সুহেলের হ্যাটট্রিক, রণজয়ের লাল কার্ড ব্যারেটোর জর্জকে হাফ ডজন গোল দিল মোহনবাগান

PIC-X

কলকাতা ফুটবল লিগে মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের অবস্থানটা খুবই খারাপ ছিল। পাশাপাশি, ডুরান্ড কাপ ফুটবলের ফাইনালে ইস্টবেঙ্গলের কাছে বড় ব্যবধানে হেরে গিয়ে দলের দুর্বলতা সবাইকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। সেই কারণেই বুধবার কলকাতা ফুটবল লিগে মোহনবাগান মুখোমুখি হয়েছিল তাদের দলের প্রাক্তন ফুটবলার ব্যারেটোর প্রশিক্ষণে জর্জ টেলিগ্রাফের বিরুদ্ধে। একটা সময় এই ব্যারেটোকেই বলা হত শীত, গ্রীষ্ম, বরষা, ব্যরোই দলের ভরসা। সেই ব্যারেটোর জর্জ টেলিগ্রাফের বিরুদ্ধে নামার আগে মোহনবাগান শিবিরে অনেক ভাবনা চিন্তা হয়েছে। কিন্তু সবুজ-মেরুন ব্রিগেড বুঝিয়ে দিল কোনও অঘটন ঘটার পরেও দলের আত্মবিশ্বাস হারিয়ে যায় না। তাই এদিন মোহনবাগান যে ফুটবল খেলল, তার জন্য প্রশংসা তোলা থাকবেই। মোহনবাগান ৬-০ গোলে জর্জ টেলিগ্রাফকে হারিয়ে দিল আর এই খেলায় হ্যাটট্রিক করে কাশ্মীরের ফুটবলার সুহেল ভাট শিরোনামে উঠে এলেন। অবশ্য এর আগে মোহনবাগানের হয়ে হ্যাটট্রিক করার কৃতিত্ব দেখিয়েছিলেন কিয়ান নাসিরি। এই জয়ের ফলে মোহনবাগান আট ম্যাচ খেলে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে পৌঁছে গেল। লিগ তালিকায় মোহনবাগানের উপরেই রয়েছে ইস্টবেঙ্গল। অবশ্য তারা একটা ম্যাচ কম খেলেছে। ইস্টবেঙ্গল সাত ম্যাচ খেলে ১৭ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে।
ঘরের মাঠে খেলার শুরু থেকেই মোহনবাগানের ফুটবলাররা দাপটের সঙ্গে খেলতে থাকেন। খেলার ১৩ মিনিটে কিয়ান নাসিরির সেন্টার থেকে দেখার মতো গোল করেন সুহেল ভাট। প্রাধান্য বিস্তার করে সবুজ-মেরুন ফুটবলাররা যেভাবে জর্জের শিবিরে আঘাত হানতে থাকেন, তাতেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল আরও গোল অপেক্ষা করছে। ২০ মিনিটের মাথায় মোহনবাগানের গোল এলেও তা অফসাইডের কারণে বাতিল হয়ে যায়। তিন মিনিট পরেই অ্যালেক্স সাজি গোল করে ব্যবধান বাড়ান। অ্যালেক্স এই প্রথম গোল পেলেন। দু’গোলে পিছিয়ে থেকেও জর্জের ফুটবলাররা কোনওভাবেই প্রতিপক্ষ দলের রক্ষণভাগে পৌঁছতে পারেননি। খেলার ২৭ মিনিটের মাথায় জর্জের অধিনায়ক রণজয় সামন্ত লাল কার্ড দেখে মাঠের বাইরে চলে যান। তারপরে ১০ জনে খেলতে হয় জর্জ টেলিগ্রাফকে। খেলার প্রথমার্ধে ২-০ গোলে এগিয়ে থাকে মোহনবাগান।
খেলার দ্বিতীয় পর্বে মোহনবাগান আরও আক্রমণাত্মক গতিতে খেলতে থাকে। দ্বিতীয় পর্বের শুরুতেই গোল করেন সন্দীপ মালিক। ৫০ মিনিটে মোহনবাগানের চতুর্থ গোলটি আসে। গোল করেন অভিষেক সূর্যবংশী। ৬১ মিনিটের মাথায় সুহেল ভাট আবার গোল করেন। এবারে বলটি বাড়িয়েছিলেন সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়। ৬৭ মিনিটের মাথায় সুহেল ভাট সবচেয়ে সহজতম সুযোগটা কাজে লাগাতে পারেননি। তবে ৭৩ মিনিটে সুহেল ভাট হ্যাটট্রিক করার কৃতিত্ব দেখান। একক কৃতিত্বে সুহেল দারুণ গোল করেন।
এদিন ভবানীপুর ক্লাব ৩-০ গোলে হারিয়ে দিল বিধাননগর মিউনিসিপ্যাল স্পোর্টস অ্যাকাডেমিকে। এই জয়ের ফলে ভবানীপুর গ্রুপ শীর্ষে পৌঁছে গেল। তারা ৯ ম্যাচে ২১ পয়েন্ট নিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে। অন্য একটি ম্যাচে পাঠচক্র ৩-১ গোলে বেহালা এসএস স্পোর্টিং ক্লাবকে পরাস্ত করে। কাস্টমস ও ইউনাইটেড কলকাতা স্পোর্টস ক্লাবের খেলাটি ২-২ গোলে শেষ হয়।