আজ যুবভারতীতে মোহনবাগান চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেবে কেরল ব্লাস্টার্সকে

শেষ পর্যন্ত আইএসএল টুর্নামেন্টের বল মাঠে গড়াতে চলেছে ভ্যালেন্টাইনস ডে’তে। শনিবার প্রথম ম্যাচেই মোহনবাগান সুপার জায়ান্টস ও কেরল ব্লাস্টার্স মুখোমুখি হবে। আর খেলা হবে এশিয়ার অন্যতম সেরা স্টেডিয়াম যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গণে। মোহনবাগান ক্লাবের সমর্থকরা প্রথম ম্যাচ থেকেই দারুণভাবে উৎসাহিত। তার প্রধান কারণ হল, সবুজ-মেরুন ব্রিগেডের নতুন কোচ সের্জিও লোবেরা। কোচ লোবেরা কলকাতার দর্শকদের যে আন্তরিকতা, সেই আন্তরিকতায় খেলার ছক তৈরি করতে চাইছেন। তিনি ভালো করেই জানেন, মোহনবাগান বলতেই একটা আবেগ। সেই আবেগকে হাতিয়ার করে কেরলের বিরুদ্ধে ম্যাচ জেতার জন্য সবরকম প্রস্তুতি সেরে ফেলেছেন। তিনি কখনওই অতীতকে নিয়ে ভাবতে রাজি নন। আর খেলোয়াড়দের অনুপ্রেরণা দিয়ে ভালো খেলার একটা তাগিদ তৈরি করেছেন। সেখানে কোনও চাপ থাকবে না। শুধু খেলার প্রতি ভালোবাসাই কথা বলবে। বেশ কিছুদিন ধরেই সব খেলোয়াড়দের তিনি যেভাবে অনুশীলনের মধ্যে রেখেছেন, সেখান থেকে বলতে পারা যায়, প্রতিপক্ষ দলকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিতে পারবেন।

তবে কোচ মনে করেন, নতুনভাবে দল গঠন করা হয়েছে। কয়েকজন নতুন ফুটবলারকে সই করানো হয়েছে। সেখানে সমন্বয় বড় করে দেখা দেবে। আমাদের লক্ষ্য লিগের শীর্ষে পৌঁছনো। এখনই প্লে-অফ নিয়ে কোনও কথা ভাবছি না। প্রথম ম্যাচটা সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকে। তিনি আরও বলেন, আমি ভালো করেই জানি একটা চ্যাম্পিয়ন দলের দায়িত্ব নিয়েছি। সেই কারণেই চ্যাম্পিয়নের মতোই খেলতে হবে। তার জন্য যে কোনও প্রয়াসে প্রতিপক্ষ দলের সঙ্গে লড়াইয়ে নামতে হবে। আর সেই লড়াইয়ে বাজিমাত করাটাই হবে খেলোয়াড়দের কাছে বড় তাগিদ। হয়তো অনেক সময় ভালো বা খারাপ খেলা হতে পারে। তার জন্য হতাশ হওয়ার কোনও কারণ নেই। সবসময়ই যে কোনও খেলায় জোয়ার-ভাঁটা থাকবেই। সেখান থেকে ওভারকাম করতে হবে।

মোহনবাগান ক্লাবের নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড় পেত্রাতোস বলেছেন, এমন একটা বিশেষ দিনে আমাদের দল মাঠে নামছে, তা ইতিহাস করে রাখতে চাই। আমি বলব ফুটবলপ্রেমীরা তাঁদের পরিবারের সবাইকে নিয়ে মাঠে আসুন এবং আমাদের উৎসাহিত করুন। যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গণ সমর্থকদের উল্লাসে ভেঙে পড়বে, এই আশা করব। তাই জয় নিয়ে শনিবারের বিশেষ দিনটাকে উপভোগ করতে চাই। প্রত্যাশার মেলবন্ধনে এই খেলা আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে বলে বিশ্বাস।


এদিকে কেরল ব্লাস্টার্সের কোচ জানিয়েছেন, যে কোনও টুর্নামেন্টে প্রথম ম্যাচটা সবসময়ই ভাইটার হয়ে থাকে। শুধু তাই নয়, আমাদের প্রতিপক্ষ অবশ্যই চ্যাম্পিয়ন দল। চ্যাম্পিয়ন দলের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে খেলাটা ভীষণ কঠিন। দলে বেশ কিছু তরুণ ফুটবলার রয়েছেন। তাই মনে করি তরতাজা ফুটবলাররা যে কোনও চ্যালেঞ্জকে রুখে দিয়ে ভালো খেলায় অংশ নেবেন। মোহনবাগান ঘরের মাঠে খেলবে, হয়তো বাড়তি সুবিধা থাকবে তাদের। আবার মনে রাখতে হবে, প্রতিপক্ষ দলের কাছে সবসময়ই লড়াকু মনোভাব খেলা করে। সেই কারণেই কেরল ব্লাস্টার্সের ফুটবলাররা কখনওই পিছিয়ে থাকবেন না।