অবশেষে ইতিহাস গড়ল মিশর। অধিনায়ক মোহাম্মদ সালাহর অনবদ্য পারফরম্যান্সে নিউজিল্যান্ডকে ৩-১-এ হারিয়ে ফিফা বিশ্বকাপের ইতিহাসে নিজেদের প্রথম জয় তুলে নিল আফ্রিকার অন্যতম সফল এই দল। ভ্যাঙ্কুভারের বিসি প্লেস স্টেডিয়ামে এই জয়ের ফলে গ্রুপ ‘জি’-এর শীর্ষেও উঠে আসে মিশর।
ম্যাচের শুরুটা অবশ্য মিশরের জন্য খুব একটা ভাল হয়নি। প্রথমার্ধে ফিন সুরম্যানের হেডে এগিয়ে যায় নিউজিল্যান্ড। পিছিয়ে থেকেই বিরতিতে যেতে হয় সালাহদের। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে বদলে যায় ম্যাচের পুরো ছবিটা।
ম্যচের ৫৮ মিনিটের মাথায় মোহাম্মদ হানির ক্রস থেকে হেডে সমতা ফেরান মোস্তাফা জিকো। এর পর মিশরের আক্রমণ আরও তীব্র হয়ে ওঠে। ৬৭ মিনিটে জিকোর সঙ্গে দারুণ ওয়ান-টু পাস খেলে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন সালাহ। এটি ছিল এবারের বিশ্বকাপে তার প্রথম গোল।
ম্যাচের ৮২ মিনিটে সালাহর নিখুঁত কর্নারকে কাজে লাগিয়ে হেডে তৃতীয় গোল করেন মাহমুদ ত্রেজেগে। গোলের পাশাপাশি একটি অ্যাসিস্ট করে ম্যাচের নায়ক হয়ে ওঠেন মিশরের অধিনায়ক। একই সঙ্গে জিকোও একটি গোল ও একটি অ্যাসিস্ট করেন।
এই জয় মিশরকে শুধু তিন পয়েন্টই এনে দেয়নি, মিশরের ফুটবল ইতিহাসেও নতুন অধ্যায় রচনা করল। ১৯৩৪, ১৯৯০ ও ২০১৮ বিশ্বকাপ মিলিয়ে আগের সাত ম্যাচে পাঁচটি হার ও দুটি ড্রয়ের রেকর্ড ছিল তাদের। অবশেষে অষ্টম ম্যাচে এসে বিশ্বকাপের প্রথম জয় পেল ‘ফারাও’রা।
ম্যাচ শেষে কোচ হোসাম হাসান জানান, বিরতিতে তিনি খেলোয়াড়দের কড়া বার্তা দিয়েছিলেন। সেই বার্তাই দলকে ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করে। তিনি মনে করেন, এই প্রজন্মের ফুটবলারদের নিজেদের ইতিহাস নিজেদেরই লিখতে হবে।
এ দিন একই গ্রুপে বেলজিয়াম ও ইরান গোলশূন্য ড্র করায় মিশর চার পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের শীর্ষে উঠে এসেছে। শেষ ম্যাচে ইরানের বিরুদ্ধে ভালো ফল করতে পারলে নকআউট পর্বের দিকে অনেকটাই এগিয়ে যাবে সালাহর দল। অন্যদিকে, এক পয়েন্ট নিয়ে তলানিতে থাকা নিউজিল্যান্ডকে নক আউট পর্বে যেতে হলে শেষ ম্যাচে বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে ঘুরে দাঁড়াতেই হবে।