পরণে হলুদ জার্সি, গায়ে জড়ানো তেরঙ্গা, দুই প্রধানের জার্সি গায়েও হাজির অনেকে—বর্ণময় যুবভারতী গ্যালারির হাল-হকিকত

Salt Lake Stadium Photo-SNS

নানা রঙ, নানা বর্ণ, নানা জাতি এবং নানা মানসিকতার মানুষ যখন এক জায়গায় কোথায় মিলিত হয়? উত্তরটা সহজ, খেলার মাঠের গ্যালারিতে। শনিবার যেমন দেখা গেল যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে। দেশ, বিদেশ থেকে আসা এক ঝাঁক মানুষ এসে হাজির যুবভারতীর গ্যালারিতে। কেউ ভারতের জার্সি গায়ে, কেউ ব্রাজিলের জার্সি। কারও গলায় জড়ানো ব্রাজিলের পতাকা। কারো গায়ে জড়ানো তেরঙ্গা। এমনকী ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগানের জার্সি গায়েও দেখা গেলে অনেককে।

শনিবারের যুবভারতী এক জায়গায় টেনে আনল কার্যত সারা বিশ্বকে। উপলক্ষ একটাই ভারত বনাম ব্রাজিল ম্যাচ।

কেমন সেই বিশ্ব? একদল তরুণকে দেখা গেল গ্যালারিতে ঢুকতে, যারা এসেছে ইউরোপ থেকে। একজন এসেছে কাজাখস্তান থেকে, অন্য একজন এসেছে স্পেন থেকে। এরা সবাই এসেছে ব্রাজিলের টানে। স্টেডিয়ামে ঢুকতে ঢুকতে সবাই মিলে চেঁচাতে শুরু করল—উই লাভ ব্রাজিল, ব্রাজিল উইল উইন।


দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকেও ব্রাজিলের তারকাদের ঝলক দেখতে এসেছেন অনেকে। কেউ কেরালা থেকে, কেউ বা বেঙ্গালুরু, কারো নিবাস পাঞ্জাব। সব মিলিয়ে মিনি ইন্ডিয়া।

একদল বাঙালি তরুণ-তরুণীকে দেখা গেল ব্রাজিলের জার্সি গায়ে, অথচ ভারতের পতাকা জড়িয়ে। কী চাইছেন, কে জিতুক? প্রশ্নটা করতে উল্টোডাঙার বাসিন্দা সেই তরুণ বলেন, ‘মনে প্রাণে চাই ভারতই জিতুক। কিন্তু ব্রাজিলও তো ফেভারিট। ব্রাজিলের এই ফুটবলারদের আর কখনও দেখতে পাব কি না জানি না। ওদের জন্য যখন একবার গ্যালারিতে বসে গলা ফাটানোর সুযোগ পেয়েছি, তখন সেই সুযোগ ছাড়ব কেন’?

ব্রাজিলের জার্সি গায়ে খেলা দেখতে আসা এক খুদে দর্শককে যখন জিজ্ঞাসা করা হল, কোন দল আজ জিতলে খুশি হবে? তখন সে পড়ে যায় মহাধন্দে। কী উত্তর দেবে ভেবে পেল না সে। শেষ পর্যন্ত ব্রাজিলের পক্ষেই রায় দেয় সে। ব্রাজিলের জার্সি গায়েও এক তরুণীকে যখন বলতে শোনা গেল, ‘ভারতের পক্ষে এই ম্যাচ জেতা অসম্ভব কেন? জিততেও তো পারি আমরা’, তখন মনে হয় আশাবাদই এদের সম্বল এবং এই বুকভরা আশা নিয়েই ভারত-ব্রাজিলের ম্যাচ দেখতে এসেছে এরা।

কিন্তু এ কী, বেশির ভাগ ব্রাজিল সমর্থকদের জার্সির পিছনে এ কী লেখা? নেইমার জুনিয়র! কিন্তু তিনি তো এই ম্যাচে খেলছেন না। তিনি তো আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকেই বিদায় নিয়েছেন। কিন্তু সবার মনে এবং জার্সিতেও লেখা সেই নেইমারেরই নাম।

এক ভদ্রলোকের গায়ে ইস্টবেঙ্গলের জার্সি দেখে কিছুটা অবাক হতেই হল। কেন এই লাল-হলুদ পোশাক। কট্টর ইস্টবেঙ্গল সমর্থক বললেন, ‘দুনিয়া এদিক থেকে ওদিক হয়ে যাক, আমাদের কাছে ইস্টবেঙ্গলই আল্টিমেট’। মোহনবাগানের জার্সি গায়ে যিনি খেলা দেখতে আসেন, তাঁর মুখেও শোনা গেল একইরকম কথা। ‘ব্রাজিলকে তো একবার দেখব, তাই বলে মোহনবাগানকে ছাড়তে পারব না। আমার কাছে ফুটবল মানেই মোহনবাগান আর ফুটবল দেখতে আসা মানেই মোহনবাগানের জার্সি গায়ে আসা’।

ফুটবলপ্রেম এমনই। এখানে সব আবেগই মিলেমিশে একাকার। সে ব্রাজিল হোক বা ভারত অথবা ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগান—সব আবেগই যেন সমান।