বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনাল শুরু হতে এখনও বাকি বারো ঘণ্টারও বেশি। কিন্তু মাঠে বল গড়ানোর আগেই শুরু হয়ে গিয়েছে স্নায়ুযুদ্ধ। স্পেনের তরুণ তারকা লামিন ইয়ামালের মন্তব্যের জবাব দিয়ে স্পষ্ট বার্তা দিল ফ্রান্স শিবির— প্রতিপক্ষের মনস্তাত্ত্বিক খেলায় পা দেবে না তারা। ভারতীয় সময়ে বুধবার রাত ১২.৩০-এ বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে ইউরোপীয় ফুটবলের দুই মহাশক্তি স্পেন ও ফ্রান্স। সাম্প্রতিক সময়ে এই দুই দলের দ্বৈরথে বেশির ভাগ সময়ই হাসি ফুটেছে স্পেনের মুখে। ইউরো ২০২৪-এর সেমিফাইনাল এবং নেশনস লিগেও ফরাসিদের হারিয়েছিল স্পেন। সেই স্মৃতি এখনও টাটকা।
স্পেনের ফরোয়ার্ড লামিন ইয়ামাল সেমিফাইনালের আগে বলেন, ‘গত দু’বারের মুখোমুখি লড়াইয়ে আমরা ফ্রান্সকে হারিয়েছি। এই ম্যাচে যদি কেউ কাউকে ভয় পাওয়ার থাকে, তা হলে ফ্রান্সেরই আমাদের ভয় পাওয়া উচিত। কী হয়, সেটা মাঠেই দেখা যাবে। তবে আমরা কোনো ভাবেই ওদের ভয় পাই না।’ এই মন্তব্য ঘিরেই শুরু হয়েছে জল্পনা।
মাঠের অন্য প্রান্তে ইয়ামালের আক্রমণভাগের সঙ্গী নিকো উইলিয়ামসও এক স্প্যানিশ পত্রিকাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সতীর্থের বক্তব্যকেই সমর্থন করেছেন। তিনি বলেন, ‘ওদের ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই, একেবারেই না। আমরা ইতিমধ্যেই দু’বার এই দলটাকে হারিয়ে সেটা প্রমাণ করেছি। এটা অহংকার নয়, বরং নিজেদের উপর আত্মবিশ্বাস এবং সামান্য আত্মঅহমিকা।’
অন্যদিকে, স্পেনের ডিফেন্ডার পাও কুবারসিকে ফ্রান্স অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপের মুখোমুখি হওয়া নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। চলতি বিশ্বকাপে আট গোল করে এমবাপে বর্তমানে সর্বোচ্চ গোলদাতাদের অন্যতম। জবাবে কুবারসি বলেন, ‘ওকে আমি ভয় পাই নাকি?’ এরপর তিনি যোগ করেন, ‘ওর গুণ সম্পর্কে সবাই জানে। ম্যাচে খুব বেশি প্রভাব না থাকলেও, একটা মুহূর্তেই খেলার মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। কিলিয়ান একেবারেই অনন্য, ঠিক লামিনের মতো। তাই পুরো ৯০ মিনিটই মনোযোগ বজায় রাখতে হবে আমাদের।’
ফরাসি ডিফেন্ডার ইব্রাহিমা কোনাতে অবশ্য পাল্টা বার্তায় কোনো উত্তেজনা প্রকাশ করেননি। তিনি বলেন, ‘আমরা ওই ফাঁদে পা দিচ্ছি না। স্পেন যা বলছে, সেটা তাদের ব্যাপার। আমাদের লক্ষ্য শুধু ম্যাচটা জেতা।’এর পরেই স্পেনের শক্তির প্রশংসা করে কোনাতে বলেন, ‘স্পেন নিঃসন্দেহে অসাধারণ দল। ওদের দলে অনেক প্রতিভাবান ফুটবলার রয়েছে। তবে আমরা কাউকে ভয় পাই না। নিজেদের শক্তি সম্পর্কে আমরা আত্মবিশ্বাসী।’
স্পেনের অন্যতম বড় শক্তি তাদের রক্ষণ। গোটা টুর্নামেন্টে এখনও পর্যন্ত মাত্র একটি গোল হজম করেছে লা রোখা। তবে সেটাও ফরাসিদের বিচলিত করছে না।
কোনাতের কথায়, ‘ওদের রক্ষণ খুবই শক্তিশালী। কিন্তু আমাদের আক্রমণভাগও দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে। ম্যাচে সুযোগ তৈরি হলে তা কাজে লাগাতেই হবে।’অন্য দিকে, ফরাসি শিবিরের মূল ভাবনা স্পেনের বল দখল করে খেলার কৌশল ভাঙা। কোচ দিদিয়ের দেশঁও জানিয়ে দিয়েছেন, শুধু রক্ষণাত্মক ফুটবল খেললে হবে না। মাঝমাঠে লড়াই জিতে স্পেনকে তাদের স্বাভাবিক ছন্দে খেলতে না দেওয়াই হবে মূল লক্ষ্য।
সব মিলিয়ে বিশ্বকাপের এই সেমিফাইনালকে ইতিমধ্যেই অনেকেই ‘ফাইনালের আগে ফাইনাল’ বলে মনে করছেন। মাঠের লড়াই শুরু হওয়ার আগেই দুই শিবিরের কথার লড়াই যে ম্যাচের উত্তাপ আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল, তা বলাই যায়।