‘মেসিকে লাল কার্ড দেখানো উচিত ছিল’, ফিফার কাছে অভিযোগ আলজেরিয়ার

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

বিশ্বকাপে এবার নতুন বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি। গ্রুপ ‘জে’-র ম্যাচে আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে মেসির একটি বিতর্কিত ট্যাকলের জন্য তাঁকে লাল কার্ড না দেখানোয় ফিফার কাছে অভিযোগ জানিয়েছে আলজেরিয়ান ফুটবল ফেডারেশন (এএফএফ)।

আলজেরিয়ার দাবি, ম্যাচের প্রথমার্ধে অধিনায়ক আইসা মান্দির পায়ের কাফে স্টাড লাগিয়ে দেন মেসি। ঘটনাটি স্পষ্ট ফাউল হলেও রেফারি সিজমন মারচিনিয়াক খেলা চালিয়ে যেতে বলেন। শুধু তাই নয়, ভিএআরও বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে কোনো শাস্তির সুপারিশ করেনি। আলজেরিয়ার মতে, ওই চ্যালেঞ্জের জন্য মেসির সরাসরি লাল কার্ড দেখা উচিত ছিল।

ফিফার রেফারিং কমিশনের কাছে পাঠানো অভিযোগপত্রে আলজেরিয়া আরও একটি ঘটনার উল্লেখ করেছে। তাদের অভিযোগ, আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার দ্বিতীয়ার্ধে ইব্রাহিম মাজাকে কনুই দিয়ে আঘাত করলেও কোনো শাস্তি পাননি।


আলজেরিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের এক সূত্র বলেছেন, “আমরা রেফারিংয়ে অবিচারের শিকার হয়েছি। দুটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনায় রেফারি এবং ভিএআর দু’জনেই ব্যর্থ হয়েছে।”

বিতর্ক আরও বেড়েছে কারণ ওই ম্যাচেই মেসি হ্যাটট্রিক করে আর্জেন্টিনাকে ৩-০ ব্যবধানে জয় এনে দেন। বিশ্বকাপে নিজের প্রথম হ্যাটট্রিকের পাশাপাশি তিনি মিরোস্লাভ ক্লোজের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডও স্পর্শ করেন। ফলে অনেকের প্রশ্ন, যদি ওই ট্যাকলের জন্য তাঁকে বহিষ্কার করা হতো, তাহলে ম্যাচের ফল হয়তো অন্যরকম হতে পারত।

বিষয়টি নিয়ে ফুটবল মহলে নানা মত রয়েছে। প্রাক্তন রেফারি মার্ক হ্যালসি মনে করেন, মেসির চ্যালেঞ্জটি ‘ভায়োলেন্ট কন্ডাক্ট’ হিসেবে বিবেচিত হতে পারত। তাঁর মতে, স্টাড দিয়ে প্রতিপক্ষের পায়ে আঘাত করা খেলোয়াড়ের নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ছিল।

অন্যদিকে অন্যান্য বিশেষজ্ঞের মতে, ঘটনাটি ছিল অসাবধানতাবশত এবং সর্বোচ্চ হলুদ কার্ডের যোগ্য। সামাজিক মাধ্যম ও ফুটবল মহলের একটি বড় অংশের যুক্তি, ট্যাকলটি দেখতে ভয়াবহ লাগলেও সেখানে অতিরিক্ত শক্তি বা ইচ্ছাকৃত আঘাতের প্রমাণ স্পষ্ট নয়।

এই বিতর্কে পরোক্ষভাবে যোগ দিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ হুগো ব্রুস। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, তাঁর দলের খেলোয়াড় থেম্বা জোয়ানে তুলনামূলক কম গুরুতর অপরাধে তিন ম্যাচ সাসপেন্ড হতে পারেন, অথচ মেসির ঘটনায় কোনো কার্ডই দেখানো হলো না কেন?

ঘটনাটি বিশ্বকাপে রেফারিংয়ের ধারাবাহিকতা এবং ভিএআর ব্যবহারের নিরপেক্ষতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে। বিশেষ করে বিশ্বের অন্যতম বড় তারকা মেসিকে ঘিরে অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি আরও বেশি আলোচিত হচ্ছে।

এখন দেখার, ফিফা আলজেরিয়ার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কোনো পদক্ষেপ নেয় কি না।