সভাপতি হিসেবে বিধায়ক হুমায়ুন কবীর মহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পরে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ক্লাব পরিচালনার জন্য অর্থের অভাব হবে না। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি তিনি রাখতে পারলেন না। ক্লাবের বিরাট অঙ্কের দেনা পরিশোধ করার জন্য যে আর্থিক সাহায্যের কথা বলেছিলেন, তা কিন্তু ফলশ্রুতি হল না। সাদা-কালো শিবির যে অন্ধকারে ছিল, সেই অন্ধকারেই থেকে গেল। হুমায়ুন কবীর ক্লাবে দেওয়ার জন্য তাঁর সই করা তিনটি চেকই বাউন্স করল। এই ঘটনায় একবার নয়, তিন-তিনবার ঘটেছে।যার ফলে ক্লাবের অভ্যন্তরে সমস্যা আরও বড় করে দেখা দিয়েছে। এমনকি কর্মকর্তাদের মধ্যে অসন্তোষ বেড়েই চলেছে। সভাপতি পদে আসীন হওয়ার পরে হুমায়ুন কবীর বলেছিলেন, ক্লাবের ১৩ কোটি টাকা মিটিয়ে দেওয়ার জন্য অবশ্যই এগিয়ে আসবেন। বিশেষ সূত্রে জানা গেছে, মোট দেড় কোটি টাকার চেক তিনি ইতিমধ্যে দিয়েছিলেন। তিনবার সেই প্রতিশ্রুতির কোনও ফল না হওয়ায় সেই সময় বলেছিলেন, চতুর্থবারে আর্থিক সাহায্য মিলবে।
মহামেডান কর্তারা এই ইস্যুতে এখনও সরকারিভাবে মুখ না খুললেও হুমায়ুন কবীরের পরিবর্তে নতুন কোনও ব্যক্তিকে সভাপতি করা হবে কিনা, তা নিয়েও ভাবনা চিন্তা শুরু করে দিয়েছেন। তবে সভাপতি হুমায়ুন কবীর স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই ঘটনার জন্য কোনও ভুল দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না। আমি ক্লাবের স্বার্থে চেক দিয়েছি। যদি বৃহস্পতিবারই শেষ দিন হয়, সেক্ষেত্রে তিন-চারদিন পরেও তা ক্লিয়ার করা যায়। আমি যা কথা দিই, তাই হয়। কেউ আমার সম্মতি না নিয়ে কেন আগেভাগে চেক জমা দিয়েছেন? আবারও বলছি, দুই থেকে চার দিনের মধ্যে এই সমস্যা মিটে যাবে। আমি কারওর সঙ্গে দুর্নীতি করা পছন্দ করি না। যদিও ক্লাবের সহসভাপতি ওয়াসিম আক্রম বলেছেন, ১৫ জুনের মধ্যে নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ জমা দেওয়ার কথা ছিল। ৩০ জুলাই হয়ে যাওয়ার পরেও তা জমা পড়েনি। সেই কারণেই ক্লাবের সমস্যা বড় করে দেখা দিয়েছে। এখনও ফুটবলারদের বেতন বাকি রয়েছে। সামনে বিদেশি ফুটবলার সই করাতে হবে, এটাও ভাবতে হচ্ছে।
এদিকে কলকাতা ফুটবল লিগে মহামেডান স্পোর্টিং দল আবার জয়ের পথে ফিরল। বৃহস্পতিবার মহামেডান স্পোর্টিং ২-০ গোলে হারিয়ে দিল আলিপুর সুরুচি সংঘকে। মহামেডান স্পোর্টিং প্রথম পর্বে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেললেও গোলের মুখ খুলতে পারেনি। দ্বিতীয় পর্বে সুরুচির রক্ষণভাগে বারবার আক্রমণ শানিয়ে সাদা-কালো শিবির গোল করার মতো সুযোগ তৈরি করে ফেলে। খেলার ৬৩ মিনিটের মাথায় লালরেমসাঙ্গা গোল করে মহামেডান স্পোর্টিংকে এগিয়ে দেন। তারপর থেকে আধিপত্য বিস্তার করে কোচ ওয়াডুর মহামেডান স্পোর্টিং খেলতে থাকে। খেলার ৮৬ মিনিটের মাথায় মহম্মদ ফারদিন গোল করে মহামেডান স্পোর্টিংয়ের জয়কে নিশ্চিত করেন।