বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে ঘরের মাঠ আজটেকা স্টেডিয়ামে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২-০ গোলে হারিয়ে দুর্দান্ত সূচনা করে আয়োজক মেক্সিকো। তবে ম্যাচটি শুধু গোলের জন্য নয়, বরং তিনটি লাল কার্ডের জন্যও ইতিহাসে জায়গা করে নেবে। এই মাঠেই পেলে ও মারাদোনা বিশ্বকাপ জিতেছিলেন। কিন্তু শুক্রবার সেই ঐতিহাসিক আজটেকা স্টেডিয়ামই উত্তেজনার আগুনে ঝলসাল।
অবশ্য তাতে ক্ষতি হয়নি আয়োজকদের। বরং কিছুটা সুবিধাই হয়।ভারতীয় সময় অনুযায়ী গতকাল মাঝরাতে মেক্সিকোর জয়ের নায়ক জুলিয়ান কিনোনেস ও রাউল হিমেনেজ। ম্যাচের নবম মিনিটেই দক্ষিণ আফ্রিকার রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ নিয়ে বিশ্বকাপের প্রথম গোলটি করেন কিনোনেস। শুরুতেই গোল খেয়ে চাপে পড়ে যায় আফ্রিকার প্রতিনিধিরা।
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের মোড় ঘুরতে শুরু করে। ৫০তম মিনিটের পর দক্ষিণ আফ্রিকার স্পেফেহলো সিথোলে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে ১০ জনে নেমে আসে তারা। সংখ্যাগত সুবিধা কাজে লাগিয়ে ৬৭তম মিনিটে হেডে মেক্সিকোর ব্যবধান দ্বিগুণ করেন অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার রাউল হিমেনেজ। বিশ্বকাপ কেরিয়ারে এটিই তাঁর প্রথম গোল।
এর পর ম্যাচে উত্তেজনা চরমে ওঠে। ৮৪তম মিনিটে থেম্বা জোয়ানে প্রতিপক্ষ ফুটবলারের মুখে আঘাত করেন। এই ঘটনায় ভিএআর নেন রেফারি এবং লাল কার্ড দেখেন থেম্বা। এ বার দক্ষিণ আফ্রিকাকে ন’জনে খেলা ছাড়া কোনও উপায় ছিল না। ম্যাচের সংযুক্ত সময়ে মেক্সিকোর সিজার মন্তেসও লাল কার্ড দেখেন। ফলে খেলার শেষ মুহূর্তে পরিস্থিতি দাঁড়ায় ১০ বনাম ৯।
বিশ্বকাপের ৯৬ বছরের ইতিহাসে উদ্বোধনী ম্যাচে তিনটি লাল কার্ডের ঘটনা বেনজির। ২০২২ বিশ্বকাপের পুরো আসরে যেখানে মাত্র চারটি লাল কার্ড দেখা গিয়েছিল, সেখানে এবারের প্রথম ম্যাচেই দেখা গেল তিনটি লাল কার্ড।
প্রায় ৮০ হাজারেরও বেশি দর্শকের উপস্থিতিতে আজটেকা স্টেডিয়ামে উৎসবের আবহে শুরু হয়েছিল বিশ্বকাপ। সেই আবহকে আরও উজ্জ্বল করে তোলে মেক্সিকোর জোরালো পারফরম্যান্স। এই জয়ে গ্রুপ ‘এ’-তে তিন পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে উঠে এল আয়োজকেরা। পরের ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ দক্ষিণ কোরিয়া, যারা এ দিন চেকদের হারিয়ে সারা বিশ্বকে চমকে দিয়েছে।