এবার কলকাতা ফুটবল লিগে মহামেডান স্পোর্টিং প্রথমবার হারের মুখে পড়ল। শুক্রবার মহামেডান স্পোর্টিং মুখোমুখি হয়েছিল কোল ইন্ডিয়া স্পোর্টস প্রোমোশন অ্যাসোসিয়েশনের বিরুদ্ধে। মহামেডান যেভাবে নিজের খেলাগুলো খেলে চলেছিল, তাতে আশা করা গিয়েছিল এদিন কোল ইন্ডিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচ ছিনিয়ে নেবে। কিন্তু মহামেডানের ফুটবলারদের একেবারে নিষ্প্রভ দেখা গেল। আক্রমণে সেইভাবে কোনও তেজ ছিল না। বরঞ্চ প্রতিপক্ষ কোল ইন্ডিয়ার ফুটবলাররা অনেক বেশি আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে সাদা-কালো শিবিরের রক্ষণভাগে চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন। তবে তার মধ্যেও মহামেডান স্পোর্টিং প্রথমে একটা গোল করার সুযোগ তৈরি করে ফেলেছিল। কিন্তু কোল ইন্ডিয়ার গোলরক্ষক সঞ্জয়কুমার ভট্টাচার্য সতর্ক থাকায় সেই সুযোগ তাদের হাতছাড়া হয়ে যায়। প্রথমার্ধের সংযুক্ত সময়ে কোল ইন্ডিয়ার আজহারউদ্দিন মল্লিক একক কৃতিত্বে দারুণ গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। দ্বিতীয় পর্বে খেলার শুরুতে মহামেডান স্পোর্টিংয়ের ফুটবলাররা কিছুটা আক্রমণাত্মক ফুটবল খেললেও গোল করার মতো সুযোগ তৈরি করতে পারেননি। এগিয়ে থাকা কোল ইন্ডিয়ার ফুটবলাররা কোনও সময়ের জন্য আক্রমণ থেকে পিছিয়ে ছিলেন না। খেলার ৮৮ মিনিটের মাথায় পরিবর্ত ফুটবলার জাসকরণপ্রীত সিং গোল করে কোল ইন্ডিয়াকে ২-০ গোলে এগিয়ে দেন। তারপরেই কোল ইন্ডিয়ার ফুটবলাররা সময় নষ্ট করার খেলায় মেতেছিলেন।
এদিকে অপরাজিত ভাবে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে কলকাতা লিগে গ্রুপ শীর্ষে থেকে কোল ইন্ডিয়ার কাছে প্রথম হার স্বীকার করল মহামেডান স্পোর্টিং। বৃহস্পতিবার রাতেই কোচ মেহরাজউদ্দিন ওয়াড়ু সাদা-কালো শিবিরের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করছেন বলে পদত্যাগপত্র মেলে পাঠিয়ে দেন সচিব ওয়াসিং আক্রম ও সভাপতি গজল জাফরের কাছে। স্বাভাবিকভাবেই শুক্রবার কোল ইন্ডিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচে মহামেডানের কোচের চেহারে তাঁকে দেখা যায়নি। তবে আইএফএ থেকে যে খেলোয়াড়দের লিস্ট দেওয়া হয়েছে, তাতে কোচের নাম ছিল মেহরাজউদ্দিন ওয়াড়ুর। কীভাবে কোচের নামটা এই লিস্টে তালিকাভুক্ত হল, তার উত্তর কোনও কর্মকর্তা দিতে পারেননি। কোচের চেয়ারে ছিলেন সহকারী শাহিদ রামন। সাধারণত খেলার মরসুমে মাঝপথে কোচের বিরুদ্ধে ব্যর্থতার কারণ দেখিয়ে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু এক্ষেত্রে একেবারে উল্টো। মহামেডান ইতিমধ্যে সুপার সিক্সে খেলার পথ পাকা করে নিয়েছে। তাই আগামী দিনে সহকারী কোচই দায়িত্ব পালন করবেন মহামেডান স্পোর্টিংয়ের।
এদিকে কালীঘাট স্পোর্টস লাভার্স অ্যাসোসিয়েশন ও মেসারার্স ক্লাবের খেলাটি ১-১ গোলে শেষ হয়। কালীঘাট স্পোর্টস লাভার্সের হয়ে গোল করেন অভিষেক সজন। খেলায় সমতা ফিরিয়ে আনেন মেসারার্সের রাকেশ গোলদার গোল করে। অন্য খেলায় এরিয়ান ২-১ গোলে জয় পেল ইউনাইটেড স্পোর্টস ক্লাবের বিরুদ্ধে। এরিয়ানের হয়ে গোল করেছেন রাজেশ দাস ও পবিত্র নন্দী। ইউনাইটেড স্পোর্টসের হয়ে গোলটি করেন দ্বিতীয় পর্বের সংযুক্তি সময়ে আমন।