সম্মান রক্ষার জয় পেলো মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট

চ্যাম্পিয়নশিপের ক্ষীণ সলতেটুকু বাঁচিয়ে রাখতে মোহনবাগান এসজি-র সামনে শর্ত ছিল একটাই। প্রথম বাঁশি থেকে আগ্রাসন, প্রথম হাফেই গোলের বন্যা। সেই লক্ষ্যে আক্রমণে ত্রিফলা সাজালেন কোচ। দিমিত্রি পেত্রাতোস, জেসন কামিন্স ও জেমি ম্যাকলারেন— তিন বিদেশি তোপ একসঙ্গে মাঠে।

৪৫ মিনিট জুড়ে সবুজ-মেরুন ঝড় বয়ে গেল প্রতিপক্ষের রক্ষণে। বলের দখল, মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ, বক্সে মুহুর্মুহু আক্রমণ— সব ছিল। ছিল না শুধু গোল। স্কোরবোর্ড শূন্য। আধিপত্য থেকেও গোল না পাওয়ার যন্ত্রণা নিয়ে ড্রেসিংরুমে ফিরল মোহনবাগান। প্রাথমিক লক্ষ্য অধরাই রইল। এখন শুধু নিজেদের জয় নয়, তাকিয়ে থাকতে হবে ইস্টবেঙ্গলের ম্যাচের দিকেও। দ্বিতীয়ার্ধেও একই ছবি। মোহনবাগান দাপট দেখাল, সুযোগ তৈরি করল, কিন্তু জালে বল জড়াল না। উল্টোদিকে ফুটবলের চিরন্তন নিয়মে সুযোগের সদ্ব্যবহার করল এসসি দিল্লি। ৬২ মিনিটে পাল্টা আক্রমণে উঠে সিং ফার্নান্ডেজের বাঁ পায়ের শট। বল জালে। ১-০ গোলে এগিয়ে গেল দিল্লি। যুবভারতীর গ্যালারিতে তখন পিনপতন নীরবতা।

ওদিকে অন্য মাঠে তখন অন্য মহাকাব্য লেখা হচ্ছে। এক গোলে পিছিয়ে থাকা ইস্টবেঙ্গল ইউসুফের গোলে ফেরাল সমতা। গ্যালারির রক্তচাপ তখনও স্বাভাবিক হয়নি, মহম্মদ রশিদের বাঁকানো শট আছড়ে পড়ল জালে। ২-১ গোলে এগিয়ে গেল লাল-হলুদ। শতবর্ষী অগ্নিশপথ তখন বাস্তবের দোরগোড়ায়।


যুবভারতীতে মরিয়া মোহনবাগান শেষ পর্যন্ত মনভীর সিংয়ের হেডে পেল কাঙ্ক্ষিত গোল। স্কোরলাইন ১-১। সমতা ফিরল, কিন্তু সমীকরণ ফিরল না। চ্যাম্পিয়ন হতে গেলে দরকার একাধিক গোলের জয়। সেই সম্ভাবনা ততক্ষণে শেষ। সংযুক্ত সময়ের অন্তিম লগ্নে জেমি ম্যাকলারেনের পা থেকে এল সান্ত্বনার গোল। মোহনবাগান জিতল ২-১ গোলে। কিন্তু এই জয়ে উৎসব নেই। কারণ ততক্ষণে অন্য মাঠে শেষ বাঁশি বেজে গেছে।

ইস্টবেঙ্গলও জিতেছে ২-১ গোলে। পয়েন্ট সমান। তখনই সামনে এল ফুটবলের সবচেয়ে নির্মম অঙ্ক— গোলপার্থক্য। আর সেই অঙ্কেই বাজিমাত করল ইস্টবেঙ্গল। গোলপার্থক্যে এগিয়ে থেকে এই মরশুমের আইএসএল চ্যাম্পিয়ন ইস্টবেঙ্গল। ২২ বছরের দীর্ঘ খরা কাটল। জাতীয় লিগ, আইলিগ পেরিয়ে আইএসএল—সর্বভারতীয় লিগের শিরোপা ফিরল লাল-হলুদ তাঁবুতে। আধিপত্য, সুযোগ, শেষ মুহূর্তের গোল— সব থেকেও গোলপার্থক্যের কাঁটায় বিদ্ধ হলো মোহনবাগানের লিগ জয়ের স্বপ্ন।