মোহনবাগান মাঠে উপস্থিত হয়েছিলেন রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ। মাঠে প্রবেশ করার পরেই ক্রীড়ামন্ত্রীকে উত্তরীয় পরিয়ে বিশেষ সংবর্ধনা জানান ক্লাব সভাপতি দেবাশিস দত্ত ও সচিব সৃঞ্জয় বসু।
সংবর্ধনার পরেই ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ অমর একাদশের মূর্তির সামনে দাঁড়িয়ে শ্রদ্ধা জানান। তারপরেই তাঁবু ঘুরে মোহনবাগানের খেলা দেখার জন্য গ্যালারিতে বসেন। ইন্দ্রনীল খাঁ বলেন, মোহনবাগান আমাদের গৌরব। ভারতের জাতীয় ক্লাব মোহনবাগান। বাংলার ফুটবলারদের বিশ্ব দরবারে পৌঁছে দিয়েছে মোহনবাগান ক্লাব। এটাও মনে রাখতে হবে, ভারতের প্রথম স্বাধীনতার সূর্য ময়দানে দেখতে পাওয়া গেছে ১৯১১ সালে আইএফএ শিল্ডের ফাইনালে সেনাদলকে হারিয়ে দেয় মোহনবাগান। সেদিনের বীর ফুটবলাররা যেভাবে লড়াই করে সেনাদের পরাস্ত করেছিলেন, তা ইতিহাস।
মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট শক্তিশালী দল গড়লেও এদিন সেইভাবে তাদের দেখতে পাওয়া গেল না। নারায়ণ দাস, জবি জাস্টিন ও বিদ্যাসাগর সিংরা একেবারেই ছন্দে ছিলেন না। যার ফলে গোল করার মতো সুযোগ তাঁরা তৈরি করতে পারেননি। এমনকি ডার্বি ম্যাচে গোলদাতা সুহেলকেও ফর্মে দেখতে পাওয়া যায়নি। অবশ্য কিয়ান নাসিরি প্রথম একাদশে ছিলেন না। পাল্টা আক্রমণ শানিয়ে মাঝেমধ্যেই প্রতিপক্ষ ইউনাইটেড কলকাতা গোল করার মতো সুযোগ তৈরি করেছিল। কিন্তু সেই সুযোগ তাঁরা কাজে লাগাতে পারেননি। মোহনবাগান ছন্নছাড়া ফুটবল খেলল।
তবে সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায় দৌড়াদৌড়ি করেছেন। খেলার ৪৩ মিনিটে সায়নের থেকে পাওয়া বলে সবুজ-মেরুনের একমাত্র গোলটি করেন সুহেল। খেলার দ্বিতীয়ার্ধে ইউনাইটেড কলকাতা গোল পরিশোধ করার জন্য ছক পরিবর্তন করে মোহনবাগান শিবিরে চাপ সৃষ্টি করে। ৮০ মিনিটের মাথায় মোহনবাগান পেনাল্টি পেয়ে যায়। কিন্তু সেই সুযোগটা কাজে লাগাতে পারেননি বিদ্যাসাগর সিং। তবে সাত মিনিট বাদেই সায়ন একক প্রচেষ্টায় ইউনাইটেড কলকাতার পেনাল্টি বক্সের মধ্যে প্রবেশ করে গোলে শট নেওয়ার সময় পিছন থেকে প্রতিপক্ষ দলের অমিত টুডু ফাউল করলে রেফারি সঙ্গে সঙ্গে লাল কার্ড দেখান। লাল কার্ড দেখা নিয়ে দু’দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে গণ্ডগোল বেঁধে যায়। এমনকি জবি জাস্টিন মারামারিতে অংশ নিয়ে নেন।
জবিকেও লালকার্ড দেখিয়ে মাঠের বাইরে বের করে দেন রেফরি। আবার গোল বাতিল থেকে মোহনবাগান দলের কোচকে লাল কার্ড দেখানোর মতো ঘটনা ঘটেছে। সব মিলিয়ে রেফারি বার বার দুই দলের খেলোয়াড়দের সতর্ক করেছেন। খেলার শেষে কোচ বাস্তব রায় রেফারির ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করেন।