মিলার-বাভুমার জোড়া শতরানে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে সিরিজ দক্ষিণ আফ্রিকার

Photo: X

একই ম্যাচে জোড়া শতরান। তার পরেও থামল না রানবন্যা। ওয়ান্ডারার্সে অস্ট্রেলিয়াকে ৩২ রানে হারিয়ে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ জিতে নিল দক্ষিণ আফ্রিকা। প্রোটিয়াদের জয়ের নায়ক অধিনায়ক তেম্বা বাভুমা এবং ডেভিড মিলার। দু’জনেই শতরান করলেন।

টস জিতে দক্ষিণ আফ্রিকাকে প্রথমে ব্যাট করতে পাঠিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ৩৬৫ রান তোলে প্রোটিয়ারা। বাভুমা ১১৬ বলে ১০৩ রান করেন। তাঁর ইনিংসে ছিল ছ’টি চার। তবে আসল ঝড় ওঠে শেষ দিকে। ৯৩ বলে ১৪২ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন মিলার। মেরেছেন ১২টি চার এবং ন’টি ছক্কা। ওয়ানডেতে এটাই তাঁর কেরিয়ারের সর্বোচ্চ রান। একই সঙ্গে এটি তাঁর অষ্টম ওয়ানডে শতরান।

জবাবে শুরুটা দুর্দান্ত করেছিল অস্ট্রেলিয়া। মিচেল মার্শ এবং ট্রাভিস হেডের ওপেনিং জুটিতে মাত্র ১৭ ওভারেই ওঠে ১৩০ রান। মার্শ করেন ৫৩ বলে ৮৪, হেডের ব্যাট থেকে আসে ৭৬ বলে ৮৪। মনে হচ্ছিল, বড় রান তাড়া করতে সমস্যা হবে না অস্ট্রেলিয়ার। কিন্তু মাঝের ওভারে ছবিটা বদলে যায়।


দক্ষিণ আফ্রিকার স্পিনাররা একের পর এক চাপ তৈরি করতে শুরু করেন। কেশব মহারাজ ১০ ওভারে ৫৪ রানে ২ উইকেট নেন। বিয়র্ন ফর্টুইনও ২ উইকেট পান। অস্ট্রেলিয়ার মিডল অর্ডার সেই চাপ সামলাতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত ৪৯.৫ ওভারে ৩৩৩ রানে অলআউট হয়ে যায় তারা।

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে জ্যাক এডওয়ার্ডস ১০ ওভারে ৬৭ রান দিয়ে পাঁচ উইকেট নেন। শেষ দিকে জেভিয়ার বার্টলেট ২৮ বলে ৫০ রান করে অস্ট্রেলিয়াকে লড়াইয়ে রেখেছিলেন। কিন্তু জয়ের জন্য তা যথেষ্ট হয়নি।

ম্যাচের পরে বাভুমা বললেন, ‘এটা আবারও দুর্দান্ত অলরাউন্ড দলগত পারফরম্যান্স ছিল। শুরুটা হয়েছিল ব্যাট হাতে। শুরুতে পরিস্থিতি একটু কঠিন ছিল। কিন্তু আমরা সেই সময়টা সামলে ভাল একটা স্কোর গড়ে তুলতে পেরেছিলাম। ডেভিড অসাধারণ ইনিংস খেলেছে, তার পর বোলাররাও নিজেদের কাজটা করেছে।’

অন্য দিকে সিরিজ হেরে হতাশ অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক মিচেল মার্শ। তাঁর কথায়, ‘এটা সত্যিই হতাশাজনক। আমরা ১-১ করে সিরিজকে শেষ ম্যাচ পর্যন্ত নিয়ে যেতে চেয়েছিলাম। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকাকে কৃতিত্ব দিতেই হবে। ওরা আবারও আমাদের থেকে ভাল খেলেছে।’

মার্শ অবশ্য শেষ ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়েছেন। ‘আমরা শুধু উন্নতি করে যেতে চাই। অবশ্যই সিরিজ ৩-০ হারতে চাই না। শেষ ম্যাচে পচেফস্ট্রুমে জেতার লক্ষ্য নিয়েই যাব এবং ভাল ক্রিকেট খেলতে চাই।’

এই সিরিজকে ২০২৭ সালের এক দিনের বিশ্বকাপের প্রস্তুতির অংশ হিসাবেও দেখছে অস্ট্রেলিয়া। আগামী বছর দক্ষিণ আফ্রিকা, নামিবিয়া ও জ়িম্বাবোয়ের মাটিতে হবে বিশ্বকাপ। সেই কারণে দক্ষিণ আফ্রিকার পরিবেশ ও পরিস্থিতি সম্পর্কে আগেভাগেই ধারণা পাওয়াটা অস্ট্রেলিয়ার কাছে গুরুত্বপূর্ণ।

মার্শ বললেন, ‘আমাদের কয়েক জন তরুণ ক্রিকেটার খুব ভাল খেলেছে। ওদের ক্ষমতার কিছু ঝলক দেখা যাচ্ছে, যা ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী করে। তবে শেষ পর্যন্ত এই সিরিজে আমরা ওদের কাছে হার মেনেছি, সেটা আমরা বুঝতে পারছি।’

মিলার-বাভুমার জোড়া শতরানে অস্ট্রেলিয়াকে আবারও বুঝিয়ে দিল প্রোটিয়ারা—বিশ্বকাপের মাটিতে লড়াইটা মোটেই সহজ হবে না।